২০২০ সালেই এই কোডগুলি নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। ট্রেড ইউনিয়নগুলির যুক্তি, নতুন বিধান অনুযায়ী নিয়োগকর্তাদের শ্রমিক ছাঁটাই সহজ হবে, সমষ্টিগত দরকষাকষি কঠিন হবে এবং ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার অধিকার সংকুচিত হবে। ফলে শ্রমিকের সুরক্ষা ও অধিকার দুইই কমবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 November 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকার (Central Govt) শুক্রবার থেকে চারটি নতুন শ্রম কোড (New Labour Codes) কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশের অন্তত ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন (Trade Unions)। তাঁদের অভিযোগ, একতরফা, প্রতারণামূলক ও শ্রমিক-বিরোধী (Anti-Worker) পথে এগোচ্ছে সরকার। বিবৃতিতে তাঁরা জানান, এই সিদ্ধান্ত শ্রমজীবী মানুষের বিরুদ্ধে 'প্রত্যক্ষ জালিয়াতি'।
২০১৯ সালে সংসদে পাশ হয় ‘কোড অন ওয়েজেস’। পরের বছর তিনটি কোড - ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন্স কোড, কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি ও অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোড আইনসভার অনুমোদন পায়। এই চারটি কোড কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোট ২৯টি পুরনো শ্রম আইন বাতিল হয়ে গেল।
সরকারের দাবি, এই সংস্কারে ন্যূনতম মজুরি (Salary), নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার মতো অধিকার আরও বিস্তৃত হবে। কিন্তু শ্রম বিশেষজ্ঞ ও ইউনিয়নগুলির (Unions) মতে, দেশের বিপুল পরিযায়ী শ্রমিক, স্বনিযুক্ত ও হোম-বেসড কর্মীদের অধিকাংশই এর আওতার বাইরে রয়ে গেলেন।
২০২০ সালেই এই কোডগুলি নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। ট্রেড ইউনিয়নগুলির যুক্তি, নতুন বিধান অনুযায়ী নিয়োগকর্তাদের শ্রমিক ছাঁটাই সহজ হবে, সমষ্টিগত দরকষাকষি কঠিন হবে এবং ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার অধিকার সংকুচিত হবে। ফলে শ্রমিকের সুরক্ষা ও অধিকার দুইই কমবে।
শুক্রবার যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস, এআইটিইউসি, সিইটিইউ, হিন্দ মাজদুর সভা, সেল্ফ এমপ্লয়েড উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশন-সহ দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। তাঁদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পরামর্শ ছাড়াই কেন্দ্র অবাধ ও অত্যাচারীর মতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিকাঠামো ভাঙে।
ইউনিয়নগুলির (Trade Unions) দাবি, কোড কার্যকর না-করার জন্য তাঁরা সরকারকে বারবার অনুরোধ করেছিলেন। গত ১৩ নভেম্বর বৈঠকে ভারতীয় শ্রম সম্মেলন ডাকার দাবিও তোলা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র নীরব থেকেছে বলেই অভিযোগ।
বিজেপি (BJP) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) ১৪ নভেম্বর বিহার ভোটে বড় জয়ের পরই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্তে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে বলেও বিবৃতিতে কটাক্ষ করা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলির অভিযোগ, 'জনবিরোধী' শ্রম কোড আসলে শ্রমিকদের 'দাসত্বে ঠেলে দেওয়ার' নীতি।
২৬ নভেম্বর দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। কর্মস্থলে কালো ব্যাজ পরে ইউনিয়ন সদস্যদের প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের সতর্কবার্তা - নতুন শ্রম কোড প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।