মেয়েদের শিক্ষার হার নিশ্চিত করা, স্কুলছুট মেয়েদের শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনা, উচ্চশিক্ষায় এমনকী নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথ প্রশস্ত করছে ‘এডুকেট গার্লস’।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 August 2025 23:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়ার নোবেলখ্যাত মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসেসে (Ramon Magsaysay Award) পুরস্কারে ঝুলি ভরল ‘এডুকেট গার্লস’ (Educate Girls), ভারতীয় এক নন-প্রফিট সংস্থার (Indian non-profit organization)। এই প্রথম কোনও ভারতীয় সংস্থা (first Indian organization to get Ramon Magsaysay Award) এই সম্মান পেল, রবিবার এমনই ঘোষণা করেছে র্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন (RMAF)।
ভারতের প্রান্তিক এলাকাতে মেয়েদের পড়াশোনা (girls education) নিয়ে বিশেষ কাজ করছে এই সংস্থাটি। মেয়েদের শিক্ষার হার নিশ্চিত করা, স্কুলছুট মেয়েদের শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনা, উচ্চশিক্ষায় এমনকী নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথ প্রশস্ত করছে ‘এডুকেট গার্লস’।
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সাফিনা হুসেন (Safeena Husain) এই পুরস্কারকে “দেশ এবং ‘এডুকেট গার্লস’-এর জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে বর্ণনা করেছেন।
‘র্যামন ম্যাগসেসে’ পুরস্কার কেন দেওয়া হয়?
‘র্যামন ম্যাগসেসে’ পুরস্কার এশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান, যা সমাজসেবায় অনন্য অবদান এবং আত্মনিবেদিত কর্মযজ্ঞকে স্বীকৃতি জানায়। এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন আরও দু’জন - মালদ্বীপের শাহিনা আলি (পরিবেশ রক্ষায় কাজের জন্য) এবং ফিলিপিন্সের ফ্লাভিয়ানো অ্যান্টোনিও এল ভিলানুয়েভা (দরিদ্র-অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার জন্য)।
৭ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটান থিয়েটারে হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রতিটি পুরস্কারপ্রাপ্তকে দেওয়া হবে র্যামন ম্যাগসেসের প্রতিকৃতিযুক্ত মেডেল, সনদপত্র ও নগদ অর্থ।
‘এডুকেট গার্লস’-এর যাত্রাপথ কেমন ছিল?
২০০৭ সালে সাফিনা হুসেন ‘এডুকেট গার্লস’ প্রতিষ্ঠা করেন। লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকস থেকে স্নাতক হয়ে সান ফ্রান্সিসকোতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি দেশে ফিরে আসেন, মেয়েদের নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।
প্রথমে রাজস্থানে কাজ শুরু করে সংস্থাটি। গ্রামে গ্রামে গিয়ে তারা স্কুলবিহীন বা স্কুলছুট মেয়েদের খুঁজে বের করে ক্লাসরুমে ফিরিয়ে আনে। শুধু ভর্তি নয়, পড়াশোনায় টিকে থাকা, উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির সুযোগ পাওয়ার পথও প্রশস্ত করে ‘এডুকেট গার্লস’।
২০১৫ সালে তারা বিশ্বের প্রথম ডেভেলপমেন্ট ইমপ্যাক্ট বন্ড (DIB) ইন এডুকেশন চালু করে, যেখানে শিক্ষাক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হয়। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০টি গ্রামীণ স্কুল থেকে শুরু করে এখন তারা ভারতের অনগ্রসর অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার গ্রামের ওপর কাজ করছে। ইতিমধ্যেই দুই মিলিয়নেরও বেশি মেয়ে উপকৃত হয়েছে। স্কুলে টিকে থাকার হার ৯০ শতাংশেরও বেশি।
এছাড়া সংস্থাটি চালু করেছে ‘প্রগতি’, একটি ওপেন-স্কুলিং প্রোগ্রাম, যেখানে ১৫ থেকে ২৯ বছরের তরুণীরা আবার পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। শুরুতে যেখানে মাত্র ৩০০ জন ছাত্রী ছিল, এখন সংখ্যা ৩১,৫০০-এর বেশি।
ভারতের গৌরব
এই সম্মান ভারতের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। অতীতে মাদার টেরেসা (১৯৬২), জয়প্রকাশ নারায়ণ (১৯৬৫), সত্যজিৎ রায় (১৯৬৭), কিরণ বেদী (১৯৯৪), অরুণ শৌরি (১৯৮২), অরবিন্দ কেজরিওয়াল (২০০৬), অরুণা রায় (২০০০), সোনম ওয়াংচুক (২০১৮) ও রবিশ কুমার (২০১৯)-এর মতো বিশিষ্ট ভারতীয়রা র্যামন ম্যাগসেসে পেয়েছেন।
RMAF চেয়ারম্যান এডগার ও. চুয়া বলেন, “প্রতি প্রজন্মের পুরস্কারপ্রাপ্তরা প্রমাণ করেছেন সততা, সাহস এবং সহমর্মিতা দিয়ে সমাজকে আরও সুন্দর করে গড়া যায়। এ বছরের প্রাপকরাও সেই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য বহন করছেন।”