বাস্তবে সান্তার এই যাত্রা প্রায় অসম্ভব, তবুও বিজ্ঞানের এই ব্যাখ্যা রূপকথায় একটু যুক্তির আলো যোগ করে। তাই বড়দিনের রাতে আকাশের দিকে তাকালে মনে হয়, বিজ্ঞান ও জাদু কখনও কখনও একসঙ্গেই চলতে পারে।

সান্তা ক্লজ
শেষ আপডেট: 25 December 2025 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়দিনের রাতে লাল পোশাকে হাসিমুখে সান্তা ক্লজ আকাশে উড়ে বেড়ান, এ যেন কল্পনার জগতের এক দৃশ্য। তবে এনিয়ে প্রতি বছরই একটা প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে যায়, কীভাবে সান্তা মাত্র এক রাতেই বিশ্বের কোটি কোটি শিশুদের বাড়িতে উপহার পৌঁছে দেন (How Santa delivers gifts)? শুনতে রূপকথার মতো লাগলেও, বিজ্ঞান, বিশেষ করে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব সান্তার এই ‘চমকপ্রদ’ যাত্রাকে কিছুটা হলেও যুক্তিযুক্ত করে তোলে।
বিশ্বে প্রায় ২৩০ কোটি শিশু রয়েছে। প্রতি পরিবারে গড়ে ২.৫ জন করে শিশু ধরলে, সান্তাকে (Santa Claus) উপহার দিতে যেতে হয় প্রায় ৯২ কোটি বাড়িতে। কিন্তু কীভাবে এত কম সময়ে এত বিশাল ভ্রমণ সম্ভব?
রাতের পেছনে ছুটে বাড়ে সময়
পৃথিবীর ঘূর্ণন আর ভিন্ন ভিন্ন টাইম জোনের কারণে সান্তার (Santa Claus facts) হাতে একরাতের বদলে প্রায় ৩১ ঘণ্টা সময় থাকে। তিনি পূর্ব থেকে পশ্চিমে রাতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোন। যেখানে রাত শেষ হচ্ছে, সেখান থেকে দ্রুত এমন অঞ্চলে চলে যান যেখানে রাত সবে শুরু হয়েছে। এতে তাঁর কাজের জন্য কয়েক ঘণ্টা বাড়তি সময় তৈরি হয়। এই বাড়তি ৩১ ঘণ্টায় যদি সান্তাকে ৯২ কোটি বাড়ি ঘুরতে হয়, তাহলে তাঁকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮ হাজার ২০০টি বাড়ি ভিজিট করতে হবে।
অবিশ্বাস্য গতি ও বিজ্ঞানসম্মত চ্যালেঞ্জ
ক্লাসিক্যাল (প্রচলিত) হিসেব বলছে, সান্তাকে বড়দিনের রাতে প্রায় ১০ কোটি কিলোমিটার পথ উড়ে যেতে হয় (Santa travel distance)। এত দূরত্ব অতিক্রম করতে তাঁর গতি হতে হবে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার, যা আলোর গতির প্রায় ০.৩ শতাংশ। এ রকম গতিতে বাতাসের ঘর্ষণ, প্রচণ্ড তাপ আর চাপ—সব মিলিয়ে সাধারণ স্লেজ বা রেইনডিয়ারের পক্ষে টিকে থাকা একেবারেই অসম্ভব।
উপহারও কম নয়। যদি প্রতিটি শিশুর জন্য মাত্র ১ কেজি করে উপহার ধরা হয়, তা হলে মোট বোঝা দাঁড়ায় প্রায় ২৩ লাখ টন। এই ওজন টেনে নিয়ে যাওয়াও ন’টি রেইনডিয়ারের পক্ষে কল্পনার বাইরে। এর ওপর প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার বার থামা–শুরু করার ফলে যে ভয়ানক চাপ (জি–ফোর্স) তৈরি হবে, তা কোনও জীবজন্তুই সহ্য করতে পারবে না।
এবার আসরে আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা
এখানেই বিজ্ঞান একটু গল্পকে বাঁচায়। আপেক্ষিকতার তত্ত্ব বলে, কেউ যদি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলে, তার কাছে সময় ধীরে কেটে যায়, যাকে বলে 'টাইম ডাইলেশন'। তাই পৃথিবীতে ৩১ ঘণ্টা কেটে গেলেও সান্তার স্লেজে সময় কিছুটা বেশি পাওয়া যেতে পারে। আর সেই বাড়তি সময়ই তাকে অসম্ভব কাজটিকে সম্ভব করার সুযোগ দেয়।
বিজ্ঞান আর রূপকথার মিলেই বড়দিনের জাদু
বাস্তবে সান্তার এই যাত্রা প্রায় অসম্ভব, তবুও বিজ্ঞানের এই ব্যাখ্যা রূপকথায় একটু যুক্তির আলো যোগ করে। তাই বড়দিনের রাতে আকাশের দিকে তাকালে মনে হয়, বিজ্ঞান ও জাদু কখনও কখনও একসঙ্গেই চলতে পারে।