
মোদীর রাজনীতির যে দুটি জিনিস দেবের সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে । ছবিঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (বাঁয়ে) ও তৃণমূল প্রার্থী দেব তথা দীপক অধিকারী (ডানে)
শেষ আপডেট: 21 May 2024 22:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে ঘাটালে এবারও তৃণমূল প্রার্থী দেব তথা দীপক অধিকারী। দ্য ওয়ালকে দেব সম্প্রতি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাতে তাঁকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদী নন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনীতির কোন দুটি বিষয় দেবের সবচেয়ে খারাপ লাগে। অর্থাৎ দেব যে কারণে মোদীর রাজনীতির বিরোধিতা করেন, সেটা কী?
জবাবে দেব বলেন, “দেশের দুর্ভাগ্য...। ভোট আসার আগে হিন্দুরা বেশি হিন্দু হয়ে যায়। মুসলমানরা বেশি মুসলমান হয়ে যায়।”
পুরো ভিডিও দেখতে উপরের লিঙ্কে ক্লিক করুন।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বাংলায় প্রচারে এসে বলেছেন, এ রাজ্যে হিন্দুরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে গেছে। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, হিন্দুদের ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সব সংরক্ষণ মুসলমানদের দিয়ে দিতে চাইছেন। দেবের কি মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকেও একজন নেতা যে এ সব কথা বলছেন তা দুর্ভাগ্যের?
প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দিতেই দেব হেসে ফেলেন। তারপর বলেন, “এটা তো সুস্থ পরিবেশ নয়। এটা দেশের মধ্যে সবাই বুঝতেও পারছেন।”
দেবের কথায়, বিদেশে যখন আমরা কোনও নির্বাচন দেখি, তাদের প্রেসিডেন্ট বা প্রাইম মিনিস্টারের নির্বাচন দেখি, তখনও বিতর্ক হয়। কী বিতর্ক হয়, নিউক্লিয়ার এনার্জিকে আমরা কীভাবে কনভার্ট করব, কী ভাবে আমরা মঙ্গলগ্রহে যাব, কীভাবে আমরা বৃহস্পতি পর্যন্ত পৌঁছব। কীভাবে আর একবার চাঁদে সেফ ল্যান্ডিং করা যায়..এখন তো বিল্ডিং তৈরি করবে ভাবছে।”
দেব বলেন, “বড় বড় দেশে এই নিয়েই বিতর্ক হয়, আমি প্রাইম মিনিস্টার হলে এই করব, আমি প্রাইম মিনিস্টার হলে ওটা করব। আর আমাদের দেশের নির্বাচনে আমরা রাম মন্দির নিয়ে আলোচনা করছি। আমরা হিন্দু, মুসলিমদের কটা বাচ্চা, কে নবরাত্রিতে মাছ খাচ্ছে.. এ নিয়ে কথা বলছি। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্য।”
‘বেশি সংখ্যায় বাচ্চা হওয়া’ বা নবরাত্রিতে মাছ মাংস খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীই। দেবের স্পষ্টতই মত হল,‘এটা দুর্ভাগ্যের’। ইদানীং প্রধানমন্ত্রী এও গর্ব করে বলছেন যে, দেশের ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছে তাঁর সরকার। কিন্তু দেবের কথায়, “আমরা আশি কোটি গরিবকে খাবার দিই, এটা গর্ব নয়। এটা গর্ব হওয়া উচিত নয়। আমরা ওদের কেনার ক্ষমতা দিচ্ছি না, যাতে তারা নিজের টাকায় কিনবে। ফ্রি রেশন মানে আমি যা দিচ্ছি সেটাই খেতে হবে। আমি দেখতে চাই ৮০ কোটি মানুষ যে চালটা খেতে চায় সেটা কিনবে। সেই রোজগারের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে”।
দেবের মতে, দেশের ৬ শতাংশ মানুষই কেবল কর দিচ্ছে। তাদের রোজগার না বাড়লেও কর দিতে হচ্ছে। কিন্তু আরও বেশি সংখ্যক মানুষের রোজগার বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে করদাতাদের সংখ্যা বাড়ানোর কোনও ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, “শুধু ভাবনা হল, কীভাবে অন্যদল থেকে এ দলে নিয়ে আসব। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক, যে যত বেশি দুর্নীতি করেছে, সে তত বড় পোস্ট পেয়ে যাচ্ছে।” এ কথাতেও তিনি যে কেন্দ্রে শাসক দলকে খোঁচা দিতে চেয়েছেন তা নিয়ে সন্দেহ নেই।