নিজের পোস্টে গৌরব লেখেন, 'ভেবেছিলাম টিভিতে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন দেখি, সেরকমভাবেই ২০-২৫ বছরের 'ড্রিম লাইফ' কাটাব। ৯-৫ টার চাকরি করব, সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা, সপ্তাহান্তে ব্রাঞ্চ, ক্যাফেতে বসে সাইড প্রোজেক্ট, রাতে নতুন কোনও স্কিল শেখার কোর্স- কিন্তু বাস্তবটা একেবারেই আলাদা।

প্রথম চাকরিতেই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি তরুণ
শেষ আপডেট: 21 June 2025 17:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম চাকরিতে ঢোকার কয়েকমাসের মধ্যেই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গৌরব চিন্তামনেদি (Gaurav Chintamneedi)। সম্প্রতি তাঁর লিংকডিনে করা একটি পোস্ট ভাইরাল হয়ে উঠেছে যেখানে তিনি কলেজ থেকে কর্মজীবনে প্রবেশ করার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন (Man Shares Harsh Reality Of Life After College)।
চ্যাপম্যান বিশ্ববিদ্যালয় (Chapman University) থেকে পাশ করার পর গৌরব কর্মসূত্রে নিজের বাড়ি ছেড়ে আমেরিকার অন্য একটি জায়গায় থাকতে শুরু করেন। তিনি বর্তমানে একটি ই-কমার্স সংস্থায় অ্যাসিস্টেন্ট স্টোর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। এই চাকরিজীবনে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক জটিলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে।
নিজের পোস্টে গৌরব লেখেন, 'ডিএমভি-তে (ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া অঞ্চল) প্রথম যখন এলাম, ভেবেছিলাম টিভিতে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন দেখি, সেরকমভাবেই ২০-২৫ বছরের 'ড্রিম লাইফ' কাটাব। ৯-৫ টার চাকরি করব, সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা, সপ্তাহান্তে ব্রাঞ্চ, ক্যাফেতে বসে সাইড প্রোজেক্ট, রাতে নতুন কোনও স্কিল শেখার কোর্স- কিন্তু বাস্তবটা একেবারেই আলাদা।
গৌরব জানান, 'গত এক বছরে তিনি প্রতি সপ্তাহে ৫০-৬০ ঘণ্টা কাজ করেছেন। কখনও কখনও ভোর ৩টেয় উঠে কাজ শুরু করতে হয়েছে। আমার ৯৫ শতাংশ উইকেণ্ড কেটেছে কাজে (Spent 95% of my weekends working)। এসব করে এতটাই ক্লান্ত হয়ে যাই যে ছুটির দিনে কোনও কাজ করার ইচ্ছে বা শক্তি থাকে না।'
এই সময়ে নিজের পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে থাকা, একাকীত্ব, নতুন শহরে যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা, সবকিছুর মধ্যে মানসিকভাবে কার্যত ভেঙে পড়েছিল তরুণ প্রাণ। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেন, 'বিছানায় শুয়ে ইনস্টাগ্রাম দেখতার আর ভাবতাম, কলেজেই কি আশা বাড়িয়ে ফেলেছিলাম?'তবে গৌরব আরও লেখেন, 'সত্যিটা হল, কলেজ থেকে বেরিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলার শক্তি অর্জন করাটাই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ।'
তাঁর এই পোস্ট কোনও অভিযোগ নয় বরং একটি বার্তা। বিশ্বজুড়ে যাঁরা সদ্য কর্মজীবনে পা রেখেছেন এবং মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে। 'আপনি একা নন। সংশয়, বিচ্ছিন্নতা বা হতাশা- এসব অনুভূতি খুবই সাধারণ।' গৌরব লিখেছেন।
তাঁর এই খোলামেলা মনোভাব তরুণদের অনেককেই অনুপ্রাণিত করেছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'তোমার কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে গেল গৌরব। এই বয়সে পরিবর্তন আর চ্যালেঞ্জ অনেক, কিন্তু তুমি দেখিয়ে দিলে কীভাবে মানসিকতা গঠন করতে হয়।'আরও একজন লেখেন, 'এই পোস্টটা খুব দরকার ছিল আমার জন্য! কদিন আগেই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলাম, তোমার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখলাম।'