সভ্য সমাজে হালে তো পানি পেয়েছে লিভ-ইন কালচার, কিন্তু বেশ অনেক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বহু আগে থেকেই চলে আসছে এই প্রথা।

শেষ আপডেট: 7 June 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝড়জল পেরিয়েও নীরবে কিছু সম্পর্ক টিকে থাকে। যুগের পর যুগ পেরিয়েও যে প্রেম হাত ধরে রাখে, রাজস্থানের প্রত্যন্ত এক গ্রাম সাক্ষী থাকল এমন প্রেমের। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে বিয়ে করলেন দুই ‘তরুণ-তরুণী’। পাত্রের বয়স ৯৫, পাত্রী সবে ৯০ ছুঁয়েছেন।
গোটা জীবনটা ‘লিভ-ইনে’ থেকেছেন তাঁরা। শেষ বয়সে এসে প্রেমের সম্পর্কে সামাজিক শিলমোহর দিলেন দম্পতি। রাজস্থানের দুঙ্গারপুর জেলার আদিবাসী অধ্যুধিত এলাকা গলন্দরের এক গ্রাম। সেখানকার দুই মানুষের মিলনে সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা।
৭০ বছরের একসঙ্গে পথ চলা আরও দীর্ঘ হল তাঁদের। তবে এবার উৎসব হল, লোক জানাজানি হল। সাড়ম্বরে বিয়ে সারলেন ওই দু’জন।
সভ্য সমাজে হালে তো পানি পেয়েছে লিভ-ইন কালচার, কিন্তু বেশ অনেক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বহু আগে থেকেই চলে আসছে এই প্রথা। বিয়ে না করেন একসঙ্গে থাকতে পারেন দু’জন মানুষ। রাজস্থানের ভগদ অঞ্চল, যা দুঙ্গারপুর এবং বানস্বারা জেলার জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, সেখানে এই ধরনের প্রথা সামাজিক ভাবে স্বীকৃত। এই দম্পতি সেই সংস্কৃতি থেকেই উঠে এসে এমন এক দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন দুনিয়ার সামনে।
রমা ভাই খারারি এবং জিওয়ালি দেবী এতবছর ধরে একছাদের তলায় থেকেছেন, একটা গোটা জীবনের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন। ছয় সন্তান রয়েছে তাঁদের, যাঁদের মধ্যে চারজন সরকারি চাকুরে।
বড় ছেলের বয়স এখন প্রায় ৬০ বছর। নিজেদের জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন তাঁরা সবাই। জীবনসায়াহ্নে এসে তাঁদের ইচ্ছে হয় বিয়েটাই বা নয় কেন! বাবা-মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে ছেলেমেয়েরাই বিয়ের আয়োজন করেন তাঁদের।
‘বিন্দৌলি’ বা বিয়ের আগের অনুষ্ঠানে নাচ-গানে মেতে উঠলেন গ্রামের সবাই। আগুনের সামনে সাত পাক ঘুরে, জমজমাটি খাওয়া দাওয়া সেরে নববিবাহিত দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানালেন সকলে।
সারাটা জীবন… হয়তো তার পরেও জুড়ে থাকার অঙ্গীকার করলেন নববিবাহিত ‘যুগল’।