সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ চাকরিদাতা ক্ষেত্র—আইটি ও আইটিইএস শিল্পে (Labour Codes In IT Sector)। নতুন শ্রম কোডে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদেরও এখন থেকে স্থায়ী কর্মীদের মতো সুবিধা দিতে বাধ্য থাকবে সংস্থাগুলি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 November 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশকের পর দশক পুরনো শ্রমআইনে (Labour Act) বড়সড় রদবদল এনেছে কেন্দ্র (Centre Government)। শুক্রবার থেকে কার্যকর হল কেন্দ্রের চারটি নতুন শ্রম কোড (News Labour Codes)। সরকারের দাবি, এর ফলে সহজ হবে নিয়মকানুন, আর শক্তিশালী হবে কর্মী নিরাপত্তা।
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ চাকরিদাতা ক্ষেত্র—আইটি ও আইটিইএস শিল্পে (Labour Codes In IT Sector)। নতুন শ্রম কোডে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদেরও এখন থেকে স্থায়ী কর্মীদের মতো সুবিধা দিতে বাধ্য থাকবে সংস্থাগুলি। এর মধ্যে থাকবে পিএফ, ইএসআইসি, বিমা, গ্র্যাচুইটি সহ সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা।
নাইটস–এর প্রেসিডেন্ট হরপ্রীত সিংহ সলুজা বলেন, “চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের এতদিন নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হত। নতুন কোডে তাঁদেরও একই সুবিধা দিতে হবে। আইটি শিল্পে অতিরিক্ত কাজ, সাপ্তাহিক ছুটি মার যাওয়া ও কাজের চাপ খুব সাধারণ বিষয়। এখন এগুলিতেও আরও স্পষ্ট নীতি আসবে।”
লিঙ্গ সমতা ও ‘ইক্যুয়াল পে’-তে জোর
শ্রম মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী,
আগে সংস্থাগুলির উপর মজুরি প্রদানের সময়সীমা নিয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন শ্রম কোডে বলা হয়েছে, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন দিতে হবে। এছাড়া হেনস্থার অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকবে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা থাকবে। প্রকল্পভিত্তিক কাজ করা হাজার হাজার কর্মীর জন্য বাড়তি সুরক্ষা থাকবে।
তবে সলুজার সতর্কবাণী, “অনেক সংস্থা ইতিমধ্যেই চুক্তির ফাঁকফোকড় ব্যবহার করে সুবিধা এড়ানোর চেষ্টা করছে। ফিক্সড-টার্ম জবের অপব্যবহার, জোর করে ইস্তফা— এসব ব্যাপক। নিয়ম ঠিক মতো প্রয়োগ না হলে এই সংস্কারের সুফল অধরাই থাকবে।”
শ্রম আইন আধুনিকীকরণের পথে বড় পদক্ষেপ
একসময় ২৯টি আলাদা শ্রম আইন ছিল। এখন তা চারটি কোডে একত্রিত। সরকারের দাবি, এতে আধুনিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সহজ হবে। শিল্প–সংগঠন ন্যাসকমও জানিয়েছে, পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে শিল্পে স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে। তবে রাজ্য–স্তরের আইনগুলির সঙ্গে কেন্দ্রীয় কোডের সমন্বয়ই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।