বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল দাবি করেন, হরিয়ানার ২০২৪ সালের (Haryana Voter List) বিধানসভা নির্বাচনে এক ব্রাজিলিয়ান মডেলের ছবি ব্যবহার করে অন্তত ২২ বার ভোট দেওয়া হয়েছে, তাও বিভিন্ন নামে — কখনও সীমা, কখনও সুইটি, কখনও সরস্বতী, কখনও রেশমি!

শেষ আপডেট: 5 November 2025 23:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় যখন ভোটার তালিকায় সংশোধন (SIR in West Bengal) চলছে, তখন নির্বাচন কমিশনের ফের বোমা ফাটালেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর সেই অভিযোগ, চোখ ছানাবড়া করে দেওয়ার মতোই। বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল দাবি করেন, হরিয়ানার ২০২৪ সালের (Haryana Voter List) বিধানসভা নির্বাচনে এক ব্রাজিলিয়ান মডেলের ছবি ব্যবহার করে অন্তত ২২ বার ভোট দেওয়া হয়েছে, তাও বিভিন্ন নামে — কখনও সীমা, কখনও সুইটি, কখনও সরস্বতী, কখনও রেশমি!
“এক ছবিতে ২২ ভোট!”
রাহুল গান্ধীর কথায়, “এই মহিলাটি কে? তাঁর নাম কী? তিনি কোথা থেকে এলেন? কেউ কি জানেন! এই মহিলা হরিয়ানায় ১০টি আলাদা বুথে ২২ বার ভোট দিয়েছেন — বিভিন্ন নামে। আর শেষ পর্যন্ত জানা যাচ্ছে, তিনি আসলে এক ব্রাজিলিয়ান মডেল!” রাহুল অভিযোগ করেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি ‘কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত অপারেশন’, যার মাধ্যমে হরিয়ানার ভোট ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। রাহুলের দাবি, যদি এই কারচুপি না হত, তাহলে “কংগ্রেস হরিয়ানায় ঝড় তুলে জয়লাভ করত।”
“প্রমাণসহ বলছি, ভোট চুরি হয়েছে”
রাহুল বলেন, “এটা শুধুমাত্র নির্বাচনের নয়, ভারতের গণতন্ত্রের প্রশ্ন। আমি ১০০ শতাংশ প্রমাণসহ বলছি — নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিকৃত হয়েছে। আমি ভারতীয় গণতন্ত্র ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রশ্ন তুলছি, এবং সেটা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই।”রাহুল আরও বলেন, “আমি চাই ভারতের তরুণ প্রজন্ম — বিশেষ করে Gen Z — এটা গুরুত্ব সহকারে নিক, কারণ এটি তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।”
২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোটার!
রাহুল গান্ধীর দাবি, হরিয়ানার মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। এর মধ্যে ২৫ লক্ষ ভোটার ভুয়ো বা অবৈধ। তিনি বিস্তারিতভাবে বলেন —
৫.২১ লক্ষ ডুপ্লিকেট ভোটার, ৯৩,১৭৪ অবৈধ ভোটার, ১৯.২৬ লক্ষ বাল্ক ভোটার। রাহুলের অভিযোগ, “অর্থাৎ প্রতি আট জন ভোটারের মধ্যে একজন ভুয়ো — প্রায় ১২.৫%। এক জায়গায় দেখা গেছে, একই ছবিতে ২২৩টি ভোটার আইডি তৈরি করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, “এই অনিয়মের ফলেই কংগ্রেস মাত্র ২২ হাজার ভোটে হেরে যায়। এটা গণতন্ত্র চুরির সমান।”
মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে কটাক্ষ
রাহুল হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সাইনি নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, “ভোটের ফলের পর মুখ্যমন্ত্রীর মুখে যে হাসি দেখা গিয়েছিল, সেটাই বলে দিচ্ছে— সব কিছু পরিকল্পনামাফিক হয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনের পাল্টা জবাব
রাহুলের সাংবাদিক বৈঠকের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে। কমিশন জানায়, “হরিয়ানার ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও আপিল জমা পড়েনি। যদি ভুয়ো ভোটের সন্দেহ ছিল, তাহলে কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টরা বুথেই আপত্তি জানায়নি কেন?”
এক নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, “রাহুল গান্ধী এখন কি বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছেন, যা ডুপ্লিকেট, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দিতে সাহায্য করে? নাকি তিনি এরই বিরোধিতা করছেন?”
ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে এই নিয়ে রাহুল গান্ধীর তৃতীয়বার সাংবাদিক বৈঠক করলেন। এর আগে তিনি দুটি সম্মেলনে “ভোটার ডিলিশন” ও “ভোটার অ্যাডিশন স্ক্যাম”-এর অভিযোগ তুলেছিলেন। তখনই তিনি বলেছিলেন, তিনি শীঘ্রই এক “হাইড্রোজেন বোমা” ফাটাবেন — অর্থাৎ আরও বড় প্রমাণ প্রকাশ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতাতেই এবার সামনে এল “H Files” — যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। বিজেপি এখনও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে — রাহুল গান্ধীর সমস্ত অভিযোগ “ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”