
আবাস যোজনা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
শেষ আপডেট: 10 June 2024 21:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তার পর সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ডেকে, আবাস যোজনা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের আওতায় গ্রাম ও শহরে ৩ কোটি বাড়ি নির্মাণের জন্য অনুদান দেবে কেন্দ্র।
এখানে বলে রাখা প্রয়োজন আবাস যোজনা খাতে পুরো টাকাটা কেন্দ্র দেয় না। নামে এই প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, কিন্তু এই খাতে কেন্দ্র দেয় ৬০ শতাংশ টাকা, রাজ্যকে দিতে হয় ৪০ শতাংশ টাকা।
আরও একটি কথা এখানে প্রাসঙ্গিক। তা হল, ২০১৯ সালে কেন্দ্রে ফের ক্ষমতায় এসে নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন, ২০২২ সালের মধ্যে দেশে সব মানুষের মাথায় ছাদ হবে। মোদী সরকার যদিও দাবি করে যে তারা গত দশ বছরে দেশে ৪ কোটি বাড়ি বানানোর টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এও বাস্তব, সবার মাথায় পাকা ছাদ এখনও হয়নি। কারণ, পরিবার ভেঙে নতুন পরিবার হয়েছে। জনসংখ্যাও বেড়েছে।
কেন্দ্রে নতুন এনডিএ মন্ত্রিসভার এদিনের সিদ্ধান্তের পর বড় প্রশ্ন হল, বাংলা কী পাবে?
বাংলায় ১১ লক্ষ ৩২ হাজার বাড়ি নির্মাণের জন্য ২০২২ সালে কেন্দ্র ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। তার পর উপভোক্তা তথা প্রাপকদের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে বরাদ্দ বন্ধ রাখে। ওই প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ বাড়ি বানানোর জন্য রাজ্যকেও দিতে হত প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। দু’বছর হতে চলল কেন্দ্র ৮২০০ কোটি টাকা না দেওয়ায় রাজ্যও কিছু করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক এও জানিয়েছেন, কেন্দ্র এখনই টাকা না দিলে রাজ্য সরকার নিজে থেকে সাড়ে ১১ লক্ষ বাড়ি বানানোর টাকা দেবে। সন্দেহ নেই তা কোষাগারের উপর চাপ বাড়াবে। কিন্তু এই ঘোষণা রাজনৈতিক ভাবে কেন্দ্র তথা বিজেপির উপর চাপও বটে।
এই সাড়ে ১১ লক্ষ পরিবার ছাড়াও বাংলায় কাঁচা বাড়িতে থাকে আরও প্রায় ২৫ লক্ষ পরিবার। অর্থাৎ বাংলায় সবার মাথায় পাকা ছাদের ব্যবস্থা করতে গেলে অন্তত ৩৬ থেকে ৩৭ লক্ষ বাড়ি বানানোর টাকা দিতে হবে। এনডিএ সরকারের প্রথম দিনের এই ঘোষণার পর সত্যি সত্যি বাংলা কতটা উপকৃত হবে সেটাই এখন দেখার।