
কেজরিওয়াল পত্নী সুনীতা
শেষ আপডেট: 27 March 2024 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জামিনের আবেদনের শুনানি চলছে দিল্লি হাই কোর্টে। কংগ্রেসের আইনজীবী নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বুধবার আদালতে বলেন, একজন কর্মরত মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার সংবিধানের উপর আঘাত।
এদিকে স্বামীর গ্রেফতারি নিয়ে ফের ময়দানে হাজির হয়েছেন কেজরিওয়াল পত্নী সুনীতা। দিল্লিতে আপের সদর দফতরে বুধবার ফের সাংবাদিক বৈঠক করেন সুনীতা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পর এই নিয়ে তিনবার মুখ খুললেন তিনি। বুধবারও দলীয় দফতরে কেজরিওয়ালের চেয়ারে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সুনীতা।
ফলে জল্পনা ছড়িয়েছে, কেজরিওয়াল যদি এখন জেল থেকে ছাড়া না পান তাহলে সুনীতাই কি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দ্বিতীয় রাবড়ি দেবী হতে পারেন৷
১৯৯৭ সালে দুর্নীতির মামলায় জেলে যেতে হয়েছিল বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবকে। আদালতে আত্মসমর্পণ করার আগে তিনি স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে মুখ্যমন্ত্রী করেন।
এদিকে, গ্রেফতার হওয়া সত্ত্বেও কেজরিওয়াল কীভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ আঁকড়ে আছেন সেই প্রশ্ন তুলে দিল্লি হাই কোর্টে জনস্বার্থের মামলা করেছেন এক ব্যক্তি। সেই মামলার শুনানিও আজকালের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা।
অন্যদিকে, জেল থেকে কেজরিওয়াল সরকার চালানোর পাশাপাশি একই সঙ্গে দলকে ভরসা দিতে বার্তা দিয়ে চলেছেন। লক্ষণীয় হল, আপ সুপ্রিমোর ওই সব বক্তব্য প্রকাশ্যে জানানোর দায়িত্ব তিনি স্ত্রী সুনীতাকে দিয়েছেন।কেজরিওয়াল গত শনিবার বলেন, ‘আমার ভাইবোনেরা, আমি ভেঙে পড়িনি। আমি শিগগির আপনাদের মাঝে ফিরে আসব। ফের লড়াই শুরু করব। আমার জীবন আপনাদের জন্য, দেশের জন্য সমর্পিত।’
জেলে স্বামীর সঙ্গে কথা বলে ফিরে সুনীতা ভিডিও বার্তায় কেজরিওয়ালের বক্তব্য জানান।
এমনিতে জেলে নিকট আত্মীয়েরই দেখা করার অনুমতি মেলে। সেদিক থেকে স্ত্রী সুনীতার সঙ্গেই কথা বলার সুযোগ ছিল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর।
যদিও আপের অন্দরে কানাঘুষো শুরু হয়েছে, কেজরিওয়ালের এই সিদ্ধান্ত কি পরিকল্পিত? কারণ তাঁর সঙ্গে সুনিতার কথপোকথন দলের তরফে কেউ জানাতে পারতেন। মন্ত্রী আতিশী বর্তমানে সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি। কেজরিওয়ালের জামিন না হলে তাঁর পক্ষে জেল থেকে সরকার চালানো খুব বেশি দিন সম্ভব নয়। তখন মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। সেই পরিস্থিতিতে কে হবেন উত্তরসূরি তা নিয়ে আপের অন্দরে কেজরিওয়াল গ্রেফতার হওয়ার আগে থেকেই জল্পনা ছিল। আপ দাবি করে তারা একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। তাতে বেশিরভাগ মানুষ বলেছেন, গ্রেফতারের পরও মুখ্যমন্ত্রী বদলের কোনও প্রয়োজন নেই। কেজরিওয়াল যেন জেল থেকেই সরকার চালান।
যদিও আপের অন্দরে উত্তরসূরি হিসাবে সুনীতার নামও আছে। ১২ বছর আগে দিল্লির যন্তরমন্তরে কেজরিওয়ালের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে অন্তরালের সৈনিক ছিলেন সুনীতা। যদিও আয়কর দফতরের উচুঁ পদে চাকরি করায় তিনি তখন সামনে আসেননি। অবসরের পর মাঝেমধ্যে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী স্বামীর পাশে দেখা গিয়েছে।
বুধবার সুনীতা বলেন, আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেআইনি লেনদেনের প্রমাণ হিসাবে কোনও অর্থ উদ্ধার হয়নি।