এই প্রাণীর চোয়ালের হাড়ই ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার, তবে আরও অনেক কিছু পাওয়া গিয়েছে, যেমন, দাঁতের টুকরো, মাছের আঁশ, বিভিন্ন হাড় ও এমনকি পাথর হয়ে যাওয়া পশুদের মল (যাকে বলা হয় Coprolite)।

ডায়নোসরেরও আগে অস্তিত্ব ছিল 'ভোরের দেবী'র
শেষ আপডেট: 10 July 2025 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর বুকে যখন ডায়নোসরের রাজত্ব শুরু হয়নি, সেই সময় থেকেই আকাশে উড়ে বেড়াত এক বিশালাকৃতির 'উড়ন্ত' সরীসৃপ। প্রায় ২০ কোটি ৯ লক্ষ বছর আগে এমন এক প্রাণীর অস্তিত্ব (200 million year old flying reptile species) ছিল বলে দাবি করলেন বিজ্ঞানীরা। আমেরিকার অ্যারিজোনার মরুভূমি এলাকায় পাওয়া একটি জীবাশ্মর সূত্র ধরেই জানা গেল, এটি একেবারে নতুন ধরনের এক পটেরোসর (Pterosaurs) বা উড়ন্ত সরীসৃপ।
২০১৩ সালে বিজ্ঞানীরা এই জীবাশ্মটি খুঁজে পান। তখন অবশ্য তাঁরা বুঝতে পারেননি যে এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনও প্রজাতি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি একেবারে নতুন প্রজাতির পটেরোসর, যাকে সহজ ভাষায় বলে উড়ন্ত সরীসৃপ (Large Flying Reptile)।
এই নতুন প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে 'Eotephradactylus mcintireae', যার অর্থ ‘ছাই মাখা ডানায় উড়ে বেড়ানো ভোরের দেবী’। এই নামকরণ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্টরির বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, বহু বছর আগে একটি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে ছাইয়ে চাপা পড়ে গিয়েছিল প্রাণীটি। সেই ছাই-ঢাকা প্রাচীন নদীখাতেই আজও অক্ষত ছিল তার হাড়।
এই প্রাণীর চোয়ালের হাড়ই ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার, তবে আরও অনেক কিছু পাওয়া গিয়েছে, যেমন, দাঁতের টুকরো, মাছের আঁশ, বিভিন্ন হাড় ও এমনকি পাথর হয়ে যাওয়া পশুদের মল (যাকে বলা হয় Coprolite)।
গবেষক ক্লিগম্যান জানান, 'ট্রায়াসিক যুগের পটেরোসরদের হাড় খুবই ছোট, পাতলা এবং ভিতরটা ফাঁপা থাকে, ফলে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।' তবে যেখানে এই প্রাণীটির হাড় পাওয়া গেছে, সেটি ছিল প্রায় ২০ কোটি বছর আগের একটি নদীখাত। জমে থাকা মাটি আর ছাই জীবাশ্মগুলিকে সংরক্ষণ করে রেখেছিল।'
প্রাণীটির দাঁত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝেছেন, সে এমন কিছু খেত যার শরীর শক্ত খোলসে ঢাকা থাকত। সম্ভবত, সে সময়ে থাকা প্রাচীন মাছ, যাদের দেহে শক্ত আঁশ থাকত, তাদেরই শিকার করে খেত এই সরীসৃপ।
অ্যারিজোনার Petrified Forest National Park-এ এই ফসিলের আবিষ্কার হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই এলাকা যেন সেই সময়কার একটি জীববৈচিত্রের ছবির মতো, যেখানে একাধিক বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী একসঙ্গে বসবাস করত। সেখানে এই উড়ন্ত সরীসৃপ ছাড়াও মিলেছে প্রাচীন কুমির জাতীয় প্রাণী, উভচর ও এমন কিছু প্রাণীর চিহ্ন, যাদের সঙ্গে আজকের ব্যাঙ বা কচ্ছপের মিল পাওয়া যায়।
এই আবিষ্কার শুধু মার্কিন ভূখণ্ডে নয়, গোটা বিশ্বের বিজ্ঞান মহলে প্রবল কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কারণ এটি উত্তর আমেরিকায় পাওয়া এখনও পর্যন্ত প্রাচীনতম পটেরোসর অর্থাৎ ডায়নোসরের আগের যুগে উড়ন্ত জীবের অস্তিত্বের সবচেয়ে পুরোনো প্রমাণ।