জীবনের প্রথম বড় ধাক্কা ক্লাস ফাইভে, প্রথমবার ফেল করেছিলেন নেহা। তবে সেখানেই শেষ নয়, বরং সেখান থেকেই শুরু হয় লড়াই।

আইএএস অফিসার নেহা ব্যাদওয়াল
শেষ আপডেট: 2 July 2025 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দুইবার প্রিলিমসেই বাদ। তৃতীয় বারে মেইনস দিয়েও হল না। কিন্তু চতুর্থ প্রচেষ্টায় ৫৬৯ র্যাঙ্ক পেয়ে অবশেষে সাফল্য এল কাছে। IAS অফিসার নেহা ব্যাদওয়াল কর্মসূত্রে এখন গুজরাতে।
২৫ বছর বয়সি এই তরুণী প্রমাণ করে দিয়েছেন, একটানা ব্যর্থতা মানেই হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। কঠোর অধ্যবসায়, মনোযোগেই সবটা সম্ভব। কিন্তু যেটা না বললেই নয়, তা হল, নিজের মোবাইল ফোনের সঙ্গে দীর্ঘ ‘তিন বছরের বিচ্ছেদ’ তাঁর স্বপ্নপূরণে বাকিদের থেকে অনেকটা আগে এগিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
নেহা ব্যাদওয়ালের জন্ম রাজস্থানে, তবে বেড়ে ওঠা ছত্তীসগড়ের রায়পুরে। জীবনের প্রথম বড় ধাক্কা ক্লাস ফাইভে, প্রথমবার ফেল করেছিলেন নেহা। তবে সেখানেই শেষ নয়, বরং সেখান থেকেই শুরু হয় লড়াই।
এক সাক্ষাৎকারে নেহা জানিয়েছেন, তিনি বাবার সঙ্গে ভোপালে চলে যান। সেখানকার কড়া ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে হিন্দি বললেও জরিমানা করা হত। সেই চ্যালেঞ্জও নেন নেহা, নিজের জেদ আর প্রচেষ্টায় রপ্ত করেন ইংরেজি।
নেহার বাবা সরকারি কর্মকর্তা, আয়কর বিভাগের সিনিয়র অফিসার। বাবার পায়ের ছাপ অনুসরণ করেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে পরপর তিনবার ধাক্কা খেতে হয় তাকে।
তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর নেহা মোবাইল ফোনের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ত্যাগ করেন। সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপস সব কিছু থেকে বহুদূরে সরে গিয়ে দিনে ১৭-১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবে এই আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ত্যাগের ফলও মিলেছিল তাড়াতাড়ি। মাত্র ২৪ বছর বয়সে ইউপিএসসি (UPSC)-তে সাফল্য আসে এবং IAS হন। মোট ৯৬০ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি।
তবে নেহার মতে, এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ তাঁর বাবা-মা। এক সাক্ষাৎকারে নেহা বলেন, ‘ট্রিপে না যাওয়া বা কিছু না কেনার কথা নয়। বাবা সারাদিন অফিসের কাজের পরেও মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে বাড়ি ফিরতেন, আমার সঙ্গে ক্লাস করতেন - সেটাই আসল ত্যাগ। ইতিহাস থেকে অঙ্ক - সবকিছু দেখিয়েছেন।’
শুধু বাবা নয়, গোটা পরিবার ছিল নেহার এই সাফল্যের সমান অংশীদার। এমনকী মক ইন্টারভিউও নিতেন বাড়ির লোকরা, যাতে আসল ইন্টারভিউতে তিনি চমক দেখাতে পারেন।
নিজের প্রস্তুতির কথা বলতে গিয়ে নেহা বলেন, ‘এই জার্নি শিখিয়েছে পরিশ্রম, ধৈর্য, নিষ্ঠা, হার না মানার মানসিকতা আর সময়কে ঠিকঠাক ব্যবহার করার কৌশল।’