অল্প রোজগার সত্ত্বেও নিজের মানবিকতায় নজর কেড়েছেন এক ডেলিভারি বয়। তাঁর সামান্য উদ্যোগই হাজার মানুষের মন ছুঁয়ে গেল।

ডেলিভারি রাইডার
শেষ আপডেট: 3 February 2026 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের রাস্তায় ছুটে চলা অসংখ্য ফুড ডেলিভারি রাইডারের ভিড়ে তিনি আলাদা করে চোখে পড়েন না। কিন্তু কাজের শেষে হিসেবের খাতাটা খুললেই বোঝা যায়, এই তরুণের গল্প আর পাঁচজনের মতো নয়। আকাশ সরোজ (Akash Saroj)—২৪ বছরের এক ফুড ডেলিভারি এজেন্ট, যিনি প্রতিদিনের উপার্জনের বড় অংশ খরচ করে দেন এমন মানুষ আর প্রাণীদের জন্য, যাদের দিকে তাকানোর সময় অনেকেরই নেই।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত—ডেলিভারি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে চলেন আকাশ। নিজের সংসারের দায় আছে, সীমিত রোজগার আছে, ক্লান্তিও আছে। তবু তাঁর দিনের শেষে টাকার অঙ্কটা দিয়ে নিজের সুখ মাপেন না। সেই টাকায় কখনও কোনও রিকশাচালকের পেট ভরে, কখনও কোনও ভিখারির গায়ে জোটে কম্বল, কখনও বা রাস্তার কুকুর–গরুর ভাগ্যে জোটে একবেলা খাবার।
ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ রিকশাচালকের কাছে গিয়ে আকাশ জিজ্ঞেস করছেন, ‘খানা খায়ে হো?’ উত্তরে আসে, ‘পয়সা নেই।’ এখানেই থামেননি আকাশ। তাঁকে খাওয়ানোর পর খেয়াল করেন, রিকশার চাকা পাংচার। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যান মেকানিকের কাছে। নিজের পকেট থেকে ৫৫০ টাকা দিয়ে সারিয়ে দেন রিকশা। ভিডিওতে আকাশের কথাটা যেন পুরো গল্পটা বলে দেয়—‘আজকের রোজগার শেষ হয়ে গেল, কিন্তু বাবার খুশির সামনে সেটা কিছুই না।’
রাস্তায় রাস্তায় দায়িত্ববোধের পাঠ
আকাশের মানবিকতা কোনও একদিনের আবেগ নয়। প্রতিদিনের রুটেই তিনি খোঁজ রাখেন—কোথাও কেউ খিদেয় আছে কি না, কোথাও কোনও পশু অনাহারে আছে কি না। কখনও কুকুরকে দুধ–রুটি খাওয়ান, কখনও গরুকে দেন খাবার, কখনও বানরকে কলা। তাঁর মতে, ‘এটা আমার দায়িত্ব।’
শীতের রাতে গুরদ্বারের বাইরে কাঁপতে থাকা এক বৃদ্ধাকে কম্বল তুলে দেওয়ার ভিডিওও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে কোনও ক্যামেরার সামনে বক্তৃতা নেই, নেই আত্মপ্রচার। আছে শুধু নীরব একটা কাজ—মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।
বাবার শেখানো পথেই হাঁটা
আকাশের এই মানসিকতার শিকড় লুকিয়ে আছে তাঁর পারিবারিক শিক্ষায়। এক ভিডিওতে তিনি নিজেই লিখেছেন—বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলে যেন ‘ভাল মানুষ’ হয়। ক্যাপশনে লেখা, ‘মিস ইউ, পাপা।’ সেই শিক্ষাই আজ আকাশের জীবনের দিশা।
অনেকে যেখানে সফলতা মাপে ব্যাঙ্ক ব্যালান্সে, সেখানে আকাশের দর্শন আলাদা। তাঁর কথায়, ‘তুই শুধু দোয়া কামা, তারপর তোর থেকে ধনী কেউ নেই।’ ২৪ বছরের এই তরুণ প্রমাণ করে দিচ্ছেন—আসল সম্পদ টাকায় নয়, সহানুভূতিতে।