কথা বলতে না পারা তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হতে পারে, কিন্তু সেটা জীবনে কোথাও বাধা নয়, তা যেন এইভাবেই বারবার প্রমাণ করে চলেছেন তিনি (specially abled delivery agent Ambala Cantonment)।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 23 November 2025 18:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে সবাই তো জীবনে সব কিছু পায় না (struggle in life)! কিন্তু সেটাকেই ভবিতব্য মেনে এক কোণে বসে থাকা পরাজয়েরই নামান্তর নয় কী? জীবন তার নিজের নিয়মেই চলবে, আমাদের তার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে। শুধু তাই নয়, সমাজের মূলস্রোতের সঙ্গে মিশেই চলতে হবে - এমনই উদাহরণস্বরূপ (challenge in life viral story) অনেক মানুষ নিঃশব্দে জীবনের সাজিয়ে দেওয়া প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত (life struggle inspirational story)। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় তেমনই এক ঘটনা উঠে এল, হরিয়ানার আম্বালা ক্যান্টনমেন্ট (Ambala Cantonment) থেকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় @Sammy_Dil Se নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল (inspirational viral video) হয়েছে। যা এক লাখেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। ভিডিও বলছে, এক ব্যক্তি, যিনি ব্লিঙ্কিটের ডেলিভারি এজেন্ট (specially abled delivery agent Ambala Cantonment), কথা বলতে পারেন না। তাই তিনি সামনে থাকা ব্যক্তির (যিনি এক ভিডিওটি করছেন) কাছে অনুরোধ করছেন ফোনের ওপারে থাকা মানুষটির কাছ থেকে ঠিকানাটা সঠিক বুঝে নিয়ে তাঁকে যেন বুঝিয়ে দেন কোথায় যেতে হবে।
ভিডিও যিনি বানাচ্ছেন তিনি ভাল করে ঠিকানা বুঝে নিয়ে ওই ডেলিভারি এজেন্টকে বুঝিয়েও দেন, কোথায় যেতে হবে তাঁকে। তিনি স্কুটি ঘুরিয়ে পৌঁছে যান তাঁর গন্তব্যে।
প্রসঙ্গত, বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের পাশে থাকতে এগিয়ে এসেছে ব্লিঙ্কিট (Blinkit), জোম্যাটোর (Zomato) মতো স্টার্টআপ কোম্পানি (Startups in India)। সমাজে তাঁদের একটা জায়গা তৈরি করে দেওয়ার নেপথ্যে এই কোম্পানিগুলির ভূমিকাও কম কিছু নয়। এরকম বহু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
কোথাও অর্ডার পৌঁছে দিতে গিয়ে ঠিকানা বোঝার অসুবিধা হলে আশপাশে থাকা কোনও না কোনও সহৃদয় মানুষ ঠিক এগিয়ে আসেন। এভাবেই যেন জীবনের দেওয়া চ্যালেঞ্জকে পালটা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সমাজের মূলধারায় নিজের জায়গা করে নেওয়া।
ওই ব্যক্তি যে কথা বলতে পারেন না, তা তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হতে পারে, কিন্তু সেটা যে তাঁর জীবনের গতিপথে কোথাও বাধা নয়, তা যেন এইভাবেই বারবার প্রমাণ করে চলেছেন তিনি। তাঁর মতো আরও বহু মানুষ। প্রতিবন্ধকতার চোখে চোখ রেখে বারবার ঝালিয়ে নেওয়া নিজেকে। যতক্ষণ শ্বাস আছে, জীবন প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে ঠিকই, কিন্তু হার না-মানা এক অদম্য জেদই যে 'আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না'র জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার এক মশাল, এই ভিডিও-ই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
প্রসঙ্গত, ২১ নভেম্বর থেকে গোটা দেশে কার্যকর হয়েছে চারটি নতুন শ্রম কোড (New Labour Code)। এবার ভারতের শ্রম আইনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীরা (gig and platform workers) - যাঁরা আদতে শহুরে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ডেলিভারি এজেন্ট, রাইড-হেলিং ড্রাইভার, সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের কর্মী, ফ্রিল্যান্সার - সবাই এখন দেশের শ্রম কাঠামোর অংশ হিসেবে চিহ্নিত হলেন (gig and platform workers recognition law)। এও এক জয়ই বটে!