
শেষ আপডেট: 11 February 2019 18:28
বদলের ছবি।[/caption]
ঠিক করেছিলেন, যদি কিছু করতেই হয়, তা হলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অরণ্য ফিরিয়ে দেবেন বন্যপ্রাণীদের। কথায় বলে, সদিচ্ছা থাকলে সঙ্গীর অভাব হয় না। সেবাস্তিয়াওরও হল না। আর এ সঙ্গী নিছক কোনও সঙ্গী নন, একেবারে জীবনসঙ্গী। সেবাস্তিয়াওর স্বপ্নের হাত ধরলেন তাঁর স্ত্রী লেলিয়া।"ফেলে আসা ছোটোবেলা নিয়ে ও ভীষণ আক্ষেপ করত। ও যে আজ সফল ফোটোগ্রাফার, তার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল, ছোটোবেলায় ওর বাড়ি-লাগোয়া এই রেনফরেস্টের। এত দ্রুত সব কিছু বদলেছে, ও তাল মেলাতে পারেনি। আচমকা অনেক প্রাণীও হারিয়েছে, যারা ওর বন্ধুর মতো ছিল। এই হারিয়ে যাওয়া জঙ্গল নিয়ে আক্ষেপ করতে করতে আমি ওকে ভেঙে পড়তেও দেখেছি অনেক বার। তখনই ঠিক করেছিলাম, ওর পাশে দাঁড়াব।"-- বলেন লেলিয়া।
লেলিয়াই প্রস্তাব দেন, নতুন করে জঙ্গল তৈরি করার। সকলের, এমনকী সেবাস্তিয়াওরও মনে হয়েছিল, এ প্রস্তাব কার্যকর করা অসম্ভব। পরিসংখ্যান বলছে, ১০০ শতাংশের মধ্যে মাত্র .৫ শতাংশ অরণ্য বেঁচে আছে। তাকে কী করে আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব!
লেলিয়া জেদ ধরলেন। চেষ্টা করতে ক্ষতি নেই, ক্ষতি নেই শুরু করতেও। .৫ থেকে শুরু করে হয়তো ১০০-তে পৌঁছনো যাবে না, কিন্তু ৫০-এও যদি পৌঁছনো যায়, তাই বা কম কী!-- এই ছিল লেলিয়ার যুক্তি।
[caption id="attachment_79187" align="aligncenter" width="669"]
পরিবর্তন।[/caption]
১৯৯৮ সালে একটা ছোট্ট সংগঠন তৈরি করে, শুরু হল ক্রাউড ফান্ডিং। 'ইনস্টিটিউটো টেরা' নামের সেই সংগঠনের তরফে আবেদন করা হল, গাছের চারা অথবা চারা কেনার টাকার। সালগাদো দম্পতিকে অবাক করে, এগিয়ে এলেন অনেকেই। মরে যাওয়া, শুকনো, রুক্ষ জমিতে সবুজ চারা পোঁতা শুরু হল একটা একটা করে।
না, এক রাতে কিছুই হয়নি। হয়নি এক বছরেও। তবে কয়েক বছরে যখন চারা গাছের সংখ্যাটা কয়েক হাজারে পৌঁছল, তখনই পরিবর্তন টের পেতে লাগলেন সকলে। বেশ কিছু পাখি ফিরে এল, ফিরে এল বহু পশু। সব চেয়ে বড় কথা, গোটা এলাকার আবহাওয়া আবার আগের মতো বদলে যেতে শুরু করল।
দেখুন সেই বদল।
https://www.facebook.com/brightvibes/videos/395308174612999/
"পৃথিবী শ্বাস নিতে পারছে না। অক্সিজেনের অভাবে দগ্ধে মরছে। আর অক্সিজেন উৎপাদনের এক ও একমাত্র সমাধান হল গাছ। তাই এ ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় নেই আমাদের বাঁচার। আমাদের আরও অনেক বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, এক একটা জায়গা বেছে ঝাঁকে ঝাঁকে বীজ ফেলতে হবে। পৃথিবী নিজেই তৈরি করে নেবে তার হারিয়ে যাওয়া অরণ্য।"-- ২০ বছর পরে ২০ লক্ষ গাছের পিতৃত্ব ধারণ করে এ কথা বলছিলেন সেবাস্তিয়াও সালগাদো। বলছিলেন, "প্রকৃতির কথা শুনতে হবে আমাদের। এই প্রকৃতির জন্যই আমরা আছি। তাকে কোনও প্রতিদান দিতে না পারলে তো আমাদের জীবনই বৃথা!"
সালগাদো দম্পতির তৈরি ইনস্টিটিউটো টেরায় এখন কয়েক হাজার সদস্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে। জঙ্গলের পরিধির ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে তাঁদের হাত ধরে। পাঁচ হাজার বিঘা এলাকা জুড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রেনফরেস্ট আবার নতুন করে গড়ে উঠেছে, আগের মতোই। পরিসংখ্যান বলছে, ৯০ শতাংশ অরণ্য তৈরি হয়ে গেছে। বাকি ১০ শতাংশ কেবল সময়ের অপেক্ষা।
জঙ্গলে ফিরে আসা বাসিন্দারা।[/caption]
১৭২ রকমের পাখি, ৩৩ রকমের স্তন্যপায়ী, ১৫ রকমের উভচর, ১৫ রকমের সরীসৃপ, আর ২৯৩ রকমের গাছ আবার ফিরে এসেছে সে অরণ্যে। ফিরে এসেছে বেশ কয়েকটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণীও।