Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

Teachers' Day 2025: নোবেল পুরস্কারের জন্য ২৭ বার নাম পাঠানো হয়েছিল সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের

এই দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়? জেনারেল নলেজের এই জ্ঞান সকলেরই আছে। কিন্তু, যদি জানতে চাওয়া হয় কে ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন, কবে থেকে, কেন শুরু হয়েছিল এই দিবস পালন? তাহলে লজ্জায় মুখ রাঙা হতে পারে অনেক গুরুরই।

Teachers' Day 2025: নোবেল পুরস্কারের জন্য ২৭ বার নাম পাঠানো হয়েছিল সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের

গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 5 September 2025 11:39

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ, শুক্রবার শিক্ষক দিবস, (Teachers' Day 2025) তাই আজ বেমক্কা একটি ছুটির দিন। কাল শনিবার ও পরশু রবিবার ছুটি। কোনও কোনও স্কুলে শিক্ষক দিবস হল টিচারদের ফ্যাশন প্যারেডের দিন। এই দিন পড়ুয়ারা গুরুপুজোর নামে গুরুদক্ষিণা (উপহার) দিয়ে থাকে। আবার কোনও কোনও স্কুলে সেটা আগেরদিনই সেরে ফেলা হয়, যাতে ছুটিটা উপভোগ করা যায়। কিন্তু, এই দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়? জেনারেল নলেজের এই জ্ঞান সকলেরই আছে। কিন্তু, যদি জানতে চাওয়া হয় কে ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন, কবে থেকে, কেন শুরু হয়েছিল এই দিবস পালন? তাহলে লজ্জায় মুখ রাঙা হতে পারে অনেক গুরুরই।

দেশের বহু ব্যক্তি আছেন, যাঁরা নিজ নিজ রাজ্যের পরিসরের বাইরে তেমন করে কলকে পাননি। বাঙালি বলে যাঁদের নিয়ে গর্ব করি, তাঁদেরও অনেকেরই নাম-পরিচয় ও কার্যাবলি জানেন না ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র কিংবা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাইরে বিরাট জনপ্রিয়তা আছে, এমন বাঙালি মণীষীর সংখ্যা কম। তেমনই, বাংলার বাইরেও বহু মানুষ আছেন, যাঁরা রাজনীতির আড়ালেও বহু কাজ করে গিয়েছেন, যার সুদে আজ আমরা বসে খাচ্ছি। তাঁদেরই একজন হলেন সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন।

এই মুহূর্তে যে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য হেদিয়ে মরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিতান্ত ভারতে জন্ম বলে সাদা চামড়ার দুনিয়া তাঁকে মোট ২৭ বার নোবেল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করেছিল। সাহিত্যে নোবেলের জন্য তাঁর নাম ১৬ বার সুপারিশ করা হয়েছিল এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ১১ বার সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, একটিবারের জন্য পরাধীন ভারতের এই দার্শনিক-শিক্ষাবিদ-পণ্ডিত নোবেল পুরস্কার হাতে তুলতে পারেননি।

পরাধীন ভারতে শিক্ষা সংস্কারের অগ্রণী পথিকৃৎ রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন, ৫ সেপ্টেম্বরকে প্রতিবছর শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এর পিছনেও রয়েছে একটি ছোট্ট গল্প। একবার তাঁর জন্মদিনে ছাত্ররা এসে ধরে গুরুর জন্মদিন পালন করবে বলে। কিন্তু, তিনি নারাজ। তিনি তখন বলেন, শুধু তাঁর একার নয়, দেশের সমস্ত শিক্ষকদের এইদিনে বরণ করে নিও তোমরা। আমার একলার নয়, সকল শিক্ষক সমাজকে গুরুর মর্যাদায় পুজো করো। সেই থেকেই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়।

দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের জন্ম ১৮৮৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। তামিলনাড়ুর তিরুত্তানির একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন তিনি। ছোটবেলা থেকে ভারতীয় প্রাচীন ধর্ম ও আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে মিশন স্কুলে পড়াশোনা করেন। রাধাকৃষ্ণনের বাবা সর্বপল্লি বীরস্বামী ছিলেন রাজস্ব দফতরের অফিসার। তিনি চেয়েছিলেন ছেলে পুরোহিত হবে। কিন্তু নিয়তির ইচ্ছা অন্যরকম ছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি স্নাতক স্তরে মাদ্রাজ ক্রিশ্চিয়ান কলেজের ভর্তি হন।

তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে দর্শনে স্নাতকোত্তর লাভ করেন। বাবার অমতে তিনি এই কাজ করতে পেরেছিলেন এত তুতো দাদার সাহায্যে। তিনিই রাধাকৃষ্ণনের বইপত্রের খরচ জোগাতেন। তবে অতিরিক্ত মেধার জন্য তিনি বরাবর সরকারি বৃত্তি বা জলপানি পেতেন (স্কলারশিপ), যা থেকে পড়ার খরচ উঠে যেত। রাধাকৃষ্ণনের ইচ্ছা ছিল তিনি উচ্চশিক্ষা নেবেন গণিত শাস্ত্রে। কিন্তু, টাকাকড়ির বাধায় তা হয়ে ওঠেনি।

তাই তিনি দর্শনে ভর্তি হন, কারণ তাঁর ওই তুতো ভাইও দর্শন নিয়ে পড়ায়, তাঁর বই ও নোটস ধার হিসেবে পেয়েছিলেন রাধাকৃষ্ণন। ১৯০৭ সালে এমএ পাশ করেন। দু বছর পর শিক্ষক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। তারপরেই ১৯২৯ সালে তাঁর ভাগ্যের দরজা খুলে যায় যখন অক্সফোর্ডের ম্যাঞ্চেস্টার কলেজ থেকে অতিথি শিক্ষক পদে ডাক আসে। রাধাকৃষ্ণন তাঁর শিক্ষাজীবনে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ বছর ধরে উপাচার্য পদেও কাজ করেছেন।

১৯৬২-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার আগে ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি। ১৯৪৭ সালে তিনি ইউনেস্কোতে ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন। তিনি যে পদেই গিয়েছেন, কখনই মাটির গন্ধছাড়া হননি। ১৯৬২ সালে তিনি যখন দেশের রাষ্ট্রপতি, তখনই ছাত্ররা তাঁর জন্মদিন পালনের উদ্দেশে তাঁর শরণাপন্ন হয়েছিল। এই রাধাকৃষ্ণন ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্ত। তাঁর ইংরেজিতে লেখা, দ্য ফিলজফি অফ রবীন্দ্রনাথ টেগর গ্রন্থে বাঙালি বহু সমালোচকের থেকেও উন্নত আলোচনা রয়েছে রবীন্দ্র-দর্শন নিয়ে।

১৯৫৪ সালে ভারতরত্ন পান রাধাকৃষ্ণন। ১৯০৩ সালে শিবাকামু নামে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ। তাঁদের চার কন্যা ও একজন ছেলে ছিল। ছেলে সর্বপল্লি গোপাল বিখ্যাত ঐতিহাসিক ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সহযোগী ছিলেন। রাধাকৃষ্ণন হলেন সেই মানুষ, যিনি ভারতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতিকে পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে হাত ধরিয়ে ছিলেন। কিন্তু একদিনের জন্যও পল্লিগ্রামের মাটির স্পর্শকে বিস্মৃত হননি। দেশীয় শিক্ষায় এক নয়া ধ্যানধারণা, সংস্কার ও বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এই শিক্ষাবিদ।


```