Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

মহাভারতের এক উপেক্ষিত মহানায়ক, লড়েছিলেন পাণ্ডবপক্ষে, ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র হয়েও

রূপাঞ্জন গোস্বামী ধৃতরাষ্ট্রের সন্তানলাভের ইচ্ছা যখন অদৃষ্টের খেয়ালে বার বার বিঘ্নিত হচ্ছিল। সেই সময় হস্তিনাপুরে এসেছিলেন বশিষ্ঠ মুনির প্রপৌত্র ও পরাশর মুনির পুত্র জ্ঞানান্বেষী ঋষি ব্যাসদেব। ব্যাসদেবের যথাসম্ভব সেবা করেছিলেন ধৃতরাষ্ট্রজায়া

মহাভারতের এক উপেক্ষিত মহানায়ক, লড়েছিলেন পাণ্ডবপক্ষে, ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র হয়েও

শেষ আপডেট: 29 April 2020 05:07

রূপাঞ্জন গোস্বামী
ধৃতরাষ্ট্রের সন্তানলাভের ইচ্ছা যখন অদৃষ্টের খেয়ালে বার বার বিঘ্নিত হচ্ছিল। সেই সময় হস্তিনাপুরে এসেছিলেন বশিষ্ঠ মুনির প্রপৌত্র ও পরাশর মুনির পুত্র জ্ঞানান্বেষী ঋষি ব্যাসদেব। ব্যাসদেবের যথাসম্ভব সেবা করেছিলেন ধৃতরাষ্ট্রজায়া গান্ধারী। সেবাকালে তাঁর পুত্রলাভের ইচ্ছা ব্যাসদেবকে জানিয়েছিলেন গান্ধারী। গান্ধারীর আতিথ্যে খুশি হয়ে ব্যাসদেব তাঁকে শতপুত্রের বর দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ধৃতরাষ্ট্রও মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন সন্তানলাভের জন্য। কারণ গান্ধারীর গর্ভধারণের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছিল। বংশরক্ষার তাগিদে ধৃতরাষ্ট্র বৈশ্য দাসী সুগধার (মতান্তরে সৌবলী) সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। তখনকার দিনে রাজবংশে এই প্রথা প্রচলিত ছিল। যথাসময়ে গান্ধারী ও সুগধা নামের দাসীটি গর্ভবতী হয়েছিলেন। গান্ধারীর উদর এতই বড় হয়েছিল স্বর্গের দেবতারাও আশঙ্কিত হয়েছিলেন গান্ধারী ও গর্ভের সন্তানদের জীবন নিয়ে। সবার আশঙ্কাকে সত্যি করে গর্ভপাত হয়েছিল গান্ধারীর। কিন্তু ব্যাসদেবের মতো মহাঋষি বর বিফলে যেতে পারে না। তাই গান্ধারীর গর্ভপাত হওয়ার পর, গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা মাংসপিণ্ড থেকে ব্যাসদেব ১০১টি ভ্রূণ আলাদা করে ১০১টি ঘিয়ের কলসিতে রেখেছিলেন। প্রথম কলসি থেকে জন্ম নিয়েছিলেন দুর্যোধন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনে পৃথিবীর সবকটি জঙ্গলে থাকা হিংস্র পশুরা একযোগে চিৎকার করে উঠেছিল। যা ছিল অত্যন্ত অশুভ লক্ষণ। দুর্যোধনের জন্মের এক মাস পরে বাকি ১০০টি কলসি থেকে জন্ম নিয়েছিলেন ধৃতরাষ্ট্রের এক কন্যা এবং আরও নিরানব্বই জন পুত্র। কন্যার নাম ছিল দুঃশলা। একই সময় দাসী মা সুগধার গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন মহাভারতের এক উপেক্ষিত বীর যুযুৎসু। যিনি কৌরব হওয়া সত্ত্বেও ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র হওয়ার কৌলীন্য পাননি কোনও দিন। হস্তিনাপুর দাপিয়ে বেড়াতেন দুর্যোধন ও তাঁর ৯৯জন ভাই। যুযুৎসুর জীবন কেটেছে একা, দাসীপুত্র হওয়ার অপরাধে। তৃতীয় কৌরব বিকর্ণ দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় প্রতিবাদ করলেও কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কৌরবপক্ষে ছিলেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ভীমের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ হয়েছিল। যুদ্ধের সময় ভীম বিকর্ণকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণকালে বিকর্ণর ভূমিকার কথা। বিকর্ণ বলেছিলেন, ‘তখন বস্ত্রহরণের বিরোধিতা করা আমার কাছে ন্যায় মনে হয়েছিল, আমি বিরোধিতা করেছি। এখন যুদ্ধ আমার কাছে ন্যায় মনে হয়েছে, এসো ভীম যুদ্ধ করো।” ন্যায়নিষ্ঠ বিকর্ণও ন্যায়ের পথ থেকে সরে গিয়ে দুর্যোধনের সঙ্গেই ছিলেন। যুযুৎসু ছিলেন একমাত্র কৌরব, যিনি স্রোতের বিপক্ষে হেঁটে ধর্মের পথে গিয়েছিলেন। সেই যুযুৎসু, যিনি কখনও নিজের বিবেকের সঙ্গে তঞ্চকতা করেননি। আমৃত্যু ছিলেন ন্যায়ের পথে। কারণ কৌরব হওয়া সত্ত্বেও ধর্ম ও অধর্ম বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল গভীর। তবুও মহাভারতের রথী মহারথীদের ভিড়ে চাপা পড়ে গিয়েছিল এই অসামান্য ব্যক্তিত্বটির অবদান। কয়েকজন কৌরব কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন, অশুভ শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে তাঁদের কুলে। তাঁরা তাঁদের বিবেকের আহ্বানকে উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু যুযুৎসু ছিলেন ব্যতিক্রম। বাল্যকাল থেকেই পাণ্ডবদের সাহায্য করে গিয়েছিলেন। দুর্যোধনের তঞ্চক প্রবৃত্তি থেকে জন্ম নেওয়া নানা হীন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা আগাম পাণ্ডবদের জানিয়ে দিয়েছিলেন। একবার মধ্যমপাণ্ডব ভীমকে পানীয় জলে বিষ প্রয়োগে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন দুর্যোধন। কিন্তু যুযুৎসু আগেই সতর্ক করায় ভীম নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। মহাভারতের যুদ্ধকে বলা হয় ধর্মযুদ্ধ। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রাক্কালে যুযুধান দু’পক্ষের সমস্ত কুশীলবকে যে কোনও একটি পক্ষ অবলম্বনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। নিঃসঙ্কোচে ও দ্বিধাহীনভাবে যে কেউ যে কোনও পক্ষে তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী যোগদান করতে পারতেন। যুযুৎসু বিবেকের টানে চলে গিয়েছিলেন পাণ্ডব শিবিরে। দুর্যোধনের আর এক ভাই বিকর্ণ, যাঁর সঙ্গে যুযুৎসুর ছিল সখ্যতা, অত্যন্ত সৎ হয়েও তিনি রয়ে গিয়েছিলেন অধর্মের শিবিরে। অনেকে ভাবেন, যুযুৎসু’র পাণ্ডব শিবিরে যাওয়াটা, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ওপর প্রভাব ফেলার মতো কোনও ঘটনাই ছিল না। কিন্তু সত্যিই কি তাই! আমরা অনেকেই জানিনা, যুদ্ধবিদ্যায় যুযুৎসুর সঙ্গে দুর্যোধন বাদে অন্য কোনও ধৃতরাষ্ট্রপুত্রের তুলনাই করা যায় না। এত বড় মাপের যোদ্ধা ছিলেন যুযুৎসু। তিনি ছিলেন কৌরবকুলে থাকা সেই বিরল শ্রেণির যোদ্ধাদের একজন, যাঁদের বলা হত অতিরথী। যিনি একা একইসঙ্গে ৬০০০০ সেনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারতেন। যুযুৎসু যদি কৌরবপক্ষে থাকতেন, পাণ্ডবদের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধজয় আরও বিলম্বিত হত। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ চলাকালীন যুযুৎসু দেখেছিলেন, তাঁর পিতার ঔরসজাত সন্তানরা একে একে ধরাশায়ী হচ্ছেন। প্রিয় গুরুজন ও আচার্যরা প্রাণ হারাচ্ছেন। তবুও ন্যায়ের পথে অবিচল হয়ে আপন রক্তের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন যুযুৎসু। মহাভারতের যুদ্ধের শেষে উভয়পক্ষের যোদ্ধাদের মধ্যে জীবিত ছিলেন মাত্র ১১জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন যুযুৎসুও।কুরুক্ষেত্র যুদ্ধশেষে জীবিত থাকা একমাত্র ধৃতরাষ্ট্রপুত্র। যুদ্ধের পর অশান্ত হয়ে উঠেছিল হস্তিনাপুর। যুযুৎসু তার কারণ জানতে হস্তিনাপুরে গেলে হস্তিনাপুরবাসীরা তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। তাঁকে কৌরবদের হত্যাকারী ও প্রতারক বলেন। যুযুৎসু জানতেন সত্যের পথ কোনও দিন মসৃণ হয় না, তাই সামান্যতম প্রতিবাদও করেননি। সমস্ত অপমান সহ্য করেছিলেন, সময়ের হাতে সত্যকে সঁপে দিয়ে। মহাপ্রস্থানে যাওয়ার আগে পাণ্ডবরা হস্তিনাপুরের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন যুযুৎসুকে। কিন্তু রাজা হিসেবে হস্তিনাপুরের সিংহাসনে বসিয়ে গিয়েছিলেন অর্জুনের পৌত্র পরীক্ষিৎকে। আজীবন ন্যায়ের শিবিরে থাকা ধীরস্থির অথচ মহাপরাক্রমশালী মহানায়ক যুযুৎসু তাই মহাভারতের শেষ পর্বেও রয়ে গিয়েছিলেন উপেক্ষিত হয়েই।

```