
শেষ আপডেট: 24 May 2023 07:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরা জ্যৈষ্ঠের শুক্ল ষষ্ঠী তিথি (Jamai Sasthi), বাঙালি বাড়িতে এই দিনের মাহাত্ম্য অনেক। এমনিতে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই আছে (Bengali Culture)। তপ্ত গ্রীষ্মের দিনে এই উৎসব ঘরে ঘরে ঠান্ডা বাতাসের মতো। এদিন প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে জামাই আদরের এলাহি আয়োজন করা হয়। প্রাক-বর্ষার মরসুমে নতুন করে আনন্দে মেতে ওঠে বাঙালি।

আরও পড়ুন: একে অপরকে সাহায্য করেই ইউপিএসসি-তে সাফল্য! অখিল-শ্রীকুমারের বন্ধুত্ব থেকে শিখছেন অজয়
রাত পোহালেই জামাইষষ্ঠী (Jamai Sasthi)। ঘরে ঘরে এখন তাই শেষ মুহূর্তের তোড়জোড় চলছে। বাঙালির এই পরম আদরের উৎসব কিন্তু একদিনে শুরু হয়নি। জামাইষষ্ঠীর সঙ্গে লেগে রয়েছে শত শত বছরের প্রাচীন রীতি-নীতি, ইতিহাস। আর সেই ইতিহাস বলছে, শুরুতে জ্যৈষ্ঠ মাসের ষষ্ঠী তিথিটার সঙ্গে জামাইয়ের কোনও সম্পর্কই ছিল না। এ তিথি ছিল অরণ্যের।

প্রাচীন অরণ্যষষ্ঠী থেকেই আজকের জামাইষষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ। দেবী ষষ্ঠী মাতৃস্বরূপা। তিনিই পুত্র দান করেন। তাই বছরে ১২টি ষষ্ঠী পালনের রীতি ছিল গ্রামবাংলায়। দুর্গাষষ্ঠী, লোটনষষ্ঠীর সেসব ব্রতের বাহুল্য আজকাল আর ঘরে ঘরে সেভাবে দেখা যায় না। রূপ বদলে রয়ে গেছে কেবল অরণ্যষষ্ঠী (Jamai Sasthi)। একসময় এই ষষ্ঠী নির্দিষ্ট তিথিতে পালন করা হত অরণ্যের মাঝে। হাতের কাছে অরণ্য না থাকলে বাড়ির উঠোন বা দালানের কোথাও অরণ্যের ছোটখাটো প্রতিরূপ বানিয়ে ব্রত পালন করতেন মেয়ে-বৌ’রা। অরণ্যষষ্ঠীর রীতিতেও প্রকৃতির আরাধনার ছোঁয়া রয়েছে।

কথিত আছে, সংসারের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে, হাজার ঝড়ঝাপটা সামলে ওঠার পর দেবী ষষ্ঠী এক গৃহবধূকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন অরণ্যষষ্ঠী ব্রত পালনের নিয়মকানুন। সেই ব্রতের বিশেষ দিনটায় গৃহবধূ বাড়িতে ডেকেছিলেন তাঁর মেয়ে-জামাইকেও (Jamai Sasthi)। জামাই আসার পর তাঁর কপালে দই-চন্দনের ফোঁটা দিয়েছিলেন শাশুড়ি। দিয়েছিলেন আম-কাঁঠালের বাটা। সেই থেকেই অরণ্যষষ্ঠীর সঙ্গে জুড়ে গেলেন জামাইরাও। ঘরে ঘরে শাশুড়িরা জামাইদের ডাকেন তিথিনক্ষত্র মেনে, জামাই এবং মেয়ের সংসারের মঙ্গলকামনা করে পুজো দেন দেবী ষষ্ঠীর। অরণ্য পেরিয়ে জ্যৈষ্ঠের শুক্ল ষষ্ঠী এভাবেই চলে আসে জামাইদের দখলে।
আরও পড়ুন: রোজ সকালে গুঁড়ো দুধে গুলে চা বা কফি খান? শরীরে যা যা হচ্ছে জানলে চমকে যাবেন
একটা সময় গ্রামবাংলায় রীতি ছিল, মেয়ের বিয়ের পর তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যেতে পারবেন না মেয়ের বাবা-মা। যতদিন না মেয়ে সন্তানসম্ভবা হচ্ছে, বা যতদিন না মেয়ে সন্তানের মুখ দেখছে, ততদিন মেয়ের বাড়িতে বাবা-মা পা রাখতে পারতেন না। দীর্ঘদিন মেয়েকে না দেখে মন আনচান করত বাবা-মায়েদের। বিশেষ করে মেয়েকে চোখের দেখা না দেখে অস্থির হয়ে উঠতেন মায়েরা। তাই বছরের এই সময়টা মেয়ে-জামাইকে নেমন্তন্ন করে নিজে হাতে রেঁধে খাওয়াতেন তাঁরা। এই প্রথাই জামাইষষ্ঠী।

জামাই আদরের জন্য জ্যৈষ্ঠ মাসই আদর্শ বলে মনে করা হয়। এই সময় গাছে গাছে আম-কাঁঠালের ছড়াছড়ি। পুকুর-নদীতে মাছও ভরপুর। জামাইকে পাত পেড়ে খাওয়াতে কোনও অসুবিধাই হয় না। বরং এরপর বর্ষা চলে এলে পুকুর থেকে মাছ ধরায় অনেক বেশি ঝক্কি।