শেষ আপডেট: 24 April 2020 03:50
শৈশবেই গলায় পরানো হয় পরাধীনতার বেড়ি।[/caption]
বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক কায়ান নারী গলায় ৫ কেজি ওজনের ধাতব বেড়ি গলায় পরে থাকতে বাধ্য হন। তবে কোনও কোনও কায়ান নারীকে ১০ কেজি ওজনের বেড়িও পরে থাকতে দেখা যায়। যে নারী যত বেশি ওজনের বেড়ি গলায় পরেন, কায়ান সমাজ তাঁকে তত বেশি মর্যাদা দেয়। ফলে যন্ত্রণার বিনিময়ে সম্মান কিনতে রাজি হয়ে যান অনেক কায়ান নারী। শুধু তাঁদের গলাতেই নয়, কায়ান নারীদের দুই হাত পায়েও আমৃত্যু জড়িয়ে থাকে এই ধাতব বেড়ি। যাকে ভদ্রভাষায় অলংকার বলে কায়ান সমাজ। কায়ানদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা এবং বিত্ত বৈভবের পরিচয়ও নাকি বহন করে থাকে এই ধাতব বেড়িগুলি।
বাম দিকে কায়ান নারীর গলার এক্স-রে, ডান দিকে এক স্বাভাবিক গলার নারীর এক্স-রে।[/caption]
কেন পরানো হয়েছিল এই বেড়ি!
কায়ান নারীদের গলায় কিভাবে বেড়ি পরানো শুরু হয়েছিল তা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। তাই বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত আছে কায়ান সমাজে। বেশিরভাগ কায়ান পুরুষের বক্তব্য হল, এই বেড়ি তাঁদের নারীদের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে। কিন্তু স্বল্পায়ু হবেন জেনেও কেবলমাত্র সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য কোনও নারী স্বেচ্ছায় এই অমানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করতে রাজি হবেন বলে মনে হয় না।
কায়ান সমাজের প্রবীনরা বলেন অন্য কথা। কয়েক হাজার বছর আগে, কায়ান পুরুষেরা যখন জঙ্গলে শিকারে যেতেন, সন্তানদের নিয়ে ঘরে থাকতেন নারীরা। মাঝে মাঝেই গ্রামগুলিতে হামলা চালাত বাঘের দল। নারীদের ঘাড় কামড়ে তুলে নিয়ে যেত। বাঘেদের প্রথম লক্ষ্য থাকে মানুষের ঘাড় কামড়ে ধরা। তাই কায়ান নারীদের ঘাড়কে সুরক্ষিত করতে নারীদের গলায় বেড়ি পরাবার রীতি শুরু হয়েছিল। এই বেড়ি পরার ফলে বাঘের আক্রমণে কায়ান নারীদের মৃত্যুর হার কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখানে প্রশ্ন জাগে, কায়ানরা তাঁদের শিশুকন্যাগুলির গলায় বেড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন, শিশুপুত্রদের পরানো হয়নি কেন! শিশুপুত্রগুলি নিশ্চয়ই পুরুষদের সঙ্গে শিকারে যেত না, মায়েদের সঙ্গে তারা গ্রামেই থাকত।
[caption id="attachment_212525" align="aligncenter" width="673"]
বেড়েছে সৌন্দর্য্য ! নাকি বেড়েছে যন্ত্রণা![/caption]
অনেক গবেষক বলেছেন, ব্যাপারটি ততটা সরল নয়, যতটা কায়ানরা বলে থাকেন। তাঁদের মতে প্রাচীন কাল থেকেই কায়ানরা লড়াকু, জেদি ও নিষ্ঠুর। তাঁদের নারীদের দেখতে আশেপাশে থাকা অনান্য উপজাতির নারীদের থেকে সুন্দর হওয়ায়, কায়ান নারীদের তুলে নিয়ে যেত অনান্য গোষ্ঠীর পুরুষেরা। তাই নারীদের সৌন্দর্য্য কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই কায়ানদের পূর্বপুরুষেরা তাঁদের নারীদের গলায়, হাতে পায়ে বেড়ি পরিয়ে দিয়ে ছিলেন। এছাড়া গলায় , হাতে, পায়ে এত ওজন নিয়ে কোনও নারী গ্রাম থেকে পালাতে পারবেন না অন্য গোষ্ঠীর পুরুষের সঙ্গে।
[caption id="attachment_212517" align="aligncenter" width="1021"]
ক্যামেরার সামনে হাসি দিয়ে কান্না আড়াল আর কতদিন চলবে ![/caption]
কায়ান নারীদের অনেকেই আজ কায়ান সমাজের এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা জিরাফ নারী হতে চান না। তাঁরা তাঁদের গলায় হাজার হাজার বছর ধরে ঝুলতে থাকা বেড়ি খুলে পৃথিবীর আর দশটা স্বাভাবিক মেয়ের মত সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবন কাটাতে চান। আরও বেশিদিন বাঁচতে চান। কায়ান নারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বেশ কিছু সামাজিক সংগঠন। চলছে প্রথা ভাঙার লড়াই। যুদ্ধে জিতবেন কি 'জিরাফ' নারীরা! তাঁরা কিন্তু নিশ্চিত, আগামী প্রজন্ম পাইপয়সার হিসাব বুঝে নেবে কায়ান পুরুষদের কাছ থেকে। বুঝে নেবে জীবনের খাতায় হাজার হাজার বছর ধরে যন্ত্রণার কলমে লেখা হিসাব। তারই অপেক্ষায় বুঝি দিন গুনছেন হাসি দিয়ে যন্ত্রণা ঢাকতে থাকা জিরাফ নারীরা।