
শেষ আপডেট: 3 March 2024 00:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখনও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়নি। তার আগে থেকেই বাঁকুড়ায় বিজেপি স্থা্নীয় সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকারের বিরুদ্ধে দলের একাংশকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায়। নাম ঘোষণার পরও শনিবার সন্ধেয় সামনে এল কর্মী বিক্ষোভের ছবিটা।
এদিন সন্ধেয় বাঁকুড়া শহরের মাচানতলায় ডাঃ সুভাষ সরকারের ছবিতে কালি ছিটিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপির একাংশ নেতা কর্মীরা। সঙ্গে দলীয় পতাকা হাতে 'অপদার্থ সুভাষ সরকার দূর হটো', 'তৃণমৃলের দালাল সুভাষ সরকার দূর হটো' , 'আপনাকে মানছি না, মানব না' স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। ঘটনার জেরে এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভে সামিল দলের প্রাক্তন বিধানসভা কনভেনর কৌশিক সিংয়ের অভিযোগ, "উনি সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা বিজেপি কর্মীদেরও পাশে দাঁড়াননি। 'চামচা'দের নিয়ে দল পরিচালনার জন্য প্রতিটি নির্বাচনে আমরা হারছি। গত পাঁচ বছরে সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে পাওয়া ১৭ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র পাঁচ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছেন। এছাড়াও ডাঃ সুভাষ সরকার ও অমিতাভ চক্রবর্তী 'সিণ্ডিকেট রাজ' কায়েম করেছেন।"
তবে সুভাষবাবুর ছবি নিয়ে দলের একাংশ কর্মীকে পাল্টা স্নোগান দিতেও দেখা যায়। তাঁরা সুভাষবাবুর নামে জয়োধ্বনি দেন। অর্থাৎ প্রার্থী তালিকাকে ঘিরে বাঁকুড়ায় ফের দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে।
তবে এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি সুভাষবাবু। তিনি বলেন, "আমাকে পুনরায় প্রার্থী করার জন্য দলীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ। আশাকরি, বাঁকুড়ার মানুষ আমাকে ফের সেবা করার সুযোগ দেবেন।"
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগে বাঁকুড়ায় দলের কার্যালয়েই প্রায় ২ ঘণ্টা তাঁকে তালাবন্দি করে রেখেছিলেন কর্মীরা। পরে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয়বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। এভাবে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে দলের কর্মীরা তালাবন্ধ করে রাখায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। ওই ঘটনার পরও একাধিকবার নিজের লোকসভা কেন্দ্রে কর্মী বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সুভাষ।