রাহুলের অভিযোগ ৫ ভাবে এই কারচুপি হয়েছে—ডুপ্লিকেট ভোটার, ভুয়ো ঠিকানা, বাল্ক ভোটার, ফর্ম ৬ -এর অপব্যবহার, আর ফর্ম ৭ এর অপব্যবহার। রাহুলের এই অভিযোগ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, তামাম সমীক্ষার ইঙ্গিত ছিল হরিয়ানায় বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস স্যুইপ করতে পারে। বিজেপির মধ্যেও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল বলে অনেকে দাবি করেছিলেন। অথচ ভোটের ফলাফল হয় ঠিক উল্টো। ১৮০ ডিগ্রি উল্টো।

শেষ আপডেট: 5 November 2025 23:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় যখন ভোটার তালিকায় সংশোধনের প্রক্রিয়া (SIR in West Bengal) চলছে তখন হরিয়ানায় ভোটার তালিকা নিয়ে বড় অভিযোগ তুললেন রাহুল গান্ধী। রাহুলের দাবি, হরিয়ানায় ব্যাপক ভোট চুরি হয়েছে। প্রতি ৮টি ভোটারের মধ্যে একজন ভোটার ভুয়ো। অন্তত ২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম ঢোকানো হয়েছে তালিকায়। শুধু তা নয়, রাহুল এদিন এক ভোটারের ছবি দেখিয়ে বলেন, এই এক মহিলার ছবি ব্যবহার করে অন্তত ২২ বুথে ভোটার আইডি বানানো হয়েছে। কোথাও তাঁর নাম সীমা, কোথাও স্যুইটি। আর সব বুথেই তিনি ভোট দিয়েছেন। এই মহিলা আসলে ব্রাজিলিয়ান মডেল। আবার এক মহিলার ছবি ব্যবহার করে ২২৩টি বুথে ভোটার আইডি বানানো হয়েছে। এবং এটাই প্রমাণ করে হরিয়ানায় ভোটার লিস্টে কেন্দ্রীয় ভাবে অর্থাৎ সেন্ট্রালাইজড কারচুপি হয়েছে। এ ছাড়াও হরিয়ানার ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে, যে ভোটারের বয়স ৭৩ বছর তাঁর ছবি আসলে এক কিশোরের। আবার এক ভোটারের নাম বিক্রম সিং, ৯টি বুথে তিনি ভোটার। আসলে পুরুষের নাম হলেও তাঁর ছবি মহিলার। এরকম নমুনা ভুরিভুরি।
রাহুলের অভিযোগ ৫ ভাবে এই কারচুপি হয়েছে—ডুপ্লিকেট ভোটার, ভুয়ো ঠিকানা, বাল্ক ভোটার, ফর্ম ৬ -এর অপব্যবহার, আর ফর্ম ৭ এর অপব্যবহার। রাহুলের এই অভিযোগ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, তামাম সমীক্ষার ইঙ্গিত ছিল হরিয়ানায় বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস স্যুইপ করতে পারে। বিজেপির মধ্যেও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল বলে অনেকে দাবি করেছিলেন। অথচ ভোটের ফলাফল হয় ঠিক উল্টো। ১৮০ ডিগ্রি উল্টো।
রাহুল গান্ধী এদিনও স্পষ্ট ভাবে অভিযোগ করেছেন, “নির্বাচন কমিশন বিজেপির ইশারায় এই ভোট চুরি করছে।” তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস “ঝড় তুলতে পারত,” কিন্তু ভোট তালিকায় ভয়াবহ কারচুপি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “হরিয়ানায় মোট ভোটার প্রায় ২ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ২৫ লক্ষ ভোটার ভুয়ো। অর্থাৎ প্রতি ৮ জনে ১ জন ভোটার ভুয়ো।” আর এত কিছু করেও গোটা হরিয়ানায় কংগ্রেস বিজেপির থেকে মাত্র ২২ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল। রাহুল বলেন, “এটা শুধুই ভোট চুরি নয়, এটা অধিকার, সংরক্ষণ, চাকরি, শিক্ষা ও গণতন্ত্র চুরির সমান অপরাধ।” তিনি আরও বলেন, “আমি চাই Gen-Z প্রজন্ম এটা গুরুত্ব সহকারে নিক। কারণ, তাদের ভবিষ্যৎই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
রাহুল এর আগেও দুই দফায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। প্রথমটি আগস্টে, যেখানে তিনি বেঙ্গালুরু ও আরও কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। দ্বিতীয় দফায় তিনি ‘ভোটার ডিলিশন স্ক্যাম’-এর কথা বলেন। তখনই তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আরও বড় প্রমাণ তিনি সামনে আনবেন — যেটাকে তিনি বলেন “হাইড্রোজেন বোমা।”
সেই ধারাবাহিকতায় বুধবারের “H Files” প্রকাশ করেন রাহুল। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারকে এক সপ্তাহের সময়সীমা দেন অভিযোগের উত্তর দেওয়ার জন্য। তবে কমিশন ইতিমধ্যেই তাঁর সমস্ত অভিযোগ “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কমিশন রাহুলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল, প্রমাণ থাকলে হলফনামা জমা দিতে। রাহুলের বক্তব্য, “আমি তো কমিশনের নিজের ডেটা থেকেই এই প্রমাণ দিয়েছি। আমি সংবিধানের প্রতি শপথ নিয়েছি, অতএব সত্য বলেছি।”
এর আগে রাহুল, তেজস্বী যাদব এবং ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে বিহারে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ করেন। ১৬ দিনের এই অভিযানে তাঁরা অভিযোগ করেন, বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনে ভয়াবহ অনিয়ম হয়েছে। এরপর নির্বাচন কমিশন আরও ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) শুরু করেছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম।রাহুল এদিন কটাক্ষ করে বলেন, “যারা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল, সেই শক্তিরাই আজ ভারতের সংবিধান ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।” তাঁর এই নতুন “H Files” প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিজেপি এখনই এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে নির্বাচন কমিশন ফের “ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।