নবাব বংশের উত্তরসূরি ৫৫ বছর বয়সি খাজা নইম মুরাদ বলেন, এটা কোনও রূপকথার গল্প নয়। এই হিরে সত্যিই ছিল। এর জাজ্বল্যের জন্য ইরানি ভাষায় এর নাম হল- আলোকদ্যুতির নদী বা দরিয়া-ই-নুর।

কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে কোহিনুরের বোন এই দরিয়া-ই-নুরকে নিয়ে।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোহিনুর! যাকে এই গ্রহের সর্ববৃহৎ হিরে বলে মনে করা হয়। এই হিরের ছটায় ছটায় খেলে বেড়ায় নানান কথা ও কাহিনি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই হিরে অপার বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর এও জল্পনা শুরু হয়েছে যে, ভারত কি আবার কোহিনুর ফেরত পেতে পারে? কোহিনুর ছাড়াও আরও একটি হিরে এবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। তার নাম দরিয়া-ই-নুর।
কয়েক শো বছর ধরে কোহিনুরকে ঘিরে রয়েছে রক্তাক্ত ইতিহাস। এবার তারই মতো ফের রহস্যময় এক আবছায়া আলোয় এসেছে। কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে কোহিনুরের বোন এই দরিয়া-ই-নুরকে নিয়ে। দরিয়া-ই-নুরের ওজন হল ২৬ ক্যারেট। বাংলাদেশের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খবর, কোহিনুরের পরে সবথেকে দামি এই হিরে।
দরিয়া-ই-নুর এখন রয়েছে বাংলাদেশের একটি লকারে। কারও কারও মতে, বাংলাদেশ সরকার অধীনস্থ সোনালি ব্যাঙ্কের ভল্টে। যদিও কোহিনুরের মতো বিখ্যাত নয় এই হিরে, তবুও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু ভুলভ্রান্তি, ট্র্যাজেডি, বিশ্বাসঘাতকতা ও চক্রান্তের রহস্যময় কাহিনি। প্রায় ছয় বছর আগে একটি খবর বেরিয়েছিল যে, এই হিরে লাপাতা হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে হইচই পড়ে যায় সরকারি কর্তাদের মধ্যে। তড়িঘড়ি ভূমি মন্ত্রকের একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।
গল্পগাছায় জানা যায়, ২৬ ক্যারেটের এই হিরে আয়তক্ষেত্রের মতো দেখতে। একটি সোনার বাজুবন্ধের ঠিক মাঝখানে এটি বসানো আছে। এর চারপাশে ১০টি ছোট হিরে রয়েছে। যার প্রতিটির ওজন ৫ ক্যারেট করে। এমনকী এও বিশ্বাস করা হয় যে, কোহিনুর দক্ষিণ ভারতের যে খনি থেকে পাওয়া গিয়েছিল, দরিয়া-ই-নুরের জন্মও ওই খনিগর্ভ থেকেই। তাই একে কোহিনুরের বোন বলা হয়।
মহারাজা রঞ্জিত সিং নাকি এই দুই হিরেকে দুই হাতে ধরেছিলেন। পাঞ্জাবের মহারাজা রঞ্জিত সিং ছিলেন কোহিনুর ও দরিয়া-ই-নুরের মালিক। বাজুবন্ধ হিসেবে তিনি দুহাতে এই হিরে পড়তেন। এরপর সময়ের সঙ্গে কোহিনুরের বিভিন্ন হাত বদল হয়েছে। শেষমেশ পাঞ্জাবের শেষ মহারাজা দলীপ সিং ভেট হিসেবে লাহোর থেকে রানি ভিক্টোরিয়াকে দরিয়া-ই-নুর পাঠিয়ে দেন। এরও অনেক পরে ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা আলিমুল্লা ১৮৫২ সালে এক নিলামে ৭৫,০০০ টাকায় এই হিরে কিনে নেন।
১৯০৮ সালে ঋণগ্রস্ত নবাব সালিমুল্লা দরিয়া-ই-নুর এবং সমস্ত সম্পত্তি বন্ধক রেখে দেন। সেই থেকে এই হিরে স্থান পায় ভারতের ইম্পেরিয়াল ব্যাঙ্কের হাত ঘুরে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তানে। অতঃপর বাংলাদেশের সোনালি ব্যাঙ্কের ভল্টে। অনেকেরই সন্দেহ এই দরিয়া-ই-নুর উবে গিয়েছে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেকথা স্বীকার না করলেও ভল্ট খুলে দেখাতে ডরাচ্ছে। কারণ বর্তমান অফিসারদের অনেকেরই মতে, ভল্টের ভিতরে কিছু নাও থাকতে পারে। কিন্তু, বাংলাদেশ সরকার এখন ভল্ট খোলার ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করেছে। নবাব বংশের উত্তরসূরি ৫৫ বছর বয়সি খাজা নইম মুরাদ বলেন, এটা কোনও রূপকথার গল্প নয়। এই হিরে সত্যিই ছিল। এর জাজ্বল্যের জন্য ইরানি ভাষায় এর নাম হল- আলোকদ্যুতির নদী বা দরিয়া-ই-নুর। বর্তমান বাজারদর হিসেবে এর দাম ১.৩ কোটি ডলারের কাছাকাছি। তবে হিরে যাচাইকারীদের হিসেবে ওজন ছাড়াও বয়স ও ঐতিহ্য বিচার করলে এর দাম আরও কয়েকগুণ বেশি।