কাগজের চিঠি, কালি-লেখা নোট আর স্মৃতির ভাঁজ খুলে বিভূতিভূষণ যেন নতুন করে ফিরছেন—এ বার ডিজিটাল দুনিয়ায়।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 13 December 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির কুতুব মিনার ঘুরে এসে ভাই নুটবিহারীকে লেখা পোস্টকার্ড। সাল ১৯৪৫। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে ধরা পড়েছিল ভ্রমণের ক্লান্তি, “এই মাত্র তোমার বৌদিদি ও আমি কুতব মিনার দেখে ফিরলুম। এখনও হাঁপাচ্ছি..!.”
পোস্টকার্ডের উল্টো পিঠে আবার অন্য এক চিঠি, ভ্রাতৃবধুকে লিখছেন বিভূতিভূষণের স্ত্রী কল্যাণী দেবী। এমনই অসংখ্য দুষ্প্রাপ্য চিঠি, পাণ্ডুলিপি, লেখার খসড়া আর নানা ধরনের নোটে ভরা ডায়েরির পাতা এ বার ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণের পথে হাঁটছে সাহিত্যিকের পরিবার (Literary Bibhutibhushan Banerjee's digital archive initiative family)।
বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক উত্তরাধিকারকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানালেন তাঁর নাতি তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই শহরে এক প্রদর্শনীতে সেই সব চিঠি ও লেখার খসড়া তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিভূতিভূষণের সাহিত্যকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রীও তৈরি করেছেন তৃণাঙ্কুর—লাগেজ ট্যাগ, বুকমার্ক, টি-শার্ট ইত্যাদি। তাঁর কথায়, “এগুলির এত চাহিদা হবে ভাবিনি। এখন তো তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ সাহিত্যবিমুখ। আমার এই লাগেজ ট্যাগ বা টি-শার্ট দেখে কেউ যদি একবার ‘চাঁদের পাহাড়’ পড়ে দেখেন, তাতেই আমার কাজ সার্থক।”
এই উদ্যোগের আর একটি বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। বনগ্রামে বিভূতিভূষণের পৈতৃক বাড়ির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত শোচনীয়। যদিও বাড়িটি হেরিটেজ কমিশনের তালিকাভুক্ত, তবু সংরক্ষণের কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
“ওই বাড়িতে যদি একটি সংগ্রহশালা তৈরি করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই সামগ্রী বিক্রির টাকা কাজে লাগাতে চাই,” জানালেন তৃণাঙ্কুর।
পরিবারের মতে, বিভূতিভূষণের সাহিত্য ও মানুষটি শুধু পরিবারের সম্পত্তি নয়—তিনি সবার। তৃণাঙ্কুর বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এমন অনেক নথি রয়েছে—ছাত্রদের জন্য তাঁর তৈরি ক্লাস রুটিন, কোন বই পড়ছেন তার তালিকা, যা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করেন না। এই সব কিছু নিয়েই আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করতে চাই।”
কাগজের চিঠি, কালি-লেখা নোট আর স্মৃতির ভাঁজ খুলে বিভূতিভূষণ যেন নতুন করে ফিরছেন—এ বার ডিজিটাল দুনিয়ায়।