Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারতের ১,২০০ কোটির হিরের নাম 'জ্যাকব'! ১৪১ বছরের এই রত্ন নিরাপদ তো? লুভের ডাকাতির পরেই উদ্বেগ

১৮৯১ সালে ইংরেজ জহুরি আলেকজান্ডার ম্যালকম জ্যাকবের নাম থেকেই এই হিরেটির নাম হয় 'জ্যাকব'। তিনি এটি মূলত বিক্রির জন্য রেখেছিলেন। এর উৎপত্তি ভারতের গোলকোন্ডা খনিতে। 

ভারতের ১,২০০ কোটির হিরের নাম 'জ্যাকব'! ১৪১ বছরের এই রত্ন নিরাপদ তো? লুভের ডাকাতির পরেই উদ্বেগ

প্রতীকী ছবি (ফাইল)

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 23 October 2025 17:09

অর্পিতা দাশগুপ্ত

প্যারিসের লুভ মিউজিয়ামের সাম্প্রতিক ডাকাতি (Louvre heist) বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়েছে। ৭ মিনিটের ডাকাতিতে খোয়া গেছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার বহুমূল্য গয়না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দুষ্কৃতীরা হয়তো ইতিমধ্যেই এই গয়নাগুলি থেকে রত্ন খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করে দিতে পারে। এতে রত্নগুলি হয়তো আর কোনও দিন উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে ভারতের এক অমূল্য হিরে 'জ্যাকব ডায়মন্ড' (Jacob Diamond) বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

'জ্যাকব ডায়মন্ড' (Jacob Diamond) ভারতের রাজপরিবারের একটি অমূল্য রত্ন এবং বিশ্বের বৃহত্তম পালিশ করা হিরের মধ্যে একটি। এর  ওজন ১৮৪.৭৫ ক্যারেট। এর আকৃতি আয়তাকার কুশন কাট এবং রঙহীন।

ইতিহাস

১৮৯১ সালে ইংরেজ জহুরি আলেকজান্ডার ম্যালকম জ্যাকবের নাম থেকেই এই হিরেটির নাম হয় 'জ্যাকব'। তিনি এটি মূলত বিক্রির জন্য রেখেছিলেন। এর উৎপত্তি ভারতের গোলকোন্ডা খনিতে। হায়দরাবাদের ষষ্ঠ নিজাম মির মাহবুব আলি খান এই হিরে কিনেছিলেন। প্রথমে ৪০ লক্ষ টাকায় কেনার কথা হলেও পরবর্তীতে ২৩ লক্ষ টাকায় কিন নেন তিনি (Nizam of Hyderabad)।

নিজাম এই হিরেটিকে অশুভ মনে করতেন, তাই কেনা হলেও বেশ কয়েকবছর ব্যবহারই করা হয়নি। বরং এত মূল্যবান একটি রত্ন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে নিজামের পুত্র মির ওসমান আলি খান এটি খুঁজে পেয়েছিলেন। কিন্তু এই হিরের কদর কতটা, সে বিষয়টি তাঁর কাছে অজানা ছিল, তাই কয়েক বছর হিরেটিকে পেপারওয়েট হিসেবে ব্যবহার করতেন ওসমান আলি, যতক্ষণ না এর আসল মূল্য তিনি বুঝতে পারেন। পরে পরিবার হিরেটি বিক্রি করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভারত সরকার সেই রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তারা জানায়, এটি 'জাতীয় ধন', যা বিদেশীদের কাছে বিক্রি করা যাবে না।

ভারত সরকারের অধিগ্রহণ

অনেক মামলা-মোকদ্দমার পর, ভারত সরকার ১৯৯৫ সালে নিজামের ট্রাস্ট থেকে হিরেটি কিনে নেয়, যার দাম ছিল প্রায় ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

নিরাপত্তা

বর্তমানে 'জ্যাকব ডায়মন্ড' মুম্বইয়ের রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ভল্টে (Reserve Bank of India vault) সংরক্ষিত রয়েছে। সাধারণ মানুষ এটি দেখতে পায় না। কেবল অনুমোদিত কর্মকর্তা এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে হিরেটির সংরক্ষণ করা হয়। এটিকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে কোনও ঝুঁকি না থাকে।

কোহিনূরের মতো বিখ্যাত হিরের সঙ্গে তুলনা করলে, জ্যাকব হিরে ইতিহাসে মাত্র দু’বার হাত বদল হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কোনও রকম যুদ্ধ বা হিংসার ঘটনা জড়িত নয়।

মূল্য

জ্যাকব হিরে একটি বহুমূল্য রত্ন। এক দশক পুরনো কিছু তথ্য ঘাটলে জানা যায়, এই হিরের দাম প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ১,২০০ কোটি টাকারও বেশি। যেহেতু হিরেটি কখনও বিক্রি হয়নি, তাই এর আসল মূল্য বলা কঠিন। এটি ভারতীয় রাজপরিবারের এক অমূল্য সম্পদ।

প্রদর্শনী

জ্যাকব ডায়মন্ড ২০০১ এবং ২০০৭ সালে হায়দরাবাদের সালার জং মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হয়েছিল। সেইসময় এটি ছিল প্রদর্শনীর প্রধান আকর্ষণ যা একবার স্বচক্ষে দেখতে ভিড় জমিয়েছিল বহু মানুষ।

লুভ মিউজিয়ামের চুরির ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, মূল্যবান হিরে ও শিল্পকর্মের নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর বলা যায়, ভারতের জ্যাকব ডায়মন্ড সেই নিরাপত্তার উদাহরণ। এই হিরেটি নিরাপদে থাকায় এর ইতিহাস, মূল্য এবং রাজকীয় ঐতিহ্য সবই রক্ষা পাচ্ছে। এটি শুধু একটি হীরা নয়, এটি ভারতের সমৃদ্ধ রাজপরিবারের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য প্রতীক।


```