তিরুবনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদের কথায়, এর ফলে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে যে রাজনীতিতে বড় জায়গা দখল করা কোনও কোনও পরিবারের সদস্যদের জন্মগত অধিকার।

শশী তারুর ও রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 4 November 2025 08:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফের সরব হয়েছেন কংগ্রেস (Congress) সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী তারুর (Shashi Tharoor)। এক নিবন্ধে নেহরু-গান্ধী পরিবারকে আবার নিশানা করেছেন তিনি। তারুরের কথায়, জওহরলাল নেহরু থেকে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, পরিবার কেন্দ্রীক রাজনীতি দেশের বিপুল ক্ষতি করেছে। তিরুবনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদের কথায়, এর ফলে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে যে রাজনীতিতে বড় জায়গা দখল করা কোনও কোনও পরিবারের সদস্যদের জন্মগত অধিকার।
বলাইবাহুল্য তারুরের নিবন্ধটি হাতিয়ার করে ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি। আশ্চর্যের হল তিনদিন আগে প্রকাশিত নিবন্ধটি নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ব্যক্তিগতভাবে হাত শিবিরের কিছু নেতা তারুরের বক্তব্য নসাৎ করে পাল্টা মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকের মতো আঞ্চলিক দলগুলিকে এই ইস্যুকে আক্রমণ করেছে।
তারুর অবশ্য এর আগেও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে একাধিকবার মুখ খুলেছেন, রাজনীতিতে যা বিজেপির বড় হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিকবার নেহরু-গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনীতিতে পরিবারবাদ কায়েমের অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন, পরিবারবাদ দেশের ভয়ঙ্কর ক্ষতি করে দিয়েছে। যদিও বিজেপির এই আক্রমণের জবাব দিতে বিরোধীরা বারে বারেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পাল্টা নিশানা করেছে। বাবার রাজনীতির ক্ষমতার হাত ধরে শাহ পুত্র দেশের ক্রিকেট বোর্ডের কর্ণধার। রাজ্যে রাজ্যে পদ্ম শিবিরের অনেক নেতার বিরুদ্ধেও পরিবারবাদ কায়েমের অভিযোগ আছে। তারপরও দমে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বারে বারে গান্ধী পরিবার ও কংগ্রেসকে নিশানা করে চলেছেন।
আশ্চর্যের হল, মোদীর সঙ্গে তারুরের কথার কোনও ফারাক নেই। তারুর বলেছেন, জওহরলাল নেহরু-ইন্দিরা গান্ধী-রাজীব গান্ধী-রাহুল গান্ধী-প্রিয়ঙ্কা গান্ধী—রাজনীতিতে এঁদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তবে এই ধারাবাহিকতায় একটা বিপজ্জনক ধারণা তৈরি হয়েছে যে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়াটা কোনও কোনও পরিবারের সদস্যদের জন্মগত অধিকার। লক্ষণীয় হল, তারুর প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর নাম উল্লেখ করেননি নিবন্ধে। গান্ধী পরিবারের এই বধূই এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের দীর্ঘতম সময় সভাপতি ছিলেন। অদূর ভবিষ্যতে কারও পক্ষে সনিয়ার ওই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা কম।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তারুরের নিবন্ধটি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। জানা যাচ্ছে, শীর্ষ মহলে দুটি মত আছে। একদলের বক্তব্য, তারুর এমন বলেই থাকেন। এইভাবেই তিনি দলে নিজেকে কোণঠাসা করে তুলেছেন। ফলে জবাব দিয়ে তাঁর গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
আর একদলের বক্তব্য, তারুরের নিবন্ধের বক্তব্য এখন শুধু আর তাঁর বিষয় নয়। বিজেপি ওই নিবন্ধ হাতিয়ার করে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে নিশানা করেছে। তাঁরা বিহারের ভোটের প্রচারে কংগ্রেসকে আরডেডি এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারকে লালুপ্রসাদ যাদবের ফ্যামিলির সঙ্গে তুলনা টানছে। দলের উচিৎ হবে নেহরু থেকে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, দল ও দেশের জন্য এই পরিবারের অবদান পাল্টা প্রচারে তুলে ধরা।