ভারতের শ্রম আইনে (New Labour Code) প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি পেলেন গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীরা - যাঁরা শহুরে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি (gig and platform workers law)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 November 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ নভেম্বর থেকে গোটা দেশে কার্যকর হল চারটি নতুন শ্রম কোড (New Labour Code)। এবার ভারতের শ্রম আইনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীরা (gig and platform workers) - যাঁরা আদতে শহুরে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ডেলিভারি এজেন্ট, রাইড-হেলিং ড্রাইভার, সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের কর্মী, ফ্রিল্যান্সার - সবাই এখন দেশের শ্রম কাঠামোর অংশ হিসেবে চিহ্নিত হলেন (gig and platform workers recognition law)।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন অ্যাগ্রিগেটর ও প্ল্যাটফর্ম কোম্পানিকে একটি বিশেষ তহবিলে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ দিতে হবে (Social security for gig workers India)। এই তহবিল থেকেই গিগ কর্মীদের জন্য দেওয়া হবে বিভিন্ন সুবিধা -
ভারতের জনকল্যাণ-ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ এই নতুন শ্রম আইন
১৯৩০ থেকে ১৯৫০-এর দশকে গড়ে ওঠা বহু শ্রম আইনই এতদিন যেসব স্বীকৃতি দেয়নি, এবার তা কার্যকর হতে চলেছে। মনে করা হচ্ছে এটি গত কয়েক দশকে ভারতের সামাজিক সুরক্ষা নেটের অন্যতম বড় বিস্তার। এবার দেশজুড়ে কোটি কোটি গিগ কর্মী জীবনের যে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতেন, এবার তাঁদের ন্যূনতম সুরক্ষাটুকু নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মীদের জন্য এক জাতীয় ডেটাবেস, যার মাধ্যমে -
অর্থাৎ, একজন গিগ কর্মী যদি দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু বা কলকাতায় চলে যান, তাও তাঁর সুবিধা হারবে না।
কেন এটি জরুরি?
দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা গিগ ইকোনমি - জোমাটো, সুইগি, উবের, ওলা, আরবান কোম্পানি–সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু এতদিন এই ক্ষেত্রে কর্মীরা কোনও সামাজিক সুরক্ষা পেতেন না। নতুন শ্রম কাঠামো এবার তাঁদের সেই অধিকারই নিশ্চিত করল।
কেন্দ্রের দাবি, এই সংস্কার ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর পথে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ— যা ৪০ কোটিরও বেশি শ্রমিককে প্রথমবারের মতো বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনবে। নতুন শ্রম কোড, Code on Wages 2019, Industrial Relations Code 2020, Social Security Code 2020 এবং Occupational Safety, Health and Working Conditions Code 2020- দ্রুতগামী, স্বচ্ছ ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের পথে ভারতের ভিত আরও মজবুত করবে।
এদিকে, নতুন শ্রম আইন কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশের অন্তত ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন (Trade Unions)। তাঁদের অভিযোগ, একতরফা, প্রতারণামূলক ও শ্রমিক-বিরোধী (Anti-Worker) পথে এগোচ্ছে সরকার। বিবৃতিতে তাঁরা জানান, এই সিদ্ধান্ত শ্রমজীবী মানুষের বিরুদ্ধে 'প্রত্যক্ষ জালিয়াতি'।