.webp)
Lok Sabha Election 2024
শেষ আপডেট: 15 March 2024 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন বললেন, "অল দ্য বেস্ট! শুভেচ্ছা রইল।" অপরজন প্রতিদ্বন্দীর উদ্দেশে বললেন, "আমার মতোই তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদ। ভাল থাকুন।"
প্রথমজনের নাম সৃজন ভট্টাচার্য। যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী। দ্বিতীয়জন তৃণমূলের তারকাপ্রার্থী সায়নী ঘোষ। ভোট প্রচারে বেরিয়ে এভাবেই পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানালেন সায়নী-সৃজন। লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা ডঃ অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়ও।
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অনির্বাণ বলেন, "আদ্যন্ত রাজনীতির লড়াই। ব্যক্তি আক্রমণের প্রশ্নই ওঠে না। ওরা দু'জনেই তরুণ। অবশ্যই শুভেচ্ছা। তবে সনাতনী হিন্দু হিসেবে সায়নীর শিবলিঙ্গের বিতর্কটা মনে আজও খোঁচা দেয়।"
খানিক থেমে অনির্বাণের সংযোজন, "প্রচারে রামমন্দিরের প্রসঙ্গ তো তুলে ধরবই, সঙ্গে থাকবে ২০১৫ সালে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের টুইটার হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা গ্রাফিক্সের প্রসঙ্গ।"
সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সায়নীর ওই গ্রাফিক্সে দেখা গিয়েছিল-একটি শিবলিঙ্গের ছবিতে কন্ডোম পরাচ্ছেন এইডস সচেতনতা বিজ্ঞাপনের মুখ ‘বুলাদি’। তাতে লেখা, ‘বুলাদির শিবরাত্রি’।
সায়নীর ওই গ্রাফিক্স নিয়ে ৬ বছর পরে, ২০২১ সালে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল ও বিজেপির প্রবীন নেতা তথাগত রায়। তিনি শিবের ভক্ত, তাঁর ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।
প্রচারে কেন সায়নীর শিবলিঙ্গের প্রসঙ্গ টানবেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অনির্বাণ। তাঁর কথায়, "ব্যক্তি কুৎসার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। এটাই শাসকদলের কালচার। তাই প্রচারে সায়নীর ওই প্রসঙ্গটাও তুলব।"
সৃজনের টার্গেটেও শাসকদল তৃণমূল। বলছেন, "মানুষ জানে দিদি-মোদীর সেটিং আছে। তাই এখানে লড়াইটা আমাদের সঙ্গেই হবে। যাদবপুরের মানুষ তৃণমূল সম্পর্কে বিরক্ত। গত কয়েক বছরে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের দুর্নীতি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। ফলে যাদবপুরের মানুষ এবারে দুর্নীতির বিরুদ্ধেই ভোট দেবেন।" ভূমিপুত্র হিসেবে তিনি বাড়তি কিছুটা সুবিধা পাবেন বলেও আশাবাদী সৃজন।
একুশের বিধানসভা ভোটে আসানসোল দক্ষিণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়নী। লোকসভায় যাদবপুরে প্রার্থী হয়ে সায়নী মনে করাচ্ছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার দশক আগের প্রসঙ্গ। সেটা ১৯৮৪ সাল। রাজ্যের প্রবল বাম দাপটের মাঝে দোর্দন্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য সংসদে যাওয়ার ছড়পত্র পেয়েছিলেন মমতা। প্রচারে নেমে পাশের বাড়ির মেয়ের মতো ভোটারদের রান্নাঘর পর্যন্ত ঢুকে গিয়েছিলেন ছাত্র পরিষদের সেদিনের তরুণ নেত্রী মমতা।
সায়নীর বক্তব্য,"যাদবপুর কঠিন কেন হবে! প্রেস্টিজিয়াস কেন্দ্র! এই কেন্দ্র থেকেই তো ইতিহাস তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদির দেওয়া যাদবপুর আমার কাছে অবশ্যই আর্শীবাদ।"