
নিঃসন্তান দম্পতি এবং ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর পাঙ্গুনি উথিরাম উৎসবের সময় ভগবান মুরুগার মন্দিরে যান এবং নিলাম করা লেবু কেনেন । প্রতিকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2024 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯টা পাতিলেবুর দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা!
না, কোনও সাধারণ পাতিলেবু নয়। মন্দিরের খাস প্রসাদী পাতিলেবু। এক একটি যেন অমৃত। মন্দিরের পুরোহিতদের বিশ্বাস, এই পাতিলবু খেলেই বন্ধ্যত্ব ঘুচে যাবে। কোল আলো করে আসবে সন্তান। তাই দামও চড়া।
এমন অবাক করা ঘটনা ঘটেছে তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরম জেলার ভগবান মুরুগার মন্দিরে পাঙ্গুনি উথিরাম উৎসব উপলক্ষে। এই মন্দিরের কথা দক্ষিণের লোকের মুখে মুখে ফেরে। ভগবান মুরুগা নাকি অসাধ্য সাধন করতে পারেন। তাঁর আশীর্বাদ পেলে সব বাধাবিঘ্ন কেটে যায়। তাই তাঁর প্রসাদী লেবু একেবারে নিলামে চড়িয়ে বিক্রি করা হয় লাখ লাখ টাকায়। এই লেবু কিনতে নাকি হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। নিঃসন্তান দম্পতিরা ভিড় জমান মন্দির চত্বরে।
তামিলনাড়ুতে চলেছে পাঙ্গুনি উথিরাম উৎসব৷ নিয়ম মেনে বছরের পর বছর ভিল্লুপুরম জেলার মুরুগা মন্দিরে ন’দিন ধরে ৯টি লেবু মুরুগা দেবতার বিগ্রহের সামনে উৎসর্গ করা হয়। ভগবানের কাছে উৎসর্গ করা এই লেবুকে অত্যন্ত শুভ মনে করেন ভক্তরা৷ তাঁদের বিশ্বাস, এই লেবু যদি কেউ বাড়িতে রাখেন তা হলে তাঁর জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসবে। তাই পুজোতে উৎসর্গ করা ওই লেবু সকলেই নিজের বাড়িতে রাখতে চান৷
মন্দিরের পুরোহিতরা বলেন, সন্তানহীন দম্পতিরা বাড়িতে এই লেবু নিয়ে গেলে তাঁদের কোলে আসে সন্তান। কয়েক দশক ধরে চলে আসা এমন ধারণা ওই এলাকার মানুষজনের মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছে৷ সেই কারণে লেবু কেনার জন্য এই মন্দিরের সামনে ভিড় জমান বহু মানুষ। সে লেবুর দাম যতই হোক না কেন। লোকমুখে শোনা যায়, ৪০-৫০ বছর আগে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে ভক্তদের মধ্যে লেবু দান করতেন। কিন্তু লেবু নেওয়ার হিড়িক দেখে তা নিলাম করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এমনও শোনা যায়, প্রথম দিনে যে লেবুটি নিলামে তোলা হয়, সেটিই সবচেয়ে সৌভাগ্যসূচক বলে মনে করা হয়। তারপর ৯দিন ধরে ৯টি লেবুর নিলাম হয়। প্রতিটা লেবুর দাম এক নয়। কোন লেবু কী দামে চড়ানো হবে তার দাম ঠিক করেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, এ বছর একটি লেবুরই নাকি দাম উঠেছিল ৫০ হাজার টাকা। ৯টি লেবুর মোট ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় নিলাম হয়েছে।