প্রতিদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে তিনি পাঁপড় বিক্রি করেন, যাতে অন্তত নিজের ওষুধ কেনার খরচটা উঠে আসে। নিজের মতো করে লড়াই করা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই।

হরিপদ দাস (গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 3 December 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দননগর স্টেশনে প্রতিদিন দেখা যায় এক বৃদ্ধকে- হাতে লাঠি, পাশে বড় ঝুড়ি ভর্তি পাঁপড়। চোখে দেখতে না পেলেও জীবনের সঙ্গে লড়াই থামাননি তিনি। তাঁর একমাত্র ভরসা এই পাঁপড় বিক্রি। কারণ, ওই সামান্য উপার্জন থেকেই ওষুধ কেনা থেকে শুরু করে নিত্যদিনের খরচ চালান তিনি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। তবু হেরে যাননি (Inspirational Stories)। কারণ বাঁচতে গেলে লড়াই তো করতেই হয়, এ যেন সেই অদম্য সাহসের গল্প।
চন্দননগর স্টেশনের (Chandannagar Sttation) সামনে রোজই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকেন হরিপদ দাস (Haripada Das)। হাতে একটি লাঠি, আর সামনে সাজানো থাকে প্যাকেটভরা পাঁপড়। পথচলতি মানুষ কেউ থামলে, তিনি চেনা হাসি দিয়ে বলেন, "ভালো পাঁপড়, মা/বাবু… নেবেন?” তাঁর কণ্ঠে ক্লান্তি স্পষ্ট, কিন্তু হাল না ছাড়ার এক অদ্ভুত শক্তিও লুকিয়ে থাকে।
প্রতিদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে তিনি পাঁপড় বিক্রি করেন, যাতে অন্তত নিজের ওষুধ কেনার খরচটা উঠে আসে। নিজের মতো করে লড়াই করা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই। কেউ সাহায্য করলে নেন, না করলে অভিযোগ নেই। শুধু সামান্য বিক্রিটুকু হলেই তিনি খুশি। এটাই তাঁর প্রতিদিনের জীবন।
পাঁপড় কেনা থেকে বিক্রি- সবটাই একা হাতে করেন। তাঁর কথায়, 'কষ্ট হলেও নিজের মধ্যেই রাখতে হবে। কাউকে বলা উচিত না। এভাবেই বেঁচে থাকতে হবে।' আসলে তাঁর মনের কথা শুনবে, সেই মানুষটিও তো এই পৃথিবীতে আর নেই। স্ত্রীর দেখাশোনা করতেন হরিপদবাবু, তবে এক দুর্ঘটনায় তাঁকে হারিয়ে এখন একাই জীবনের পথে হেঁটে চলেছেন তিনি।
পেশায় গাড়ি চালক ছেলের কাছে থাকেন এই প্রবীণ মানুষটি। দু'বেলা ভাত জোগাড় হলেও ওষুধের খরচ অনেক। ছেলের একার কাঁধে সেই বোঝা দিতে চান না (Blind father struggle)। তাই মনের জোরকে সঙ্গী করেই পাঁপড়ের ঝুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বেচার উদ্দেশে। এত বয়সেও তাঁর সংগ্রাম থামেনি, অভাব-অনটন, অসুখ-বিসুখ, সবকিছুর মাঝেও তিনি নিজের লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে।
এই সমাজে যখন আমরা অনেকেই ছোট সমস্যায় হাল ছেড়ে দিই, এই বৃদ্ধ মানুষটি আমাদের শেখালেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর মতো মানুষরা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন, 'জীবন যত কঠিনই হোক, লড়াই থামানো যাবে না'