
শেষ আপডেট: 29 September 2021 14:44
ঘরবন্দি জীবনে মানসিক চাপ আর অবসাদ ভাইরাসের আতঙ্কের থেকেও বেশি। স্কুল-কলেজ, অফিস বন্ধ। বাড়িতে বসেই ‘ওয়ার্ক ফর্ম হোম’-এ কাজের চাপ এবং চিন্তা দুইই বেড়েছে। খোলামেলা, মুক্ত পরিবেশের বদলে চার দেওয়ালের মধ্যে দিবারাত্র কাজের মধ্যে ঢুকে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়েছে। বহু মানুষ অনিদ্রা, অবসাদ, অধিক উত্তেজনা, উদ্বেগের শিকার হয়েছেন। একাকীত্ব গ্রাস করেছে অনেককে। বিরক্তিভাব বেড়েছে।
গবেষকরা বলছেন, বাচ্চারা যেখানে ছোটাছুটি, খেলাধূলা করতেই অভ্যস্ত সেখানে দীর্ঘ সময় অন্দরবাসে থাকাটা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। মনের বিকাশ হচ্ছে না অনেকেরই। এমনকি কথা বলার সমস্যাও দেখা দিচ্ছে শিশুদের মধ্যে। মেলামেশা বন্ধ থাকায় খিটখিটে মেজাজ দেখা যাচ্ছে বাচ্চাদেরও। সেই সঙ্গে তাদের খাদ্যাভ্যাসেও বদল আসছে। যখন তখন খাওয়া, অপুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ঝোঁকে ওজন বাড়ছে বাচ্চাদের। ওবেসিটির শিকার হচ্ছে অনেকেই।
বাচ্চারা মানসিক ভাবেও উৎকণ্ঠায় ভুগছে। চারপাশের আতঙ্ক, সবসময় ঘরে আটকে থাকা, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ ইত্যাদি তাদের মনে গভীর ছাপ ফেলছে। তাই অভিভাবকদের এই সময় আরও বেশি করে বাচ্চাদের সঙ্গ দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের বোঝানো, মন ভাল রাখতে নানা সৃজনশীল কাজে তাদের উৎসাহ বাড়ানো খুবই দরকার। তা না হলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে যার ফলে নানা জটিল মানসিক রোগও দেখা দিতে পারে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু ও বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটারের নেশা বাড়ছে। সারাক্ষণ ইন্টারনেটেই মজে আছে তরুণ সমাজ। যার ফলে বর্তমান সময় সাইবার ক্রাইণের ঘটনাও অনেক বেড়েছে। মানসিক অবসাদের শিকার হচ্ছে কমবয়সীরা। ইন্টারনেটে ডিপ্রেশন কমানোর উপায় খুঁজতেও দেখা গেছে কমবয়সীদেরই।বাচ্চাকে মনমরা হয়ে বা একা থাকতে দেখলে তাদের সঙ্গে দেওয়ার কথা বলছেন ডাক্তাররা। সমস্যা সামান্য হলেও গোড়া থেকেই নজর রাখতে হবে অভিভাবকদের।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'