
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 May 2024 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যুদিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পুত্র রাহুল গান্ধী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দেশের তাবড় নেতানেত্রীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীরামপেরামবুদুরে একটি নির্বাচনী জনসভায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় রাজীব গান্ধীকে। তৎকালীন লিবারেশন অফ তামিল ইলমের জঙ্গিরা (এলটিটিই) ছক কষে হত্যা করে তাঁকে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাজীব-জায়া সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী মঙ্গলবার সকালে দিল্লির বীরভূমিতে গিয়ে রাজীব গান্ধীর ৩৩-তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানেই তাঁকে শ্রদ্ধা জানান পি চিদম্বরম এবং শচীন পাইলটের মতো নেতারাও।
এদিন সকালে রাহুল গান্ধী একটি এক্সবার্তায় লিখেছেন, পাপা, আপকে স্বপ্নে, মেরে স্বপ্নে, আপকে আকাঙ্ক্ষায়েঁ, মেরি জিম্মেদারিয়াঁ। আপকি ইয়াদেঁ, আজ অউর হামেশা, দিল মে সদা। মল্লিকার্জুন খাড়্গে লিখেছেন, ভারতকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর কথা মানুষ চিরকাল মনে রাখবেন।
রাজীব গান্ধীর জন্ম ১৯৪৪ সালের ২০ আগস্ট। রাজীব গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি হন ১৯৮৪ সালে। মা ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর চটজলদি নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় রাজীব গান্ধীর উপরে। ওই বছরেরই অক্টোবরে তিনি দেশের নবীনতম প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন। ১৯৮৯ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন।
রাজীব গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবে বিশাল। নবতর ভারতের রূপকার বলা হয় তাঁকে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার পরেও ইন্দিরা জমানা পর্যন্ত ভারতীয়দের রক্তে ঔপনিবেশিকতার প্রতি একটা প্রচ্ছন্ন অনুরক্তি ছিল। ভারত চিরকাল নিজেকে দরিদ্র, পাশ্চাত্যে দেশগুলির অনুকম্পার পাত্র মনে করত নিজেকে। কিন্তু, সেই দৈন্য থেকে দেশের মানুষকে স্বাধীনভাবে, বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সাহায্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের দিশা দেখিয়েছিলেন রাজীব।
তিনিই প্রথম ১৯৯১ সালে দলের ইস্তাহারে উদারীকরণের মতো সাহসী শব্দ ব্যবহার করেন, জানালেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। সেদিন রাজীব যা বলেছিলেন, এতদিন পর সে সমস্ত নীতিই পরবর্তীতে গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন ১৮ বছর বয়সে ভোটাধিকার, পঞ্চায়েত এবং নগরপালিকার সাংবিধানিক অধিকার, মহিলা সংরক্ষণ, উত্তর-পূর্বের শান্তিচুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ায় ভারতের প্রবেশ ইত্যাদি।