Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

Kalipuja 2025: ৪৫০ বছরের মন্দিরে রয়েছে মোঘল আমলের ছোঁয়া, ভোগে ডিম নিবেদনের প্রথা আজও রহস্য

কলকাতার শ্যামবাজার জয়কালী মন্দিরের বয়স ৪৫০ বছরেরও বেশি। দেবীর ভোগে ডিম নিবেদনের গল্প আজও রয়ে গেছে রহস্যে ঘেরা।

Kalipuja 2025: ৪৫০ বছরের মন্দিরে রয়েছে মোঘল আমলের ছোঁয়া, ভোগে ডিম নিবেদনের প্রথা আজও রহস্য

ছবি- সংগৃহীত

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 13 October 2025 15:57

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর কলকাতার হৃদয়ে, আজকের ব্যস্ত শহুরে জীবনের মাঝেও ইতিহাসের এক টুকরো নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শ্যামবাজার জয়কালী মন্দির। আনুমানিক ৪৫০ বছরেরও বেশি পুরনো এই ভক্তিস্থান শুধুই পুজার্চনার জায়গা, এমন নয়, একে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য গল্প। আর সেই সব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত, দেবীর ‘ডিম ভোগ’।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, যশোহরের সন্ন্যাসী লক্ষীনারায়ণ ব্রহ্মচারী এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন শ্যামবাজার অঞ্চলজুড়ে ছিল ঘন জঙ্গল, নির্জন শ্মশান আর বয়ে চলা আদি গঙ্গা। সেই সময় থেকেই জয়কালী দেবীর পুজো শুরু হয় এখানে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠে শ্যামবাজার, কিন্তু এই মন্দির আজও স্থানীয় মানুষের অগাধ বিশ্বাসের কেন্দ্র।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, মুরগির ডিমকে অশুভ বলে মনে করা হয় এবং পুজোয় তার ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু, একসময় এই মন্দিরেই দেবীকে নাকি ডিম ভোগ দেওয়া হয়েছিল। কথিত আছে, বহু বছর আগে এক ডিম ব্যবসায়ী নিজের ব্যবসার মঙ্গল কামনায় দেবীর উদ্দেশ্যে একটি মুরগির ডিম নিবেদন করতে চান। কর্তৃপক্ষ প্রথমে আপত্তি জানালেও, ব্যবসায়ী নাছোড়বান্দা ছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'মা যদি সত্যিই সবার প্রার্থনা শোনেন, তবে আমার ডিমই হবে আমার ভোগ।'

শেষমেশ তিনি মন্দিরের বাইরে থেকে দেবীর উদ্দেশ্যে সেই একটি ডিম নিবেদন করেন। এরপর না কি আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর ব্যবসার দ্রুত উন্নতি হয়। স্থানীয়রা তারপর থেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন, দেবী জয়কালী সেই ভোগ গ্রহণ করেছিলেন। যদিও বর্তমান মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এটি মূলত লোককথা, বাস্তবে এর কোনও প্রমাণ নেই। আজ এখানে শুধুমাত্র নিরামিষ ভোগই নিবেদন করা হয়।

মোগল আমলের ছোঁয়া পাওয়া যায় এই মন্দিরের স্থাপত্যে। শৈব ও শাক্ত মিলিত ধাঁচে গড়া ছোট্ট অথচ মনোমুগ্ধকর এই মন্দিরে প্রতিদিনই শতাধিক ভক্তের আগমন ঘটে। বিশেষ করে অমাবস্যা, কালীপুজো এবং শনিবারে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

আজও অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে দোকানদার কিংবা ছাত্রছাত্রী, সকলে একবারের জন্য থেমে মাথা ঝুঁকিয়ে নেন জয়কালী মন্দিরের সামনে। ‘ডিম ভোগ’ সত্য না কিংবদন্তি, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এই প্রাচীন মন্দির আজও কলকাতার এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যেখানে ভক্তি, ইতিহাস আর লোককথা মিলেমিশে একাকার।


```