'ডাস্টিং' ট্রেন্ডটি মূলত নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এক ধরনের রাসায়নিক গ্যাস টেনে নেয়, যা মূলত কী-বোর্ড বা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম (Electronics Item) পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়।
_0.jpg.webp)
ছবি- গুগল
শেষ আপডেট: 8 June 2025 16:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড কেড়ে নিল এক তরুণীর প্রাণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ১৯ বছরের রেনা ভাইরাল 'ডাস্টিং' চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মৃত্যু হয় তাঁর (Arizona teen dies attempting ‘dusting’ challenge)। চিকিৎসকেরা তরুণীকে 'ব্রেন ডেড' (Brain Dead) ঘোষণা করেন।
'ডাস্টিং' ট্রেন্ডটি মূলত নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এক ধরনের রাসায়নিক গ্যাস টেনে নেয়, যা মূলত কী-বোর্ড বা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম (Electronics Item) পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। জানা যায়, এই গ্যাস শরীরে প্রবেশ করলে কিছু সময়ের জন্য মস্তিষ্কে এক ধরনের উত্তেজনা ও ঘোরের অনুভূতি তৈরি হয়, যা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক এবং বিপজ্জনক। ভাইরাল হওয়ার আশায় এই মুহূর্তটিকেই ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হচ্ছে।
রেনার বাবা এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ' ও সবসময় বলত, বাবা দেখো, আমি একদিন বিখ্যাত হবোই,' তবে আমাদের যে চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যু দেখতে হবে তা কখনও কল্পনা করিনি।' মৃত তরুণীর মা বলেন, 'চ্যালেঞ্জের জন্য প্রয়োজনীয় স্প্রে (Chemical Spray) কিনতে কোনও পরিচয়পত্র লাগে না (No ID required)। এর কোনও গন্ধ নেই। দামও সস্তা। যে কারণে এটি বাচ্চাদের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।'
চিকিৎসকদের মতে, রাসায়নিক গ্যাস ফুসফুসে ঢুকে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। নিঃশ্বাসে টেনে নেওয়া এই রাসায়নিক সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রকে আঘাত করতে পারে, যার ফলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই এমন কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে একাধিকজন ‘ডাস্টিং’ চ্যালঞ্জ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
এই ঘটনার পর রেনার পরিবার চাইছে- আর কেউ যাতে এই মরণখেলায় না জড়িয়ে পড়ে, তার জন্য সর্বত্র সচেতনতা বাড়ানো হোক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই মর্মান্তিক ঘটনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ট্রেন্ড শুধুই বিপজ্জনক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও তরুণ প্রজন্মকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানের আচরণে নজর রাখা এবং সময় থাকতে সচেতন হওয়া, যাতে কোনওভাবেই তারা এমন প্রাণঘাতী চ্যালেঞ্জে অংশ না নেয়।