পুলিশ সূত্রের খবর, দিল্লির বিস্ফোরণের তদন্তে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে শুক্রবার রাতে থানায় পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি বিশেষ দল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 07:58
দ্য় ওয়াল ব্য়ুরো: দিল্লির বিস্ফোরণকাণ্ডের (Delhi's Red Fort blast) তদন্তে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকই কাঁপিয়ে দিল জম্মু-কাশ্মীরের নওগাম থানাকে (Blast at Jammu and Kashmir police station)। শুক্রবার গভীর রাতে আচমকা ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শ্রীনগরের নওগাম। গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত থানার অর্ধেক অংশ।
সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের জেরে অন্তত ২৯ জন পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হন। এদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল ও পুলিশের স্থানীয় সূত্রের খবর।
পুলিশ সূত্রের খবর, দিল্লির বিস্ফোরণের তদন্তে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে শুক্রবার রাতে থানায় পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি বিশেষ দল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ। আতঙ্কে চারদিক ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায় থানার ভিতরেই। আহত পুলিশকর্মীদের দ্রুত সেনাবাহিনীর ৯২ বেস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন একাধিক পুলিশ কর্মী।
থানার অন্দরভাগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে বিস্ফোরক সামগ্রী, ভেঙে পড়ে দেওয়ালের অংশ। এরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকেরা। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় নিরাপত্তার কারণে।
নওগামের রাস্তায় জইশ-ই-মহম্মদের পোস্টারই ছিল গোটা চক্র উন্মোচনের শুরু। সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে হরিয়ানার ফরিদাবাদের ‘টেরর মডিউল’। সোমবার ফরিদাবাদের অভিযানে জইশ এবং আনসার গজওয়াতুল হিন্দের বড় চক্র গুঁড়িয়ে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।
ধরা পড়ে পুলওয়ামার চিকিৎসক মুজ়াম্মিল শাকিল ওরফে মুসাইব-সহ কয়েক জন। তদন্তকারীদের মতে, এরা সকলেই উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় ‘হোয়াইট কলার জঙ্গি নেটওয়ার্ক’-এর সদস্য—যারা আর্থিক সংগ্রহ, রিক্রুটমেন্ট এবং সন্ত্রাস-পরিকল্পনার মুখ্য দায়িত্বে ছিল।
২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার, লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ—দুই ঘটনার যোগসূত্র?
গত সোমবার ফরিদাবাদ থেকে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধারের পরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মোট ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সন্ধ্যাতেই দিল্লির লালকেল্লার সামনে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে—মৃত ১৩ জন।
দুই ঘটনার মধ্যে কি যোগসূত্র রয়েছে? তদন্তে সেই দিকেই নজর। ইতিমধ্যেই এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তৎপর হয়েছে। যে গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেই গাড়ির চালক উমর মহম্মদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তাঁর মায়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ফরিদাবাদ মডিউলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য—চিকিৎসক মুজফ্ফর রাথর—এখনও অধরা। তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।
অন্যদিকে, লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে শুক্রবার ভোররাত থেকেই উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত ২১টি ডিজিটাল ডিভাইস—মোবাইল, ল্যাপটপ-সহ—ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সিআইকে-র বিভিন্ন দফতরে।