প্রশ্ন উঠেছিল, সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার একজন মানুষ কীভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন? নিজের উচ্চতা বদলানো তাঁর হাতে ছিল না, তবে বদলে দিয়েছেন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 3 September 2025 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেহারা বা উচ্চতা দিয়ে মানুষকে বিচার করার প্রবণতা সমাজে নতুন নয়। কিন্তু আইএএস (IAS) অফিসার আরতি ডোগরার (IAS Arti Dogra) জীবনকাহিনি প্রমাণ করেছে, আসল শক্তি গড়ে ওঠে ভেতর থেকে। মাত্র সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার অধিকারী এই নারী শুধু নানা বাধা ভেঙে বেরোননি, ভেঙেছেন সমাজের কুসংস্কারের দেওয়ালও (IAS Aarti Dogra broke social stigma)। প্রমাণ করেছেন, স্বপ্নের কোনও সীমা নেই, আর পরিশ্রমের সামনে কোনও বাধাই বড় নয়।
দেরাদুনের আরতি ছোট থেকেই বাকিদের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা ছিলেন। অন্য বাচ্চারা যখন বয়সের নিয়মে ক্রমশ লম্বা হচ্ছিল, তখন তাঁর উচ্চতা সাড়ে তিন ফুটেই থেমে গেল। চারপাশে কৌতূহলী দৃষ্টি, ফিসফাস, আর মাঝে মাঝে ব্যঙ্গও ছিল নিত্যসঙ্গী। চারদিক থেকে যেন বারবার শুনতে হত - এই উচ্চতা নিয়েই বুঝি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল তাঁর জীবন।
কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ালেন বাবা-মা। বাবা কর্নেল রাজেন্দ্র ডোগরা আর মা কুমকুম ডোগরা (একজন স্কুল প্রিন্সিপাল) কখনও তাঁকে দুর্বল বা সীমাবদ্ধ মনে করেননি। ছোট থেকেই পড়াশোনা, খেলাধুলো আর স্বপ্ন দেখার জন্য তাঁকে উত্সাহিত করেছেন সমানভাবে। তাঁদের ভরসা আর ভালবাসাই ছিল আরতির দৃঢ় ভিত।
ছাত্রজীবনেও তিনি উজ্জ্বল ছিলেন। দেরাদুনে স্কুলের পড়াশোনার শেষে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি হল। এরপর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশনও শেষ হল। তবে শুধু ডিগ্রি নিয়ে কী হবে? আরতি তো দেশের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন। তাই লক্ষ্য স্থির করলেন ভারতের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলির একটি, UPSC সিভিল সার্ভিসেসের দিকে।
এই পথ অবশ্য খুব সহজ ছিল না। বারবার প্রশ্ন উঠেছিল, সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার একজন মানুষ কীভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন? কিন্তু আরতি জীবনের ঝড়ঝাপটা সামলে ততদিনে সন্দেহকে শক্তিতে পরিণত করতে শিখে গিয়েছেন। মন দিয়ে পড়াশোনা, অক্লান্ত চেষ্টা আর আত্মবিশ্বাসই হয়ে উঠল তাঁর হাতিয়ার।
অবশেষে UPSC পেরিয়ে IAS অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূর্ণ করলেন। কোনও সহানুভূতিতে ভর করে নয়, কেবলমাত্র যোগ্যতায়। আর দায়িত্ব হাতে পেতেই প্রমাণ করলেন নিজের দক্ষতা।
বুন্দি, বিকানের, আজমেরের জেলাশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। জোধপুর বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে তাঁর অসাধারণ কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির দ্বারাও সম্মানিত হয়েছেন।
কর্মজীবনে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলতের যুগ্ম সচিব ও বিশেষ সচিব পদে। বর্তমানে তিনি তথ্য, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ মানুষ আরতি ডোগরাকে দেখে শুধু তাঁর উচ্চতা দিয়ে বিচার করে না। তাঁকে দেখে অনুপ্রেরণা, কর্তৃত্ব আর সাফল্যের প্রতীক হিসেবে। নিজের উচ্চতা বদলানো তাঁর হাতে ছিল না, তবে বদলে দিয়েছেন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি।