
শেষ আপডেট: 28 March 2024 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হোমওয়ার্ক করে আসেননি। তাই রাজা রামমোহন রায়ের সঙ্গে কৃষ্ণচন্দ্র রায়কে গুলিয়ে ফেলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে হইচই ফেললেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র।
শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে তিনি মন্তব্য করেন, "পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রাজা বলতে বোঝেন রাজা রামমোহন রায়কে। আর তাঁদের কাছে একমাত্র রানি হলেন রানি রাসমণি। আমাদের গণতন্ত্রে আর কোনও রাজা-রানি নেই।" প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখা হলেও আসলে যে লোকসভার ভোটে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায়ই তাঁর নিশানা এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি এবার প্রার্থী করেছে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরিবারের সদস্য অমৃতা রায়কে। রাজবধূর মনোবল বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং ফোন করেছেন তাঁকে। কোন অস্ত্রে ঘায়েল করবেন বিরোধী প্রার্থীকে, পাঠ দিয়েছেন তারও। তারপরেই এদিন এক্স হ্যান্ডেলে মহুয়া মৈত্র লেখেন, বিজেপির কৃষ্ণনগরের প্রার্থীর মনোবল বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সমাজ সংস্কারক ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। এটা তাঁদের পড়ানো হয়েছে। উনি রাজা রামমোহন রায় ও রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া বলেন, "আমি জানি আমরা স্বাধীন ভারতে গণতন্ত্রে বাস করি। বাংলার মানুষ একজন রাজাকেই চেনেন, তিনি রাজা রামমোহন রায় এবং একজন রানিকেই চেনেন, তিনি রানি রাসমণি। তাছাড়া কে রাজা, কে রানি স্বাধীন ভারতবর্ষের গণতন্ত্রে আমি ঠিক জানি না। আমি যতদূর জানি কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন অমৃতা রায়। আমি তাঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। তাঁকে বলছি ভোটের ময়দানে নামুন। এই এলাকায় ৮২ টি অঞ্চল আছে, প্রত্যেক এলাকায় যান। ১৮৪১ টা বুথ আছে, সব জায়গায় যান। মানুষের সঙ্গে মিশুন। আমি শুনেছি ভিড়ে আপনার কষ্ট হয়। সেই ভয়টাকে অতিক্রম করুন। তাহলেই খেলা জমে যাবে।"
মহুয়ার এই কটাক্ষের জবাবে অমৃতা রায় বলেন, "ওঁকে আমি আমাদের রাজ রাজেশ্বরীর দুর্গোৎসবে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। উনি এলে দেখতে পাবেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আসেন আমার সঙ্গে সিঁদূর খেলতে। আমি প্রতিবছর সেই মুহূর্তটার অপেক্ষা করি।"