
শেষ আপডেট: 28 February 2019 12:54
সাক্কারার বালির নিচে পাওয়া গেল ৪৫০০ বছরের পুরানো সমাধি ক্ষেত্র[/caption]
পাওয়া গেলো বেড়াল ও গুবরেপোকার ৪৫০০ বছরের পুরোনো মমি
২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর, মিশরের পুরাতত্ত্ব মন্ত্রক জানায় এই প্রত্নতাত্বিক খননক্ষেত্রে, খনন কার্য চালাতে গিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রায় ডজন খানেক বেড়ালের মমি আবিষ্কার করেছেন। একটা চুনাপাথরের কফিনে বেড়ালগুলির মমি ছিলো। এছাড়াও তাঁরা আবিষ্কার করেছেন, ১০০ টির বেশী কাঠের বেড়ালের মূর্তি, বেড়ালের দেবতা বাসলেতের একটি ব্রোঞ্জ নির্মিত মূর্তি, সোনার পাতে মোড়া সিংহ, গরু, ঈগল, কাঠের সাপ, কুমিরের মূর্তি, শতাধিক চকচকে পাত্র ও তাবিজ কবজ ও পবিত্র চিহ্ন সম্বলিত ফলক।
[caption id="attachment_83502" align="aligncenter" width="968"]
অগুণতি বেড়ালের মমি পাওয়া গেল, সেগুলি প্রায় ৪৫০০ বছর পুরানো[/caption]
ওই স্মৃতিসৌধেই আর একটা ছোট কফিনে পাওয়া গেছে গুবরেপোকার মমির বিপুল সম্ভার। প্রাচীন মিশরে গুবরেপোকা ছিল অতি পবিত্র প্রাণী। সৌভাগ্যের জন্য সবাই গুবরেপোকাকে তাবিজ ও লকেট করে পড়তেন বাসিন্দারা। গুবরেপোকার মমিগুলির মধ্যে দুটি গুবরেপোকা ছিল অতিকায় এবং লিনেনে জড়ানো।
[caption id="attachment_83542" align="aligncenter" width="800"]
বের করে আনা হল বেড়ালের মমি[/caption]
কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর সালিমা খান বলেছেন,এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মিশরীয় স্মৃতিসৌধগুলিতে জীবজন্তুদের মমি পাওয়া মামুলি ঘটনা। মালিকের সাথে প্রিয় পোষ্যদের মমি বানানো স্বাভাবিক ঘটনা। এছাড়া মৃতের খাদ্য বা সঙ্গী হিসেবেও পশুদের সমাধি দেওয়া হতো। চার্চে রোজ মোমবাতি জ্বালাবার মতোই স্বাভাবিক হলো মিশরে পশুদের মমি করা। কিন্তু এতোগুলি বেড়ালের মমি আজ অবধি মিশরে পাওয়া যায়নি। মিশরের পুরাতত্ত্ব বিভাগের সুপ্রিম কাউন্সিলের জেনারেল সেক্রেটারি, মোস্তাফা ওয়াজিরি জানিয়েছেন “ গুবরেপোকার মমি সত্যিই নতুন আবিষ্কার। এবং এ দিক থেকে মেমফিস এগিয়ে গেল"।
[caption id="attachment_83507" align="aligncenter" width="702"]
পাওয়া গেল গুবরে পোকার মমি[/caption]
এই প্রথম মিশরে পাওয়া গেল রাজ পুরোহিতের সমাধি
সম্প্রতি সুন্দর ভাবে অলংকৃত একটি স্মৃতিসৌধ পাওয়া গেলো এই প্রত্নতাত্বিক খননক্ষেত্রে। সেটি মিশরের ফারাওদের প্রধান পুরোহিতের সমাধি। স্মৃতিসৌধের দরজার ওপর খোদাই করা মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক বা মিশরীয় চিত্রলিপি দেখে জানা গেছে মানুষটির নাম ওহাতিয়ে।
খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০-২৩৫০ সময়কাল ধরে মিশরে রাজত্ব করে পঞ্চম রাজবংশ। সেই রাজবংশের ফারাও নেফেরিরকার-এর পুরোহিত ছিলেন এই ওহাতিয়ে। লিপিতে লেখা ছিল তাঁর বিশাল উপাধি। যেমন ওহাতিয়ে ছিলেন রাজকীয় শুদ্ধিকরণ পুরোহিত, রাজকীয় কর্মকর্তা, রাজকীয় নৌকোর পরিদর্শক ইত্যাদি।
[caption id="attachment_83526" align="aligncenter" width="649"]
মিশরের রাজ পুরোহিতের সমাধির প্রবেশ পথ[/caption]
স্মৃতিসৌধটির ভেতরে, ৩৩ ফুট X ১০ ফুটের একটি গ্যালারি পাওয়া গেছে। যার ভেতর পাওয়া গেছে চোখ ধাঁধানো উজ্বল রঙে আঁকা ও সুন্দরভাবে সংরক্ষিত প্রচুর দেওয়াল চিত্র। ছবি গুলির মধ্যে আছে ওহাতিয়ের মা, স্ত্রী ও অনান্য আত্মীয়ের ছবি। দেওয়ালের গায়ে আঁকা আছে যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশনের ছবি। আছে সেই সময়কার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ছবিও। যেমন, কী করে সুরা তৈরি হতো, কী করে পাত্র তৈরি হতো। এমনকি মমির সঙ্গে যে সব ফার্নিচার দেওয়া হবে তার প্রস্তুতি পর্বের ছবিও।
[caption id="attachment_83521" align="aligncenter" width="976"]
ফারাও নেফেরিরকার-এর পুরোহিত ওহাতিয়ের সমাধির দরজা খোলা হল ৪৫০০ বছর পর[/caption]
রাজপুরোহিত ওহাতিয়ের স্মৃতিসৌধটির ভিতরে পাওয়া গেছে, ৫০টির মতো বড় রঙিন পাথরের মূর্তি। যেগুলির মধ্যে আছে পুরোহিত ও তাঁর পরিবারবর্গের মূর্তি এবং একজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মূর্তি। মিশরের পুরাতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে মোস্তাফা ওয়াজিরি জানান, " এটি গত এক দশকের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। এর আগে রাজ পুরোহিতের সমাধি মিশরে পাওয়া যায়নি। এই সমাধি আমাদের মিশরীয় সভ্যতার অতুলনীয় প্রাচুর্য প্রকাশ করে। আমরা চাই বিশ্ব এগুলো জানুক"।
[caption id="attachment_83529" align="aligncenter" width="838"]
সমাধির ভিতরে পাওয়া গেল আস্ত একটা আর্ট গ্যালারি[/caption]
প্রত্নতাত্ত্বিক দলের প্রধান এল-এনানি জানিয়েছেন, "নভেম্বর মাসে বেড়ালের মমি ও সম্প্রতি পুরোহিতের সমাধি আবিস্কৃত হয়েছে। কিন্তু আরও কিছু সময় লাগবে পুরো তথ্য পেতে। স্মৃতিসৌধটির ভিতর আমরা পাঁচটি পৃথক সুড়ঙ্গ পেয়েছি। এর মধ্যে মাত্র একটি খোলা হয়েছে। অন্য চারটি এখনও বন্ধ অবস্থায় আছে। আমি নিশ্চিত, এর মধ্যে একটি সুড়ঙ্গ আমাদের নিয়ে যাবে হয় সারকোফেগাসের (কফিন) দিকে। সেখানেই শুয়ে আছেন এই স্মৃতিসৌধের মালিক রাজপুরোহিত ওহাতিয়ে"। কিন্তু অতদিন অপেক্ষা করতে রাজি নন উৎসাহী পর্যটকরা। আপাতত বেড়াল, গুবরেপোকার মমি আর পুরোহিতের সমাধি দেখতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে মিশরে।