পরিবেশ ও মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞানের অগ্রগতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন ড. প্রশান্ত শর্মা। তাঁকে সবাই একডাকে চেনে ‘ওয়াটার ম্যান’ নামে।

শেষ আপডেট: 6 June 2025 21:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রযুক্তি মানেই শুধু ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি আর জটিল সিস্টেম নয়, প্রমাণ করে ছাড়লেন ছত্তীসগড়ের এক বিজ্ঞানী। নিঃশব্দেই ঘটিয়ে ফেলেছেন এক বিপ্লব, সবুজ বিপ্লব বললেও ভুল হবে না। ভারতের দূষিত জলাশয় ও নর্দমা পরিষ্কারের যে পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, তা ইতিমধ্যেই গোটা দেশের নজর কেড়েছে। নেপথ্যে জীবনের ১৩ বছরের অক্লান্ত গবেষণা।
ছত্তীসগড়ের সুরগুজার বাসিন্দা ড. প্রশান্ত শর্মাকে সবাই একডাকে চেনে ‘ওয়াটার ম্যান’ নামে। জল পরিষ্কারে ব্যবহার করছেন এক বায়োলজিক্যাল (জৈব) বাহিনী।
ড. শর্মা প্রায় ১৩ বছর গবেষণা করে তৈরি করেছেন ‘ই-বল’- একটি জৈব গোলক, যার ভেতরে রয়েছে লক্ষ লক্ষ জীবাণু বা মাইক্রোবস। এরা প্রাকৃতিক ভাবে জলাশয়ের দূষিত উপাদানগুলিকে তারা ভেঙে ফেলে, দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। মেশিন বা কোনও রাসায়নিক ছাড়াই ধীরে ধীরে জল পরিশ্রুত হয়ে ওঠে।
অম্বিকাপুর পুরসভা-র সহায়তায় এই পদ্ধতির প্রথম বাস্তব প্রয়োগ হয়। যেখানে নানা ধরনের রাসায়নিক ও যান্ত্রিক চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানে ‘ই-বল’ ব্যবহারে দূষিত নর্দমা ও আবর্জনাভরা পুকুর হয়ে ওঠে পরিষ্কার ও প্রায় পানযোগ্য। BOD, COD, pH লেভেল এবং জলের নানা পরীক্ষাও এই কথা নিশ্চিত করেছে।
‘ই-বল’-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি জলাশয়ের মধ্যে জীবাণুদের এক বাহিনি গড়ে তুলে তাদের টিকে থাকার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে জল পরিষ্কার করার এই কাজ করে যায়। ফলে প্রতিবার নতুন করে কিছু প্রয়োগ করার দরকার পড়ে না। এই পদ্ধতি বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে না কারণ এতে কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না।
জল পরিশোধনের প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতি একরে বছরে খরচ পড়ে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। ‘ই-বল’ দিয়ে মাত্র ৭ হাজার টাকায় সেই একই কাজ সম্ভব, কম খরচে এটা এক পরিবেশবান্ধব সমাধান তো বটেই।
ড. প্রশান্ত শর্মা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার পর, আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও পোল্যান্ডে আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি ফিরে আসেন নিজের শহর অম্বিকাপুরে, যাতে এখানকার পরিবেশের কিছু বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
‘ই-বল’ শুধু জল পরিষ্কারের পদ্ধতি নয়, এটা এক ধরনের সবুজ বিপ্লব। যেখানে পরিবেশ ও মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞানের অগ্রগতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন ড. প্রশান্ত শর্মা। দেশের বিভিন্ন অংশে এই মডেল ছড়িয়ে পড়লে, ভারতের বহু নদী, নালা ও পুকুর হয়তো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।