জন্মের পর ছেড়ে যায় মা, আর তার পর থেকেই এক সফট-টয়কে (soft toy) আঁকড়ে ধরে বড় হচ্ছে ছোট্ট বানর ছানা ‘পাঞ্চ’। জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার এই হৃদয়স্পর্শী ভিডিও মুগ্ধ করেছে নেটিজেনদের।

পাঞ্চ
শেষ আপডেট: 22 February 2026 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাপানের ছোট্ট বানর শাবক পাঞ্চকে (Punch) ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। মাত্র সাত মাস বয়সি এই জাপানিজ মাকাক শাবকটিকে কিনতে ২.৫ লক্ষ মার্কিন ডলার (USD 250,000) অফার করলেন বিতর্কিত ব্রিটিশ ইনফ্লুয়েন্সার ট্রিস্টান টেট (Tristan Tate)—অ্যান্ড্রু টেটের ভাই। আর তাতেই চোখ রাঙাচ্ছেন নেটিজেনরা, উঠছে নৈতিকতার প্রশ্ন।
More information about Punch, the baby monkey at Ichikawa Zoo in Japan.
He was abandoned by his mother shortly after birth and has been hand‑raised by zookeepers.
They gave him a plush orangutan toy, which he carries everywhere, hugging it while he sleeps, using it for… pic.twitter.com/qn1fO7Wu1n— Volcaholic 🌋 (@volcaholic1) February 14, 2026
২০২৫ সালের জুলাইয়ে জন্মানো পাঞ্চকে জন্মের পরই ফেলে দেয় তার মা। শুরু হয় জুকিপারদের হাতে বড় হওয়া। সেই সময়েই তার সঙ্গী হয় একটি লাল রঙের প্লাশ ওরাংওটাং খেলনা—যেটিকে পাঞ্চ ডাকনাম দিয়েছে ‘ওরা-মা’ (Ora-mama)। ইচিকাওয়া সিটি জু (Ichikawa City Zoo)-র জুকিপার কোস্কে শিকানো (Kosuke Shikano) জানান, এই খেলনাটার লোম লম্বা, ধরা সহজ। দেখতে একটু বানরের মতোও লাগে। ওটার সঙ্গে মিশলে পাঞ্চকে বাকিদের দলে ফিরিয়ে দিতে সুবিধে হবে—সেই ভেবেই ওটা বেছে নেওয়া হয়েছিল।
ওই শিশু শাবক খেলনাটিকে আঁকড়ে ধরার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে। সেখান থেকেই শুরু হয় ট্রিস্টান টেটের আগ্রহ। এক ভাইরাল ক্লিপ রিপোস্ট করে ট্রিস্টান (Tristan) এক্স–এ লেখেন—“Which zoo owns this monkey. @Cobratate and I will buy it.”
পাশাপাশি তিনি লেখেন, “অফারটা অনেক বড় এবং আমি মজা করছি না।”
স্বাভাবিকভাবেই শুরু বিতর্ক। কেউ বলছেন, টেট ভাইদের এই পদক্ষেপ শাবকটিকে ‘উদ্ধার’ করার মতো। কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, জু থেকে শাবক বানর কিনে নেওয়া কি আদৌ উচিত? একজন লেখেন, “ধন্যবাদ স্যার, আপনি চেষ্টা করেছেন এটাই অনেক।” আরেকজনের মত, “বাচ্চাটার ভাল বাড়ি দরকার। টেট ব্রাদার্স কিনলে মন্দ কী!”
আবার একদল মনে করিয়ে দিয়েছেন, শাবককে তার দল থেকে আলাদা করে নেওয়া অবিবেচনা। নেটিজেনদের একাংশের মত, “এটা শুধু অবাস্তবই নয়, নৈতিক দিক থেকেও জটিল।” আরেক ব্যবহারকারীর সতর্কতা, “বেশিরভাগ জু কখনও ব্যক্তিগত লোকেদের কাছে প্রাইমেট বিক্রি করে না। এগুলো আন্তর্জাতিক আইন (CITES) দ্বারা সুরক্ষিত।”
এদিকে, নতুন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—প্রথমে দলের অন্য সদস্যদের হাতে ঠেলাঠেলি খাওয়া পাঞ্চ অবশেষে ধীরে ধীরে অন্য বানরদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। অর্থাৎ জু–তেই তার সামাজিকীকরণ শুরু হয়েছে স্বাভাবিক ছন্দে।
টেটদের টাকার অফার তাই আদৌ ফলপ্রসূ হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। তবে একটা কথা স্পষ্ট, ‘ওরা–মা’কে আঁকড়ে থাকা এই ছোট্ট শাবকের গল্প আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ার হৃদয় জিতে নিয়েছে।