এক মুহূর্তেই অন্ধকার নেমে এসেছিল জীবনেও। ভয়াবহ চোটে ঘাড় শিরদাঁড়া থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 09:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মুহূর্তেই অন্ধকার নেমে এসেছিল জীবনে। ভয়াবহ চোটে ঘাড় শিরদাঁড়া থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন (neck is different from the spine)। শরীরের নীচের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। চিকিৎসকদের ভাষায়— 'এমন অবস্থায় রোগীকে বাঁচানোই চ্যালেঞ্জ, স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো প্রায় অসম্ভব।'
কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করলেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকেরা (North Bengal Medical doctors)। ছ’ঘণ্টার লড়াই শেষে ফের জোড়া লাগল বিচ্ছিন্ন ঘাড়। যেন নতুন জীবন পেলেন (Miraculous Rebirth) রাজগঞ্জের ৬৬ বছরের রামশাই ওরাওঁ।
শুক্রবার এই নজিরবিহীন অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর চিকিৎসক পরিকাঠামো, দক্ষতা ও সাহসিকতার নজির গড়ল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ। বিভাগীয় প্রধান ডা. পার্থসারথি সরকারের নেতৃত্বে একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঘাড়ের সামনের এবং পেছনের দু’দিকেই অপারেশন করে প্লেট বসিয়ে ঘাড়কে দৃঢ় ভাবে শিরদাঁড়ার সঙ্গে যুক্ত করেন।
এমন জটিল অস্ত্রোপচার উত্তরবঙ্গে প্রথম— দাবি চিকিৎসকদের। ডা. পার্থসারথি সরকার জানান, “রোগীর ঘাড় সম্পূর্ণ ভেঙে শিরদাঁড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। স্নায়ুতন্ত্রও গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এ অবস্থায় অস্ত্রোপচার করতে গেলে সামান্য ভুলও রোগীর প্রাণ নেওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। তবুও আমরা ঝুঁকি নিয়েছি এবং সফল হয়েছি। এটি বিশ্বমানের সার্জারি।”
চিকিৎসকদের মতে, নার্সিংহোমে এ ধরনের সার্জারির খরচ সহজেই পৌঁছে যায় ৬-৭ লক্ষ টাকায়। সেখানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেই অস্ত্রোপচার হওয়ায় স্বস্তি রামশাইয়ের পরিবারে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রোগীর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা আশাবাদী— তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসা মহল— সবাই এখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের। একদিকে অতি জটিল অস্ত্রোপচার, অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে নিখরচায় বিশ্বমানের সেবা— দুই মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যপরিকাঠামোর সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
রামশাই ওরাওঁ যেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে দ্বিতীয় জীবন পেলেন। আর সেই জীবনের গল্পে বড় অক্ষরে লেখা— উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের চিকিৎসকদের অসাধারণ কৃতিত্ব।