কেরালার ৭০ বছর বয়সী লীলা জোস দুবাইয়ে ১৩,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে স্কাইডাইভিং করে তাক লাগালেন।

৭০ বছর বয়সী লীলা জোস
শেষ আপডেট: 23 September 2025 23:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স যে শুধুই একটা সংখ্যা, তা ফের প্রমাণ করলেন কেরালার বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী লীলা জোস। দুবাইয়ে ১৩,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে স্কাইডাইভিং করে তিনি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ইদুক্কি জেলার এই গৃহবধূ 'স্কাইডাইভ দুবাই' সংস্থার সঙ্গে এই দুঃসাহসিক কাজটি করে তার অভিজ্ঞতাকে 'স্বপ্নের মতো' বলে বর্ণনা করেছেন।
গল্ফ নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় লীলা জানান, তিনি আগে শুধু শুনেছিলেন যে মানুষ প্লেন থেকে লাফ দেয়, কিন্তু তিনি জানতেন না যে এর নাম স্কাইডাইভিং। তার এই অ্যাডভেঞ্চারের অনুপ্রেরণা ছিলেন তার প্রয়াত স্বামী এবং তার স্বপ্নকে সমর্থন জানান তার ছেলে আনিশ পি জোস।
লীলা জানান, একবার তিনি তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। তখন তারা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি দুবাইয়ে তার ছেলের কাছে বেড়াতে যান এবং একটি ড্রোন শো দেখছিলেন, তখন তার মনে এই স্বপ্নের কথা আবার জেগে ওঠে। তার পুত্রবধূও তাকে উৎসাহিত করেন। এরপর তার ছেলে আনিশ 'স্কাইডাইভ দুবাই'র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। লীলা বলেন, “আমরা নিশ্চিত ছিলাম না যে তারা ৭০ বছর বয়সী কাউকে গ্রহণ করবে কি না।”
স্কাইডাইভিং সেন্টারে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্মীরা প্রথমে ভেবেছিলেন আনিশই হয়তো স্কাইডাইভিং করবেন। যখন প্রশিক্ষক রায়ান বুঝতে পারলেন যে লীলা নিজেই স্কাইডাইভিং করতে এসেছেন, তখন তিনি নিশ্চিত হতে চান। লীলা বলেন, “আমার বয়স কোনও সমস্যা নয়, আমি ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত।”
They said at 71 your dreams have an “expiry date.” Leela Jose just proved that wrong and became Kerala’s oldest woman skydiver.
From the quiet hills of Konnathady in Idukki, Leela spent decades as a devoted homemaker, watching planes cross the sky and wondering what it might… pic.twitter.com/TvwTFCxoms— The Better India (@thebetterindia) September 17, 2025
অন্যান্য স্কাইডাইভারদের চেয়ে তিনি বয়সে বড় হলেও, লাফ দেওয়ার সময় তার মধ্যে কোনো জড়তা ছিল না। লীলা জানান, প্যারাসুট খোলার আগে তিনি যখন মুক্তভাবে নিচে নামছিলেন, তখন তিনি দুবাইয়ের আইকনিক ল্যান্ডমার্ক—যেমন পাম জুমেইরাহ এবং বুর্জ খলিফা—উপর থেকে দেখতে পাচ্ছিলেন। লীলা আরও বলেন, "যদিও আমি ইংরেজি বলতে পারি না, তবুও প্রশিক্ষকের সব নির্দেশনা বুঝতে পেরেছিলাম, এবং নিরাপদে অবতরণও হয়েছে।"
এই সফল স্কাইডাইভিংয়ের পর লীলা মহাশূন্যে যাওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি মহাশূন্যে যেতেও প্রস্তুত। কেন নয়? স্বপ্ন দেখার কোনও বয়স হয় না।” লীলার এই দুঃসাহসিক কাজ সারা বিশ্বের কাছে এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।