
প্রচারে গিয়ে বিদায়ী তারকা সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর প্রসঙ্গ টানলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 26 May 2024 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চব্বিশের লোকসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিট পাননি মিমি চক্রবর্তী। গত লোকসভায় যাদবপুরে রেকর্ড মার্জিনে জিতেছিলেন মিমি। সম্প্রতি নিজেই রাজনীতি থেকে বাণপ্রস্থে যাওয়ার ঘোষণা করেছিলেন অভিনেত্রী। এমনকী এও জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তিনি হতে চান না। মিমির পরিবর্তে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন সায়নী ঘোষ। এবার যাদবপুরে ভোটের প্রচারে গিয়ে নাম না করে দলের বিদায়ী তারকা সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর প্রসঙ্গ টানলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার সোনারপুরে নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে প্রার্থী পরিচয় করাচ্ছিলেন মমতা। তখনই সায়নীকে কাছে ডেকে তাঁকে কেন যাদবপুর আসনে টিকিট দিয়েছেন, সেই নিয়ে দু-চার কথা বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সায়নীর হাত উঁচু করে দলনেত্রী বলেন, ‘আমার প্রার্থী সায়নী। আগের বার আপনারা অতটা সার্ভিস পাননি। সায়নী এলাকায় পড়ে থেকে লড়াই করবে এবং দাঁতে দাঁত দিয়ে উন্নয়নের কাজ করে যাবে। ’
যাদবপুর এলাকায় কানাঘুষো শোনা যায়, উনিশের ভোটে জেতার পর মিমিকে এলাকায় না পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের মনে ক্ষোভ জন্মেছিল। এরপর ব্রিগেডের ‘জনগর্জনের’ সমাবেশ থেকে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের বাছাই ৪২-এর তালিকায় জায়গা পাননি মিমি। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূলের সায়নী ঘোষকে।
মিমির মতো সায়নীও তৃণমূলের অন্যতম তারকা মুখ। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর ধরে দলীয় কাজকর্মে সক্রিয়ভাবে রয়েছেন সায়নী। যুব তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীও তিনিও। মমতার কথায়, সায়নীর রাজনৈতিক দক্ষতা বুঝেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে।
এদিন সোনারপুরের সভা থেকে মমতা যাদবপুরের বিদায়ী সাংসদের বিষয়ে স্বীকার করে নেন যে মিমি সাংসদ থাকাকালীন যাদবপুরবাসী সেভাবে পরিষেবা পায়নি। যদিও এর জন্য টলিউড নায়িকা মিমিকে দায়ী করেননি তিনি। বরং তৃণমূলের 'দোষ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সায়নীকে পাশে নিয়ে মমতা বলেন , ‘আগেরবার তাঁর (মিমির) অবশ্য কোনও দোষ ছিল না। তিনি নিজের ফিল্ম জগতে ব্যস্ত। এটা আমাদেরই দোষ ছিল। সে জন্য আমরা শুধরে নিয়েছি।"
যাদবপুর লোকসভা আসনে প্রার্থী হয়েছেন সায়নী ঘোষ। ১৯৮৪ সালে ৪০ বছর আগে যুবনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুরে জিতেছিলেন। এবার সেখানে প্রার্থী সায়নী। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিও চালিয়ে যাচ্ছেন সমান তালে। সাম্প্রতিককালে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রথম সারিতেই দেখা গিয়েছে তাঁকে। এবার মিমির চক্রবর্তীর পর আরও এক তারকা প্রার্থীকে নিয়ে যাদবপুরের ভোটবাক্স গোছাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।