
সাবিত্রী জিন্দাল
শেষ আপডেট: 28 March 2024 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকার মালকিন ভারতের ধনীতম মহিলা সাবিত্রী জিন্দাল কংগ্রেস ছাড়লেন। সূত্রে জানা গিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব তিনি হাত ছেড়ে পদ্ম-শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। লোকসভা ভোটের মুখে নেতাদের নৌকাবদলের ঘটনা প্রায় রোজই ঘটছে। তার মধ্যে নবতম সংযোজন হলেন হরিয়ানার মন্ত্রী তথা হিসারের ১০ বছরের কংগ্রেস বিধায়ক সাবিত্রী জিন্দালের দলত্যাগ। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সাবিত্রীর পুত্র তথা ২০০৪-১৪ সাল পর্যন্ত কুরুক্ষেত্র কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ নবীন জিন্দালও দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার তিনি বিজেপির টিকিটে কুরুক্ষেত্র থেকেই প্রার্থী হয়েছেন।
দেশের দুই ধনীশ্রেষ্ঠ মা-ছেলের দলত্যাগ নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের পক্ষে বিরাট ধাক্কা। বুধবার গভীর রাতে এক্সবার্তায় সাবিত্রী লেখেন, আমি গত ১০ বছর বিধায়করূপে হিসারের মানুষের সেবা করেছি। মন্ত্রীরূপে রাজ্যের মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ সেবা করেছি। হিসারের মানুষই আমার পরিবার। সেই পরিবারেরই পরামর্শে আজ আমি কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করছি।
৮৪ বর্ষীয়া সাবিত্রী জিন্দাল দেশের ধনীতম মহিলা। জিন্দাল গ্রুপের বিরাট ব্যবসার মালকিন। ব্লুমবার্গের তালিকা অনুযায়ী তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ২.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। বিশ্বের কোটি কোটিপতিদের তালিকায় সাবিত্রীর স্থান ৫৬-তম। প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় সাবিত্রীর স্বামী ওপি জিন্দালের আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে আসেন। সে বছরই হিসার থেকে দাঁড়িয়ে বিধায়ক হন। পরের বছরেও জিতে ২০১৩ সালে রাজ্যের মন্ত্রী হন। ২০১৪ সালে কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়িয়েও হেরে যান সাবিত্রী।
নবীন জিন্দাল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনায় জয়রাম রমেশ বলেছিলেন, তাঁর এখন বিশাল একটা ওয়াশিং মেশিনের প্রয়োজন। কারও যদি ওয়াশিং মেশিনের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে এরকম ঘটনাই ঘটে। ১০ বছরে দলের জন্য কিচ্ছু না করে এখন ইস্তফা দিচ্ছেন। এর থেকে বড় মজার আর কী হতে পারে!
কংগ্রেস নেতা রমেশের এই মন্তব্যের কারণ হল, জিন্দাল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চলছে। ঝাড়খণ্ডের কয়লা খনির বরাতে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। নবীন জিন্দাল হলেন ওই কোম্পানির চেয়ারপার্সন। রমেশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান কংগ্রেস-মুক্ত ভারত। তাই ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করে কংগ্রেসিদের দলে টেনে নেওয়ার কাজ চলছে।