
সাবিত্রী ঠাকুর
শেষ আপডেট: 10 June 2024 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের বাণিজ্য রাজধানী ইন্দোর থেকে গাড়িতে ঘণ্টা দুয়েকের পথ ধার জেলা ও লোকসভা কেন্দ্র। ঝকঝকে অত্যাধুনিক শহর ইন্দোরের সঙ্গে ৭০-৮০ কিলোমিটার দূরের ধার জেলার কোনও মিল নেই। আদিবাসী বহুল ধারের সর্বত্র আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে দারিদ্র। এবার সেখান থেকে জিতেছেন বিজেপি নেত্রী বছর ছেচল্লিশের সাবিত্রী ঠাকুর। কংগ্রেসের রাধেশ্যাম মুভেলকে দু-লাখের বেশি ভোটের মার্জিনে হারিয়ে দ্বিতীয়বার লোকসভায় গিয়েছেন। রবিবার নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মন্ত্রিসভায় যে সাত মহিলা সাংসদের স্থান হয়েছে সাবিত্রী তাঁদের একজন।
মধ্যপ্রদেশের ওই এলাকার অদূরে বয়ে চলেছে নর্মদা এবং সেই নদীকে ঘিরে বিস্তীর্ণ সেচ প্রকল্প। কিন্তু আদিবাসী জনতার দুর্দশা ঘোচেনি। সেই বিপন্ন আদিবাসীদের স্বার্থে লড়াই করেন দুই দিদি। মেধা পাটেকর এবং সাবিত্রী। দু’জনকেই এলাকাবাসী ‘দিদি’ সম্মোধন করেন। তবে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা মেধার যাতায়াত আগের তুলনায় অনেক কমে গিয়েছে। ক্রমে সাবিত্রীই হয়ে উঠেছেন ধার জেলার দিদি।
জনজাতি সম্প্রদায়ের এই নারীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর খানিক মিল আছে। সাবিত্রীও গ্রামের স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। স্কুল পর্ব ছিল রীতিমতো লড়াই। দীর্ঘ পথ পেরতে হত স্কুলে যেতে। ক্লাস টেন পাশ করার পর পড়াশুনোয় ছেদ পড়লে এলাকার আদিবাসী মহিলাদের স্বার্থে কাজ শুরু করেন সাবিত্রী। গড়ে তোলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মহিলাদের নানা বিষয়ে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করতে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।
সেই সূত্রে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের নজরে পড়েন সাবিত্রী। ২০০৩ থেকে পদ্ম শিবিরের সদস্য। দল তাঁকে পঞ্চায়েতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার পাশাপাশি পার্টির গ্রাম বিষয়ক নানা কর্মসূচিতে শামিল করে। ক্রমে দলের জেলা নেতৃত্বে জায়গা করে নেন। ২০১৪-র লোকসভা ভোটে প্রথমবার প্রার্থী হয়ে জিতে যান। ২০১৯-এ তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। পাঁচ বছর পর ফের সাংসদ এবং ভারত সরকারের মন্ত্রী।
সাবিত্রীর উত্থানকে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করেছেন ধারের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক যোগেন্দ্র শর্মা। তাঁর কথায়, সাবিত্রী দেশের কৃষক আন্দোলনকারীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মহিলা মুখ। আদিবাসী মহিলা কৃষকদের স্বার্থে আন্দোলন তাঁকে জনপ্রিয় করেছে। এছাড়া মদ বিরোধী আন্দোলনেও তিনি এলাকায় সাড়া জাগিয়েছেন। যোগেন্দ্রর কথায়, ধার এবং আশপাশে আদিবাসী মহল্লায় একটা সময় কংগ্রেসের ভাল দখল ছিল। এখনও তা পুরোপুরি চলে যায়নি। সাবিত্রীকে মন্ত্রী করে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা শুরু করল বিজেপি।