বিজ্ঞানীরা বলছেন,এখনই ব্যবস্থা না নিলে, প্রতিদিন নিঃশ্বাসের সঙ্গে যে পরিমাণ প্লাস্টিক শরীরে জমছে, তার ফল ভয়ানক হতে বাধ্য।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে সতর্কবার্তা নতুন নয়। তবু গত কয়েক বছরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিপদ ঘিরে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা এবার আরও ঘনীভূত।
কারণ, দেশের চার মেট্রো শহরের বায়ুতে ভাসমান মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আইসারের রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, সবচেয়ে বেশি শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্লাস্টিক (Plastic in the breath) ঢুকছে রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় (Kolkata tops the list of four metros)।
দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বই— সবকে পিছনে ফেলে দূষণের এই নতুন সূচকে শীর্ষে তিলোত্তমা। আইসারের আর্থ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক গোপালকৃষ্ণ দার্ভার নেতৃত্বে চার মেট্রো শহরের বাতাস থেকে নেওয়া নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক পাইরোলেসিস গ্যাস-ক্রোমাটোগ্রাফি/মাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তিতে।
পরীক্ষা করা হয়েছে দুই ধরনের কণার পরিমাণ- পিএম ১০ (১০ মাইক্রোমিটার), পিএম ২.৫ (২.৫ মাইক্রোমিটার)।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর ফলাফল ফল দেখিয়েছে ভয়ানক বাস্তব: কলকাতা: প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১৪.২৩ মাইক্রোগ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক, দিল্লি: ১৪.১৮ মাইক্রোগ্রাম, চেন্নাই: প্রায় ৪ মাইক্রোগ্রাম এবং মুম্বই: মাত্র ২.৬৫ মাইক্রোগ্রাম{ আরও উদ্বেগের: পিএম ১০ ও পিএম ২.৫— দুই ক্ষেত্রেই মোট কণার প্রায় ৫ শতাংশই প্লাস্টিক।
কেন কলকাতা এত বেশি দূষিত?
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, দিল্লির মতো দূষণের জন্য কুখ্যাত শহরকে পিছনে ফেলে কলকাতার শীর্ষে উঠে আসা প্রথমে বিস্ময় জাগালেও গবেষকরা বলছেন— এর যুক্তি পরিষ্কার।
প্রধান উৎস: পলিয়েস্টার মিশ্রিত পোশাক, প্লাস্টিক প্যাকেট ও প্যাকেজিং, জুতোর উপাংশ, গাড়ির বিভিন্ন প্লাস্টিক যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক-ভিত্তিক সজ্জা সামগ্রী। কলকাতার বিশেষ কারণগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-শহরজুড়ে অসংগঠিত বাজারের আধিক্য, বাজারে ঘর্ষণে ক্ষয়প্রাপ্ত প্লাস্টিকের কণা বাতাসে মেশা, ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বারবার আগুন লাগানো, পুড়ে যাওয়া প্লাস্টিকের কণা আইএমপি হয়ে ছড়িয়ে পড়া।
এছাড়াও গঙ্গা থাকলেও বায়ু চলাচল তুলনামূলক কম, জনঘনত্ব বেশি, উৎসবের মরসুমে অতিরিক্ত ভিড়, শীতকালে দূষণের স্তর নেমে এসে ‘ট্র্যাপ’ হওয়া, শীতের পোশাক, কম্বল ইত্যাদির পলিয়েস্টার ফাইবার ঝরে পড়া{
ফলে, একবার শরীরে ঢুকলে পিএম ২.৫ বেরোবার কোনও রাস্তা নেই, ফুসফুস, রক্ত, তারপর ধীরে ধীরে সংবেদনশীল অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পৌঁছে যায়।
গবেষকদের দাবি, পিভিসি পণ্য, প্রসাধনী, পারফিউম— নানা উৎস থেকে উৎপন্ন বিশেষ বিশেষ মাইক্রোপ্লাস্টিক বিপাকক্রিয়া, হরমোন ও প্রজননস্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে জমতে থাকলে তা বাড়িয়ে দেয় ক্যান্সারের ঝুঁকি।
সমাধান কোথায়?
বিজ্ঞানীদের স্পষ্ট পরামর্শ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ বন্ধ করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা, সুতির জামাকাপড় ও চটের সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানো এবং সবচেয়ে বড় কথা— সচেতনতা বাড়ানো।
বিজ্ঞানীরা বলছেন,এখনই ব্যবস্থা না নিলে, প্রতিদিন নিঃশ্বাসের সঙ্গে যে পরিমাণ প্লাস্টিক শরীরে জমছে, তার ফল ভয়ানক হতে বাধ্য।