বর্তমানে দুই বোন মিলে একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালান, যেখানে তাঁদের ফলো করেন ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ। সম্প্রতি তাঁরা একসঙ্গে উদযাপন করেছেন পুনর্মিলনের ২০ বছর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 June 2025 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাগ্য যেন নিজের হাতে লিখেছিল তাঁদের জীবনের চিত্রনাট্য। জন্মের দশ দিনের মাথায় দারিদ্র্যের কারণে দুই যমজ কন্যা সন্তানকে দত্তক দিয়েছিলেন তাঁদের বাবা-মা। শর্ত ছিল, একই শহরে থাক দুই বোন। তাই চিনের হেবেই প্রদেশের কোনও শহরের পরিবারকেই দত্তক দিতে চেয়েছিলেন। তাই হয়, তবে দুই বোনকে আলাদা পরিবার দত্তক নেয়। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর তারা জানতেই পারেনি সম্পর্কের কথা।
দু’জনই বড় হন একে অপরের অস্তিত্ব না জেনেই, একই শহরে, খুব কাছাকাছি। তবে ভাগ্যের খেলা এমনই, ১৭ বছর বয়সে কাকতালীয়ভাবে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে দুই তরুণীর মধ্যে। বন্ধুত্ব গভীর হয়, একসময় জানতে পারেন, তাঁরা আসলে একে অপরের যমজ বোন।
দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বোনের নাম ঝ্যাং গোসিন ও হাই চাও। হাই প্রথম জানতে পারেন, স্থানীয় একটি পোশাকের দোকানে থাকা এক কর্মী হুবহু তাঁর মতো দেখতে। কৌতূহলবশত গিয়ে দেখেন, চোখের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে যেন তাঁরই আরেক অবয়ব। ঝ্যাংকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই এক অদ্ভুত টান অনুভব করেন।
এরপরই একের পর এক মিল খুঁজে পেতে থাকেন তাঁরা। একই দিনে জন্মদিন, শিশুকালে একই বয়সে প্রাণঘাতী অসুস্থতা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা, একই চুলের স্টাইল, একই স্বাদের খাবারের প্রতি ঝোঁক, এমনকি কণ্ঠস্বরও প্রায় এক।
দু’জনই দ্রুত হয়ে ওঠেন অবিচ্ছেদ্য বন্ধু। সংবাদ মাধ্যমকে হাই বলেন, 'আমরা সবকিছু নিয়ে কথা বলতাম, একে অপরকে ছাড়া চলত না।'
অথচ এতদিন দুই দত্তক পরিবারই জানতেন, তাঁরা যমজ। কিন্তু ভয় ছিল, যদি কখনও জন্মদাতা বাবা-মা ফিরে এসে তাঁদের ফিরিয়ে নেন। সেই আশঙ্কা থেকেই এতদিন গোপন রাখা হয় বোনদের সম্পর্ক। অবশেষে ১৪ মাস পর তাঁদের জানানো হয় সত্যি তাঁরা একে অপরের রক্তের সম্পর্কের বোন।
কে বড় বোন হবেন, তা ঠিক করতে ‘রক-পেপার-সিজ়ার্স’ খেলেন দু’জন। জেতেন ঝ্যাং। পরে পরিবারের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়, তিনিই আগে জন্মেছিলেন।
যদিও এখানেই শেষ নয় গল্প। নিজেদের অজান্তেই তাঁরা একই পাড়ার ফ্ল্যাটে বাড়ি কেনেন। এখন দু’জনের বয়স ৩৭। আশ্চর্যজনকভাবে তাঁদের সন্তানের বয়সও এক, ১৩ বছর। এবং স্কুলে পড়ে একই ক্লাসে। হাই বলেন, 'শিক্ষকরাও মাঝে মাঝে বুঝতে পারেন না কার মা আমি আর কার মা ঝ্যাং।'
বর্তমানে দুই বোন মিলে একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালান, যেখানে তাঁদের ফলো করেন ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ। সম্প্রতি তাঁরা একসঙ্গে উদযাপন করেছেন পুনর্মিলনের ২০ বছর।
এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, 'গত কুড়ি বছরের প্রতিটি দিনই ছিল আনন্দের। তোমাকে পেয়েছি, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চলো, এগিয়ে যাই আরও কুড়ি বছরের দিকে।'