বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বড় কারণ সোশ্যাল মিডিয়া। অন্যদের গ্ল্যামারাস জীবন দেখে বিশেষ করে 'জেন জি' (Gen Z) অনেকেই চাপে পড়ে যান, তাঁরাও যে কারও থেকে কম নন, এটা বোঝাতেই নিজেরাও দামি, ব্র্যান্ডেড জিনিস কিনতে চান।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 3 September 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক বছর আগেও সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের হাতে দামি ব্র্যান্ডের ব্যাগ, জুতো বা বেল্টের দেখা পাওয়া ছিল বিরল ঘটনা। তখন বাড়তি টাকা থাকলে মানুষ হয় জমাতেন, জমি কিনতেন বা বিনিয়োগ করতেন। বিলাসদ্রব্য বা লাক্সারি আইটেম (Luxary Goods) কিনতে হলে বিদেশে থাকা আত্মীয়দের ভরসাই ছিল শেষ কথা। অনেকের জন্য সেই আশাটুকুও ছিল না।
কিন্তু এখন চিত্র বদলে গেছে। কারও কাছে গুচি বেল্ট, হারমেস স্যান্ডেল বা কোচ হ্যান্ডব্যাগ দেখা গেলে আর তেমন আশ্চর্যের নয় (Buying luxury on EMI)। 'জেন জি' (Gen Z) আর 'মিলেনিয়ালরা' নিজেরাই এসব কিনছেন, তাও আবার ইএমআই (EMI) বা ‘বাই নাও পে লেটার’ (Buy Now Pay Later) প্ল্যানে।
কেন বাড়ছে বিলাসদ্রব্য কেনার ঝোঁক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বড় কারণ সোশ্যাল মিডিয়া। অন্যদের গ্ল্যামারাস জীবন দেখে বিশেষ করে 'জেন জি' (Gen Z) অনেকেই চাপে পড়ে যান, তাঁরাও যে কারও থেকে কম নন, এটা বোঝাতেই নিজেরাও দামি, ব্র্যান্ডেড জিনিস কিনতে চান। আগে যেখানে মানুষ সঞ্চয় করে বিলাসিতা করত, এখনকার প্রজন্মের মধ্যে 'এখনই চাই' ঝোঁকটা বেশি।
অন্যদিকে, ছোট ছোট কিস্তিতে ভাগ হয়ে গেলে দামি জিনিসও সহজ মনে হয়। যেমন, ৬০ হাজার টাকার ব্যাগ যদি মাসে ৫ হাজার টাকা দিয়ে কেনা যায়, তবে সেটা অনেকের কাছেই সম্ভব বলে মনে হয়। এভাবেই বিলাসিতার বাজার দ্রুত বেড়ে চলেছে।
অর্থনীতির দিক থেকে দেখলে ক্রেডিটের ব্যবহার বাড়লে দেশেরই ভাল হবে। কারণ ঋণ মানুষকে দ্রুত স্বপ্নপূরণে সাহায্য করে, বাজারে খরচও বাড়ায়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বেশি ইএমআই নেওয়া ঝুঁকির কারণ হতে পারে। চাকরি হারানো বা আর্থিক সমস্যা হলে প্রতিমাসের ইএমআই ভয়ংকর চাপ তৈরি করতে পারে। একাধিক ইএমআই একসঙ্গে হলে সঞ্চয় বন্ধ হয়ে যায়, ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নষ্ট হয়।
মানসিক দিক থেকেও সমস্যা তৈরি হয়। মুহূর্তের আনন্দ পেতে লাগাতার খরচ করা অভ্যাসে পরিণত হলে পরে অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা আর চাপ বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আজকের প্রজন্ম সঞ্চয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতা ও বিলাসিতায় বেশি খরচ করছে। ইএমআই সেই স্বপ্নকে সহজ করেছে ঠিকই, তবে ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। তাই বিলাসিতা উপভোগ করা খারাপ নয়, কিন্তু সেটি যেন আর্থিক স্থিতি ও মানসিক শান্তি নষ্ট না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।