
বিয়ের আসরে পাত্র-পাত্রী।
শেষ আপডেট: 20 November 2024 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'টুয়েলফথ ফেল'ও নয়। টেনথ ফেল পাত্র। তাই গ্র্যাজুয়েট কনের নাপসন্দ। ফলে মালাবদলের পরেও ভেস্তে দিলেন বিয়ে। ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজন করা বিয়ের আসরের মাঝপথে চারহাত এক হতে গিয়েও হল না। আলোর রোশনাইয়ে জ্বলে উঠল প্রতিবাদের আলো। স্নাতক পাত্রীর অভিযোগ, তাঁর হবু বর সামান্য হলেও মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি দশম শ্রেণিতে ফেল। তাই এই বিয়ে তিনি করবেন না।
উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের মুস্তাফাবাদ কলা গ্রামের এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে নেট দুনিয়া। বরযাত্রী দল সেজেগুজে, নাচতে নাচতে বিয়ের আসরে এসে গিয়েছিল। সাধারণত, পণ-যৌতুকের দাবিদাওয়া নিয়ে বিয়ে ভেস্তে যায়। এমনকী পণ দিতে অপারগ বাবার দুরবস্থা দেখেও অনেক পাত্রী মণ্ডপ ছেড়ে উঠে যান। কিন্তু, এখানে একেবারে উলটপুরাণ ঘটল।
গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যার পর বর সহ বরযাত্রী নিয়ে পাত্রপক্ষ বিয়ের আসরে চলে এসেছিল। পাত্রীর বাড়ির লোক ও গ্রামবাসীরা তাঁদের আদর-আপ্যায়ণ করে জলখাবারের ব্যবস্থাও করেন। বিয়ের কিছু আচার-অনুষ্ঠানও কিছু সম্পন্ন হয়ে যায়। বিয়ের অতিথিরা খেতেও বসে যান।
কিন্তু, আচমকাই কনে উঠে দাঁড়িয়ে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। সঙ্গে সঙ্গে আসরে আনন্দ শুকিয়ে নেমে আসে অন্ধকার। সকলে মেয়ের এহেন দুঃসাহস দেখে অবাক হয়ে যান। কনের বাবার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তিনি দিল্লিতে দিনমজুরির কাজ করেন। অনেক কষ্টেসৃষ্টে তিনি বড় মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। অখণ্ডনগর থানা এলাকার ৩০ বছরের যুবকের সঙ্গে তিনি তাঁর ২৮ বছরের মেয়ের সম্বন্ধ করেছিলেন। বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করতেই পুলিশে যায় বরপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কনেকে অনুরোধ-উপরোধ করা সত্ত্বেও তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন পাত্রকে বিয়েতে রাজি হননি। তারপর থানায় বসে দুই পক্ষ দেনাপাওনার টাকা-যৌতুক ও অলঙ্কারসহ অন্যান্য সামগ্রী ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।