এই মুহূর্তে রাহুলের গুরুতর অভিযোগের পরেও বিজেপি বা নির্বাচন কমিশন,কেউই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এতে ভোটার ডেটা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল তথ্যের অপব্যবহার ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল (দিব্যেন্দু দাস)
শেষ আপডেট: 5 November 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভয়ঙ্কর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল অভিযোগ করেন, “ভোট চুরির নির্বাচন ছিল। ২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোট যোগ করে কংগ্রেসের জয়ের ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে।”
রাহুলের দাবি, হরিয়ানায় মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি, যার মধ্যে ২৫ লক্ষই ভুয়ো। তিনি জানান, “আমাদের হাতে ১০০ শতাংশ প্রমাণ আছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে ৫.২১ লক্ষ ডুপ্লিকেট ভোটার এন্ট্রি ধরা পড়েছে। এমনকি একাধিক ভোটার তালিকায় একই ছবির ব্যবহার হয়েছে, কিন্তু নাম আলাদা, এমন ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।
একই ছবিতে একাধিক পরিচয়!
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল এক মহিলা ভোটারের ছবি দেখান, যিনি নাকি ভোটার তালিকায় ‘সীমা’, ‘সুইটি’ ও ‘সরস্বতী’ নামে একাধিক বার নথিভুক্ত আছেন। রাহুলের দাবি, “এই একই মহিলা ২২ বার ভোট দিয়েছেন। এই ছবিই প্রমাণ করছে কীভাবে ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে ভোট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।”
তবে পরে জানা যায়, যে ছবিটি রাহুল দেখিয়েছিলেন, সেটি আসলে এক ব্রাজিলিয়ান মডেলের ছবি, যা ২০১৭ সালের ২ মার্চ আনস্প্ল্যাশ নামের একটি বিনামূল্যের ফোটোগ্রাফি প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেছিলেন ফোটোগ্রাফার ম্যাথিউস ফেরেরো। ছবিটির শিরোনাম ছিল ওম্যান ওয়্যারিং ব্লু ডেনিম জ্যাকেট 'woman wearing blue denim jacket'। এটি ৫ কোটি ৯০ লক্ষ বারেরও বেশি দেখা হয়েছে এবং ৪ লক্ষেরও বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে। ছবিটি মুক্ত লাইসেন্সের আওতায়, ফলে যে কেউ সেটি ব্যবহার করতে পারেন।
রাহুল বৈঠকে একটি কিউআর কোড দেখান, যা স্ক্যান করলে ওই ছবিটিই দেখা যায়। তদন্তে নিশ্চিত হয়, ছবিটি ভোটার তালিকার আসল কোনও ব্যক্তির নয়, বরং উন্মুক্ত ওই প্ল্যাটফর্মের স্টক ইমেজ। আনস্প্ল্যাশে ফেরেরোর প্রোফাইলেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি একজন পেশাদার ফোটোগ্রাফার। ছবিটি তোলা হয়েছিল Canon EOS Digital Rebel XS ক্যামেরায়। জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে ওই মডেল বা ফোটোগ্রাফারের কোনও যোগ নেই।
এই মুহূর্তে রাহুলের গুরুতর অভিযোগের পরেও বিজেপি বা নির্বাচন কমিশন,কেউই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এতে ভোটার ডেটা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল তথ্যের অপব্যবহার ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।