আমূল গার্ল। দেশের প্রতিটি কোণায় বড় রাস্তার ধারে বিশালাকার ব্যানার-ফ্লেক্সে আমূল মাখনের বিজ্ঞাপনে যে আদুরে কন্যার ছবি দেখা যায়, সেটা আদতে কার আদলে তৈরি?

এই ম্যাসকটটি কোনও শিল্পীর আঁকা কল্পিত ছবিও নয়।
শেষ আপডেট: 22 August 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমূল গার্ল। দেশের প্রতিটি কোণায় বড় রাস্তার ধারে বিশালাকার ব্যানার-ফ্লেক্সে আমূল মাখনের বিজ্ঞাপনে যে আদুরে কন্যার ছবি দেখা যায়, সেটা আদতে কার আদলে তৈরি? এটাই অনেকে জানেন না যে, এই ম্যাসকটটি কোনও শিল্পীর আঁকা কল্পিত ছবিও নয়। সত্যিকারের জলজ্যান্ত এক কন্যার প্রতিরূপ। সবজান্তারা এও হয়তো জানেন না, এই আমূল গার্লের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কংগ্রেস এমপি শশী তারুরের। কীভাবে? সবুর করুন! দীর্ঘ একটি কাহিনি বলতে একটু তো সময় লাগবেই!
ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়া ধ্যানীরা এই বিষয়ের উপর জোর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাহলে জেনে নেওয়া যাক ভারতের দক্ষিণ প্রান্ত সুদূর কেরলের তিরুবনন্তপুরমের লোকসভা সদস্য শশী তারুরের সঙ্গে আমূল গার্লের সম্পর্ক কী! গল্পের জন্য পিছিয়ে যেতে হবে অনেক দূরে। সেটা ১৯৬১ সাল। যখন দেশজুড়ে চলছে শ্বেত বিপ্লব। অর্থাৎ, দেশের দুগ্ধ বিপ্লব। গুজরাতের একটি সাদামাঠা ছোটখাট ডেয়ারি কোঅপারেটিভ আমূল সমবায় আন্দোলনের সংজ্ঞাতেই বদল এনে দেয়। যা বর্তমানে প্রায় ৪১০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড।
আমূল সমবায় সেই সময় একটি মেয়ের কথা ভাবছিল, যাকে দিয়ে একটি ট্রেড মার্ক তৈরি করা যায়। সেকালের বিজ্ঞাপন জগতের হি-ম্যান সিলভেস্টার ডা কানহার অনুসন্ধানী চোখ ততদিনে মডেল হতে চাওয়া কয়েকশো বাচ্চা ও মেয়ের ছবি দেখে ফেলেছেন। সেই সময় তাঁর চোখ পড়ে তারুর পরিবারের মেয়ে শোভার দিকে। পরে রঙিন বিজ্ঞাপনের জন্য তারুর পরিবারের আর এক মেয়ে স্মিতাকেও বাছাই করা হয়। এভাবেই তারুর পদবির সঙ্গে জুড়ে যায় আমূলের আইকনিক ম্যাসকট।
সিলভেস্টারের বিজ্ঞাপন এজেন্সি দেশের প্রায় ৭১২টি বাচ্চা মেয়ের ছবি তুলেছিল এবং তিনি নিজে তাদের দেখেছিলেন। কিন্তু, কাউকেই পছন্দ হয়নি। তখন কানহা তাঁর বন্ধু চন্দন তারুরকে বিষয়টি বলেন। চন্দন তারুর হলেন শশী তারুরের বাবা। বন্ধুর প্রস্তাব শুনে চন্দন তারুর তাঁর মেয়ের ছবি পাঠান। ছোট্ট একটি প্যাকেটে আসা শোভার ছবি দেখে একবাক্যে তাকেই বাছাই করে নেয় জহুরির চোখ। ছবিতে শোভা একটি পোলকা ডট ড্রেস পরেছিলেন এবং মাথায় বাঁধা ছিল ছোট্ট একটি পনি টেল। অনেকের মতে, ছবিটি তুলেছিলেন পরবর্তীতে বিখ্যাত চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগল। আর সেটাই হয়ে গিয়েছে যুগান্তকারী প্রতীক।
আমূল গার্ল হওয়ার অনেক বছর পর শোভা ১৯৭৭ সালে মিস কলকাতা নির্বাচিত হন। পরে রঙিন আমূল গার্ল স্মিতা তারুর মিস ইন্ডিয়ায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন। শোভা ও স্মিতা দুজনেই শশী তারুরের বড় বোন। বড় মেয়ে হলেন শোভা। ২০১৬ সালে এই সত্যটা ফাঁস করেন শশী তারুর নিজেই। একটি নিবন্ধে তিনি আমূল গার্লের রহস্য উন্মোচন করেন।